বার্সেলোনা বনাম রিয়াল মাদ্রিদ বনাম এটলেটিকো মাদ্রিদ

লা লিগার তিন জায়ান্ট বার্সেলোনা, রিয়াল মাদ্রিদ ও এটলেটিকো মাদ্রিদের এবার হেড টু হেডের পসিংখ্যান বেশ মজার। কোন দল এককভাবে ২টো দলের উপর আধিপত্য করছে না। আবার এক দল আরেক দলকে হারালেও হারছে অন্য দলের কাছে। যেমন এই মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদ ৬ ম্যাচ খেলেও জয়ের দেখা পায় নি এটলেটিকোর বিপক্ষে, ২ ড্রয়ের বিপরীতে হারতে হয়েছে ৪ ম্যাচ, ৪ গোল দিয়ে হজম করেছে ১২ টি। কিন্তু রিয়ালের প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার এটলেটিকোর বিপক্ষে রেকর্ড অত্যন্ত ভাল। ৩ টি ম্যাচের ৩ টিতেই হারিয়েছে তারা, করেছে ৭ গোল, হজম করেছে মাত্র ৩ টি। এই পরিসংখ্যান দেখে আপনার মাথায় আসবে রিয়াল মাদ্রিদকে সহজেই হারানোর কথা বার্সার, কিন্তু মৌসুমের একমাত্র মুখোমুখি ম্যাচটাতে রিয়ালের কাছে ৩-১ গোলে বিধ্বস্থ হতে হয়েছে কাতালানদের।

কেন এমন পরিণতি দলগুলোর, ১ দলের সাথে ডমিনেট করলে অপর দলের কাছে হারতে হচ্ছে করুণভাবে। Sportskeeda নামক একটি ওয়েবসাইট সেটাই বিশ্লেষণের চেষ্টা করেছে আর সেখান থেকে আমার নিজের চিন্তা ভাবনা মিশিয়ে কারণগুলো তুলে ধরার চেষ্টা করছি –

পয়েন্ট ১ঃ এটলেটিকো যেভাবে রিয়ালকে হারাল

atleti-v-rm

এটকেটিকো সাধারণত ডিফেন্সকে ইন্টেন্স করে রাখে, তাদের ডিফেন্সে ফাকফোকর রাখেই না বলতে গেলে যার ফলে কোন দল মাঝ দিয়ে এটাকের চেষ্টা করলে তাকে বিফল হতেই হয়। এর ফলে ঐ দলকে বাধ্য হতে হয় উইং দিয়ে আক্রমণ রচনা করতে। রিয়ালও তাই করতে বাধ্য হয়েছে ও তাদের ফুলব্যাকদের ইউজ করে বক্সের মধ্যে ক্রস ফেলার চেষ্টা করেছে। কিন্তু এত ইন্টেন্স ডিফেন্সের মধ্যে রিয়ালের ফরোয়ার্ডদের পজিশনিং যেমন কঠিন হয়ে দাড়িয়েছে তেমনই গোদিন ও মিরান্ডার মত দারুণ সেন্টার ব্যাকরা ক্লান্তিহীনভাবে সেই ক্রস ক্লিয়ার করেছে। পুরো ম্যাচে মাথা কুটে মরেছে রিয়াল, অন্যদিকে দারুণ সব কাউন্টার এটাকের মাধ্যমে গোল আদায় করে নিয়েছে এটলেটিকো। রিয়ালের আক্রমণ বিল্ডআপ করার জন্য ফুলব্যাকদের অনেকটা উপরে উঠতে হয়, মাঝে মাঝে রামোস, পেপেরাও উপরে উঠে আসছে। আর সেই সুযোগ নিয়ে গ্রিজম্যান, তরেস ও মানজুকিচরা কাউন্টার এটাকের মাধ্যমে গোল করেছে। গোল খেয়ে পরিশোধের জন্য হন্যে হয়ে আরো বেশি আক্রমণে গেছে, ফলাফলস্বরুপ আরো গোল খেতে হয়েছে।

