বিদায় ক্রো

 

১৯৯২ বিশ্বকাপ আমাদের পরিচয় করিয়েছে অনেক নতুনের সাথে। ক্যারি প্যাকার সিরিজের প্রভাবে রঙিন পোশাক, সাদা বল আর রাতের আলোয় ক্রিকেটের মহারণ, দর্শকেরাও নিয়েছিল আপন করে। প্রথম ১৫ ওভারে ত্রিশ গজি বৃত্তের বাইরে মাত্র দুজন ফিল্ডার রাখার বিধান রাখা হয়েছিলো মারকাটারি ক্রিকেটের স্বাদ দেবার জন্য। একজন জিনিশটা দেখেছিলেন একটু অন্যভাবে। মার্ক গ্রেটব্যাচকে দিলেন প্রথম ১৫ ওভারে দমাদম মাস্তকালান্দারের ফ্রি লাইসেন্স, যাতে দলের শুরুটা হয় বিস্ফোরক। একই সাথে নিজের দলের পিঠও তো বাঁচাতে হবে, নাকি? এজন্য তিনি দীপক পাতিলকে দিলেন বোলিং শুরু করার জন্য। মনে রাখবেন, সেটা ছিল ১৯৯২, ২০১৬ তে শুরুতেই ঘূর্ণির মায়ায় বেঁধে ফেলাটা অতি সাধারন ব্যাপার হলেও তখন সেটা ছিল মানুষের কল্পনার বাইরে। মার্টিন ক্রো ঠিক এই কাজটাই করেছিলেন। ক্রিকেটে উদ্ভাবনী শক্তির জোরে তিনি করেছিলেন নতুন যুগের সূচনা। বিশ্বকাপ তিনি জিততে পারেননি, সেমিতে পাকিস্তানের, আরও সহজ করে বললে মুলতানের তরুণ ইঞ্জামামের ঝড়ে তার স্বপ্ন উড়ে যায়। কিন্তু ক্রিকেটে তিনি তার এই সব উদ্ভাবনী চিন্তার জন্যই চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। মরণব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত ক্রোকে আইসিসি গত বছর হল অফ ফেমে স্থান দিয়ে তাকে সম্মান জানিয়েছে। মরণব্যাধি ক্যান্সারের কাছেই হেরে গেলেন ক্রো, বিদায় নিলেন পৃথিবী থেকে।

ভালো থাকবেন ক্যাপ্টেন! উদ্ভাবনী অধিনায়কত্বের জনক! আপনার উদ্ভাবিত ক্রিকেট ম্যাক্স ই এখন টি টুয়েন্টি নামে সারা বিশ্বে রাজত্ব করছে!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

five × five =