জয়ের ম্যাচ ভয়ের ম্যাচ

১৮ ফেব্রুয়ারি আফগানিস্তানের সাথে ম্যাচের আগে বাংলাদেশ দলের কাগজে কলমে সামর্থ্য নিয়ে যতোটা না কথা হয়েছে , তার চাইতে অনেক বেশি কথা হয়েছে টানা চারটা ওয়ার্ম আপ ম্যাচ হেরে যাবার কারণে । তারপরে শ্রীলঙ্কার সাথে নামার আগে আফগানিস্তানের সাথে পারফরম্যান্স নিয়ে কথা হয়েছে । তবে যতোটা হবার কথা ছিলো, ঠিক ততোটা না ! আলোচনার টেবিলজুড়ে বসে পড়ল কে ? আলামিন হোসেনের সাসপেনশন ইস্যু !
ভালো একটা গ্যাপ পেয়ে বাংলাদেশ খেলতে নামছে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে । তবে মাঠের বাইরের ইস্যু যেনো বাংলাদেশ ক্রিকেটকে ছাড়েই না ।কান্ড বাঁধিয়ে বসলেন দলের ম্যানেজার আর আত্মস্বীকৃত মিস্টার বাংলাদেশ খালেদ মাহমুদ সুজন । আফগানিস্তানের সাথে ম্যাচের সময় তাকে কেন নিদ্রারত অবস্থায় টেন্টে দেখা গিয়েছিল তার জবাবটা পেয়ে গেলো মানুষ । রাতে ক্যাসিনো , দিনে ঘুম ! ঘুমটা ক্যামেরার সামনে মাঠের পাশে হলে তো আরো ভালো ।
তবে খারাপ জিনিস নিয়ে আলোচনা করতে মজা বেশি প্লাস দুর্বল দিক নিয়ে আলোচনা সবসময়ই পেশাদার ক্রিকেট দলের জন্য গঠনমূলক হয় । তাই , শ্রীলংকার সাথে ম্যাচের পরে সুজনের ইস্যুটার সাথে সোশ্যাল মিডিয়াতে সমান সমান কভারেজ পেয়েছে টপ অর্ডারের অফফর্ম । আরো ছোটো করে বলতে গেলে তামিম ইকবালের অফফর্ম নিয়ে কথাটা বেশিই হয়েছে ।
দুই দল বিশ্বকাপে খেলেছে একবারই । সেটা বাংলাদেশের প্রথম বিশ্বকাপ ১৯৯৯ বিশ্বকাপে । স্কটল্যান্ডের এডিনবার্গে সেই ম্যাচে বাংলাদেশের জয় ২২ রানে । দুই দলের শেষ দেখার স্টোরি আলাদা । ২০১২ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ইউরোপ সফরে গেলে তাদের ভালো মার্জিনেই হারায় স্কটল্যান্ড । ১৯৯৯ থেকে ২০১৫- এই ১৬ বছরে বাংলাদেশের ক্রিকেট বেড়েছে । এই ১৬ বছরে বাংলাদেশের ক্রিকেটের “মিস্টার এক্সপেক্টেশন” যেন একটু বেশি গতিতেই বেড়েছে। মাঝের সময়টায় বাংলাদেশের ক্রিকেটের মানও বেড়েছে অনেক । তবে দিনশেষে একটা বড় প্রশ্ন থেকেই যায় …
“ আমাদের প্রত্যাশার সাথে প্রাপ্তির মিলন না হবার কারণটা আসলে কি ? প্রত্যাশা দরকারের চাইতে বেশি জোরে দৌঁড়েছে ? নাকি মাঠের খেলার মানটা দরকারের চেয়ে আস্তে দৌঁড়েছে ? “
টপ অর্ডারের ব্যাটিং নিয়ে হা-হুতাশের মুখস্ত বুলি আওড়াবো না । কি করণীয় তা তামিম ইকবালও জানেন, কি করণীয় তা আনামুলও জানেন , কি করণীয় পুরো কোচিং স্টাফ জানে ! সাথে ডেথ বোলিংটা আমাদের হয় নাই । মাঝামাঝি বল ফেলছে সবাই ! মাশরাফি, তাসকিন, রুবেল সবাই ! একজন সেট ব্যাটসম্যান ম্যাচ থেকে ,আমাদের খেলা থেকে বের করে দিতে পারে । একটা কথা মাথায় রাখা দরকার সাঙ্গাকারা আর দিলশান ১০ টার মধ্যে ৭টা মারতে পারলে ম্যাট মাচান আর মোমসেন ১০টার মধ্যে ৩টা মেরে দিবে । আয়ারল্যান্ড, স্কটল্যান্ড এর মতো দলগুলোর স্পিনে উইকনেস আছে ইতিহাস বলে ! সে হিসেবে আরাফাত সানির দলে ঢোকার সুযোগ আছে । তবে ভেন্যুটার আগের ইতিহাস বলে স্পিনারদের জন্যে এখানে সাহায্য বলতে কিছুই নেই ।
নিউজিল্যান্ডের নেলসনে খেলা হচ্ছে । এখানে এর আগে এই বিশ্বকাপে ম্যাচ হয়েছে দুটো । তাতে দলীয় স্কোরগুলো হলো ৩০৪,৩০৭,২৮৫,২৮৬। প্রথম দুইটা স্কোর আয়ারল্যান্ড আর ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচের । আরেকটা ম্যাচ ছিলো আরব আমিরাত আর জিম্বাবুয়ের ! আরেকটা হাই স্কোরিং থ্রিলার ! সেই লজিক মাথায় রাখলে বাংলাদেশের টপ অর্ডারের জন্যে ভালো চান্স আছে তাদের কনফিডেন্স বুস্ট করার জন্যে ।
ভয়টা বাংলাদেশকে পেতে হবে । বড় আসরে ট্রিকি ম্যাচগুলোয় খারাপ খেলার ইতিহাসের কারণে । ২০০৯ এর টি২০ তে আয়ারল্যান্ডের সাথে জিতলেই পরের রাউন্ডে যেত বাংলাদেশ । কিন্তু মাঠের বাংলাদেশকে প্রফেশনালিজমে পাত্তাই দেয় নাই আয়ারল্যান্ড ! স্কটল্যান্ডের বোলিংটাকে বেশ ওয়েল শেইপডই লেগেছে নিউজিল্যান্ড আর ইংল্যান্ডের মতো দুটি শক্ত প্রতিপক্ষের সামনে ।
ভয়টা বাংলাদেশকে পেতে হবে ! আবারও চাপ ! পরের রাউন্ডে উঠার চাপ ! একটা বড় ম্যাচ বাংলাদেশের দূরবীনে আছে ! ইংল্যান্ড অথবা নিউজিল্যান্ড ! এর মধ্যে যেকোন একটা ! তবে দূরবীনেরটা তো দূরে । হাতছোঁয়া দুরত্বে স্কটল্যান্ড ম্যাচ । এটায় গড়বড় হয়ে গেলে কিন্তু আর হিসেবটা “যে কোন একটা” থাকবে না ।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

20 − four =