বিপিএলে কেমন হচ্ছে টীম-মাশরাফি ? (টিম রিভিউঃ কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স)

অনেকগুলো কারণেই বিপিএলে নিজেদের প্রথম আসরেই আমার কুমিল্লাকে সবচেয়ে হাইপ সৃষ্টি করা দল বলে মনে হয় । সবচেয়ে বড় কারণটা অবশ্যই দলের আইকন হিসেবে বাংলাদেশের ইতিহাসেরই সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মুর্তজাকে পাওয়া । মাশরাফি বিন মুর্তজাকে আগের সবকিছু বাদ দিয়ে শুধুমাত্র গেল এক বছরের হিসাবে মিস্টার বাংলাদেশ উপাধি দিয়ে দেওয়া যায় । এর বাইরে আগের দুই সিজনের ট্রফি জেতা ক্যাপ্টেনের নামও কিন্তু মাশরাফি বিন মুর্তজা। এমন একজন যখন একটা দলের ফেইস হয়ে দলকে রিপ্রেজেন্ট করেন , তখন হাইপের আর বাকি কী থাকে ?

Mashrafe-Bin-Mortaza-of-Bangladesh-chases-the-ball7

বাকি নাম বলার মতো লোকাল প্লেয়ারদের মধ্যে আছেন লিটন দাস, ইমরুল কায়েস আর কামরুল রাব্বী । জিম্বাবুয়ে সিরিজটা জুড়ে অপেক্ষায় ছিলাম কামরুল রাব্বীর ডেব্যুর জন্যে । কারণটা সবারই জানা । বাংলাদেশে এখন একজন করে নতুন পেসার আসে অনেক সারপ্রাইজ নিয়ে , অনেক সম্ভাবনা নিয়ে । সে হিসেবে, পেসারের ডেব্যু নিয়ে উত্তেজনাটা বেশি হওয়াতে দোষ কী ? লিটন দাস এসেছেন অনেক সম্ভাবনা নিয়ে । ২১ বছর বয়সী এই উইকেট কিপার ব্যাটসম্যানের ফার্স্ট ক্লাস এভারেজ ৫০ এর কাছাকাছি আর লিস্ট এ এভারেজও চল্লিশ ছুঁইছুঁই । সম্ভাবনার কুঁড়িগুলো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের শুরুর ধাপটায় এখনো ফুল হয়ে ফুটতে পারে নি । তাই বিপিএলটাতে অনেক কিছু প্রমাণের আছে লিটনেরও ।

wpid-m-i-m19

আর সবাইকে অবাক করে সৌম্যের চোটে লাইনআপে ঢোকা ইমরুল কায়েস জিম্বাবুয়ের সাথে ২ ম্যাচে ৮টা বড় ছক্কা হাঁকিয়ে জানান দিয়ে দিয়েছেন … “বিপিএলের জন্যে আমিও প্রস্তুত …” আর শেষমেষ কুমিল্লা চমক দিয়েছেন আগের জেনারেশনের সবচেয়ে দারুন হিটার অলক কাপালিকে দলে ভিড়িয়েও ।

কুমিল্লার স্টকে ক্যারিবীয়ান প্লেয়ার চারজন। চারজনই ম্যাচ উইনার । মার্লন স্যামুয়েলস, কিশমার স্যান্টোকী, সুনীল নারিন আর আন্দ্রে রাসেলের মধ্যে মানুষ স্যান্টোকীকে সবচাইতে কম চেনে । একে নিয়েই আগে কথা বলি । ৭৭টা টি২০ ম্যাচে ১৩৪টি উইকেট , এর মধ্যে প্রতি উইকেটের জন্যে রানের খরচা মাত্র চৌদ্দের মত । ধুমধাড়াক্কা টিটোয়েন্টিতে তার ইকোনোমি রেইট মাত্র ৬.৭৬ । আর রহস্য স্পিনার সুনীল নারিন খেলে ফেলেছেন ১৬০ এরও উপরে টিটোয়েন্টি । যার মধ্যে ১০ বার কেবল ইনিংসেই চারটি করে উইকেট নিয়েছেন । আর একবার ৫ উইকেট ।
বোলার আন্দ্রে রাসেলের কোয়ালিটি নিয়ে আপনার প্রশ্ন থাকতে পারে । কিন্তু পিঞ্চ হিটার আন্দ্রে রাসেল ২০-২৫ বল খেলেই ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারেন । দেড়শ এর উপরে ম্যাচ খেলে ১৬৮ স্ট্রাইকরেট ধরে রাখা সোজা ব্যাপার না । আর বাকি রইল মার্লন স্যামুয়েলস ।

andre-russell-west-indies

ওর কথা ভেঙে বলতে আমি কোন পরিসংখ্যানের ধার দিয়ে না যেয়ে একটা বড় ম্যাচের গল্প বলি আপনাদের ।
২০১২ সালের টি২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজের যখন ৮৯/৫ , তখনও কেউ ভাবে নি ম্যাচে আসলে কী অপেক্ষা করছে । মারকাটারি ক্রিকেটের যুগে সারা দুনিয়ার সবচাইতে মোস্ট ওয়ান্টেড বোলারদের মধ্যেই একজন মালিঙ্গা । সেই মালিঙ্গার শেষ ওভারগুলোতে কী মারটাই না মারলেন স্যামুয়েলস ! সেদিন স্যামুয়েলসের বিপক্ষে করা ১১ বলে ৩৯ রান দিতে হয় এই পেসারকে । ওয়েস্ট ইন্ডিজ পেয়ে যায় স্লো উইকেটে ১৩৭ রানের দারুন পুঁজি । একটা কথা স্বীকার করতে দ্বিধা নেই । নিজের দিনে মার্লন স্যামুয়েলস স্রেফ নির্দয় …

ফরেন প্লেয়ারদের মধ্যে বাকি থাকলো মালিক-শেহজাদ-থিরিমান্নে-কুলাসেকারা-ড্যারেন স্টিভেনস । আহমেদ শেহজাদকে বাংলাদেশের মাঠগুলো সবসময়ই দুহাত ভরে দিয়েছে । সেটা এশিয়া কাপই হোক আর বিপিএলের আগের আসরগুলোই হোক । ড্যারেন স্টিভেনস ঢাকার হয়ে আগের বিপিএলে খেলে ফেলেছেন অনেকগুলো ম্যাচ ।

143060

হার-না-মানা মানসিকাতার মাশরাফি ! যার সাথে আইকন শব্দটা লেপটে যায় সবার চাইতে দারুনভাবে । সাথে একঝাঁক ভালো লোকাল প্লেয়ার আর স্যামুয়েলস-নারিন-শেহজাদে হাইপ্রোফাইল ফরেন পুল । তবে এবার একটা ধারা তো ভাঙতেই হবে ! আগের দুই আসরেরই চ্যাম্পিয়ন ঢাকা এবং আগের দুই আসরেরই চ্যাম্পিয়ন ক্যাপ্টেন মাশরাফি বিন মুর্তজা । এবার হয় মাশরাফি চ্যাম্পিয়ন ক্যাপ্টেন হবে … না হয় ঢাকা চ্যাম্পিয়ন হবে । কুমিল্লার ভক্তেরা চাইবে সত্যি হয়ে থাকুক মাশরাফির ট্রফি উঁচিয়ে ধরার ধারাটিই ।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

20 − ten =