পয়েন্ট ২ঃ বার্সা যেভাবে এটলেটিকোকে হারাল

Atletico-Madrid-vs-Barcelona

রিয়ালের বিপক্ষে এটলেটিকো যেভাবে খেলেছে সেই একইভাবেও বার্সাকে হারানোর কথা, কিন্তু হয়নি নির্দিষ্ট কিছু কারণে। বার্সার তিন ফরোয়ার্ড যথেষ্ট স্কিলফুল, ড্রিবলিং করে মার্কারকে অনায়াসে কাটাতে পারে মেসি, নেইমার, সুয়ারেজরা। দেখা গেল, এটলেটিকোর রাইট ব্যাক নেইমারকে আটকাতে চেষ্টা করছে, কিন্ত নেইমার তার স্কিল ও ড্রিবলিং দিয়ে তাকে ছিটকে ফেলে সামনে এগিয়ে গেল। এবার নেইমারকে আটকাতে হলে সেন্টার ব্যাককে আগাতে হবে, কিন্তু তা করলে সেন্টারে একজন ডিফেন্ডার কমে যাচ্ছে। এই ক্ষেত্রে সেন্টার ব্যাকটা দ্বন্দ্বে পরে গেল, সে কি নেইমারকে আটকাতে যাবে নাকি মেসি-সুয়ারেজকে মার্ক করবে। অবস্থা এমন যে গেলেও ধরা, না গেলেও ধরা। এমন সিচুয়েশনে বার্সার তিন ফরোয়ার্ডের কাউকেই একজন মার্কার দিয়ে আটকানো সম্ভব হয় নি এটলেটিকোর, ফলে ফাকায় থেকেছে কেউ না কেউই এবং গোল আদায় করে নিয়েছে। আবার মেসি, নেইমার ও সুয়ারেজকে আটকাতে এত বেশি ব্যস্ত থাকতে হয়েছে তাদের কাউন্টার এটাক করার সময়ই পাই নি তারা। আবার যেই সেটপিস তাদের শক্তি সেই সেটপিসেও সুবিধা করতে পারে নি। ফলাফলস্বরূপ করুণভাবে হারতে হয়েছে তাদের।

পয়েন্ট ৩ঃ রিয়াল যেভাবে বার্সাকে হারাল

রিয়ালের খেলার ধরন বার্সাকে হারাতে মূখ্য ভূমিকা রাখে। রিয়াল বার্সাকে মাঝমাঠে বেশি বল ধরে রাখতে দে আর বার্সা যখন ডিফেন্স ছেদ করতে যায় হাই প্রেসিংয়ের মাধ্যমে বল কেড়ে নিয়েই চলে যায় কাউন্টার এটাকে যেখানে এই কাউন্টার এটাক সাপোর্ট দেওয়ার জন্য থাকছে বেল, রোনালদোর মত স্পিডি প্লেয়ার, বেনজেমার মত সুযোগ সন্ধানী স্ট্রাইকার, আবার হামেস ও ইস্কোর মত প্রোভাইডাররা। হাই প্রেসিং হচ্ছে বার্সার বিপক্ষে রিয়ালের মূল ট্যাক্টিক্স আর এই ট্যাক্টিক্স দিয়েই গত কয়েক সিজন বার্সার উপর ডমিনেট করছে রিয়াল মাদ্রিদ। বার্সার ফুলব্যাকরা আক্রমণকে সাপোর্ট দিতে প্রায় উপরে উঠে যার সুযোগ নিয়ে কাউন্টার এটাক করে রিয়াল আর সংগঠিত কাউন্টার এটাকের সামনে বার্সা যে দুর্বল তা গত কয়েক সিজনে বেশ ভালই দেখা গেছে।

atletibarcareal001-betsport2wincom2

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

one × 2 =