প্রিভিউ-ট্রেইলার-প্লট সব জমজমাট… কিন্তু আসল মঞ্চে তেমন জমলো কোথায় ?

ভালো গল্পের প্লট … আর ভালো গল্প … দুইয়ে মিলে বানায় একটা খাসা ডেলিশিয়াস উপাখ্যান । ২০১৫ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপের ১ম রাউন্ডের শেষ দিনের গল্পের প্লটটা ছিলো খাসা ! অনেক হিসাব-নিকাশ … অনেক যদি আর কিন্তুর মরপ্যাঁচ ! এ জিতলে ও যাবে কিংবা এ হারলে ওর লাভ … এমন অনেকগুলো ইকুয়েশন । একদম পারফেক্ট শেষ দিন ।
বাংলাদেশ সময় ভোর চারটেয় শুরু হওয়া ম্যাচে নিজেদের কাজটা ভালোভাবেই করে রাখলো ক্যারিবীয়রা । আমিরাতকে ব্যাটিং করতে পাঠালো… তারপরে ১৭৫ রানে বেঁধে দিলো । এক সময়ে ঘোষণা এলো , এই চেজটা ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৩৬.২ ওভারের মধ্যে করতে পারলে পরের ম্যাচে পাকিস্তান পরাজিত হলে আর রানরেটে পাকিস্তান ওয়েস্ট ইন্ডিজকে টপকাতে পারবে না । কি ? একটু কঠিন হয়ে গেলো ? ভেঙে বলি …

ম্যাচের আগের একটা ইকুয়েশন এমনও ছিলো , পাকিস্তান আয়ারল্যান্ডের সাথে ম্যাচটা হারলেও আর ওয়েস্ট ইন্ডিজ জিতলেও পাকিস্তানের সুযোগ ছিলো রানরেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে টপকে আয়ারল্যান্ডকে সাথে নিয়ে কোয়ার্টারে যাবার । সত্যিকারার্থে ম্যাচের মাঝে জানা গেলো, পাকদের জন্যে সে সুযোগটিও বন্ধ হয়ে যাবে ক্যারিবীয়রা ৩৬.২ ওভারে চেইজ করে দিলে ।

হয়েও গেলো তাই ! ওয়েস্ট ইন্ডিজ নিজেদের দিক থেকে করে রাখলো সবটুকু কাজ । দুই অচেনা জনসন চার্লস আর জোনাথান কার্টারের দুটো ফিফটিতে টাচলাইনটা বেশ সকাল সকালই ছুঁয়ে দিলো ক্যারিবীয়রা … ৩০.৩ ওভারেই ।

ইয়াহু
নিজেদের কাজ ভালোভাবেই করলো ক্যারিবীয়রা

ওয়েস্ট ইন্ডিজ-আমিরাত ম্যাচশেষে হিসাব ,
পাকিস্তান-আয়ারল্যান্ড ম্যাচে জয়ী দল কোয়ার্টারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাথে , বাদ পরাজিত দল !
পাকিস্তান-আয়ারল্যান্ড ম্যাচে কোন কারণে পয়েন্ট ভাগাভাগি হলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বাদ , কোয়ার্টারে পাকিস্তান-আয়ারল্যান্ড দুই দলই ।

এই ম্যাচের আগে টানা তিন জয় পাওয়া পাকিস্তানিরা ছিলো তাদের মতোই । দেদারসে ফেলেছে ক্যাচ … তবে খুব দরকারের সময় ঠিকঠাকমতো উইকেটগুলো নিয়ে নিয়েছে । কোন ম্যাচ ঘোরানো জুটি পেতে দেয় নি আইরিশদের । তবুও একপাশে পোর্টারফিল্ড যতক্ষণ তার মতো করে মারছিলেন , ম্যাচে জেগে ছিলো আইরিশরা । দলের ১৮২ রানে সোহেল খানের বলে আফ্রিদির ক্যাচ হয়ে পোর্টারফিল্ড ফিরে যাবার সময়ও বোঝা যায় নি সামনের ছবিটা । ১০-১২-১৫-২০ রানের স্টার্ট অনেকেই পেলেন পরে … কিন্তু কাজের কাজ হলো না । আর তাতে এমন নক আউট ম্যাচে পাকিস্তান পেয়ে গেলো মাত্র ২৩৮ রানের টাচলাইন ।

ইয়াহু
সরফরাজের শতক মেরে দিলো উত্তেজনা

এমন ম্যাচের কিছুই বাকি থাকে না ১২০ রানের ওপেনিং পেয়ার এলে আর একজন ওপেনার হার না মানা হান্ড্রেড মেরে দিলে । সরফরাজ করলেন মহাগুরুত্বপূর্ণ সেঞ্চুরি আর অন্যপাশে শেহজাদের পরে কখনো মিসবাহ, আবার কখনো আকমলকে নিয়ে আরেকটা স্যাবাইনা পার্কের আশা নিভিয়ে দিলেন । অনেকদূরে আসা আইরিশদের স্বপ্নযাত্রাটাও শেষ হলো সাদামাটাভাবেই ! আর বি গ্রুপ যেনো কখনো মেঘ , আবার কখনো বৃষ্টি দেখিয়ে দিনের শেষে র‍্যাঙ্কিংকেই কথা বলানোর ডিউটি নিলো ।

ভারত আর দক্ষিণ আফ্রিকার পরে কোয়ালিফাই করে নিলো র‍্যাঙ্কিং এ এগিয়ে থাকা বাকি দুটো দলও … “ওয়েস্ট ইন্ডিজ আর পাকিস্তান “…

প্রিভিউ-ট্রেইলার-প্লট সব জমজমাট… কিন্তু আসল মঞ্চে তেমন জমলো কোথায় ?

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

three × 5 =