কিভাবে চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতবে বার্সেলোনা : আমার ভাবনা

কিয়াভবে চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতবে বার্সেলোনা : আমার ভাবনা

লেখা – সাজ্জাদ ইমন

বার্সেলোনা শেষ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ট্রফি জয় করে ২০১৫ তে। ২০ দশকে দারুণ প্রভাব দেখানো বার্সার সেই প্রভাব যেন হারিয়ে যাচ্ছে কোয়ার্টার ফাইনালেই। লাস্ট সিজনে কোয়ার্টার ফাইনালের ১ম লেগে শেষে রাইভালরাও ভাবেনি বার্সেলোনা ২য় লেগে ৩-০ তে হেরে বিদায় নিবে। কিন্তু ভাগ্যের কি পরিহাস প্ল্যান হীন ম্যাচে ৩-০ তে হেরে বিদায় নিয়ে হয় আমাদের। ৪-১ এ জয়ের পর এমন হার আজো হার্ট করে, আজো কষ্ট দেয়। পুরো সিজনে ওইটাই বোধহয় ভালভার্দের একমাত্র ভুল ছিলো, আর এই এক ভুল পুরো সিজনের সফলতাকে ঢেকে দেয়। কিন্তু সময় এসে গেছে ড্রাইভিং সিটে বসার। আর খালি হাতে ফিরে আশা ভালো লাগছেনা। যথেষ্ট হয়েছে কিন্তু এখনই সময় রাজত্ব নিজেদের করে নেয়ার। অনেক ডিফরেন্ট ৩ সিজন কাটিয়েছি আমরা। ২০১৫ তে এমএসএন এর দূর্দান্ত ফর্মে ঐতিহাসিক ট্রেবল জয়ের পর বাড়বার পা হড়কেছে কোয়ার্টারে। টানা ৩ সিজন সেইম লেভেলে এসে হেরেছি আমরা। যেন মনে হচ্ছে কোয়ার্টার ফাইনাল এখন আমাদের বড় বাধা হয়ে দাড়িয়েছে। ২০১৬ তে এটিএম এর কাছে এওয়ে ম্যাচ ২-০ হারের পর হোম ম্যাচে তার বদলা দিতে পারিনি। ২০১৭ তে কোয়ার্টারে জুভের মাঠে ৩-০ তে হারের পর দূর্দান্ত ডিফেন্সের কাছে আবারো ধরাশায়ী বার্সেলোনা। হোম ম্যাচ গোলশূন্য ড্র করে বিদায় নিতে হয়। ২০১৫ এর ফাইনালে জুভেদের হারানোয় ধরেই নিয়েছিলাম নিশ্চিন্তে সেমি যাচ্ছে বার্সেলোনা, কিন্তু জুভে তার উল্টা পথ দেখিয়ে দিয়েছে আমাদের। অথচ রাউন্ড অফ ১৬ তে সেরা ক্যামব্যাক করেছি আমরা পিএসজি এর বিপক্ষে। ২০১৮ তে রোমার সাথে বিদায় নেয়াটা আজো কষ্ট দেয়। হোম ম্যাচে প্রতিপক্ষকে ৪-১ এ হারানোর পর তাদের মাঠে ৩-০ তে হার কেউ ভেবেছে কিনা জানিনা। বড় কথা বার্সেলোনা গোল দিবেনা সেটা ছিলো ভাবনার বাহিরে। রোমার সাথে হারের পর ভালভার্দেকে আর সহ্যই হয়না এখন। যে ম্যাচে কোচের কোন প্লেন ছিলো কিনা সেটা কোচ জানে একমাত্র। অনেক হয়েছে আর কোয়ার্টারে হেরে যাওয়া মানতে পারছিনা, এবার শিরোপা চাই শিরোপা। আমাদের হাতে সর্বকালের সেরা প্লেয়ার আছে, তার জন্য কোয়ার্টার ফাইনাল যথেষ্ট নয়। কিছুতো বদল করতেই হবে এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য , টিমে এবং সিস্টেমে। দু জায়গাতেই বদল করতে হবে। কোচ এবং প্লেয়ারদের মেন্টালিটি, উচল জেতার কনফিডেন্স, উচল জেতার বিশ্বাস, খেলার স্টাইল এবং অনেক কিছু। কি করে আমরা ইউরোপিয়ান টপ ফুটবলের ড্রাইভিং সিটে বসতে পারবো? যখন তুমি বিগ স্টেজে যাবে বিশ্বাস রাখতে হবে হ্যা আমি পারবো, আমরা পারবো। টিমের সবার মাঝে এ মানসিকতা ফিরিয়ে আনতে হবে। আমাদের নিজস্ব খেলার স্টাইল আছে, নিজস্ব পার্সোনালিটি আছে। নিজেদের উপর অনেক কনফিডেন্স আছে। এ কনফিডেন্সটাই বেড় করে আনতে হবে ইউরোপিয়ান বিগ স্টেজের ক্রুশিয়াল মোমেন্টে, টিমের সবচেয়ে বেশি জরুরি এটা। আমরা বাড়বার কোয়ার্টার থেকে বিদায় নিচ্ছি, যেটা আমাদের সাথে যায়না। প্রতিটা সিজন শুরু করি টপ ফেভারিট হিসেবে। অথচ টপ ফোরে থেকেও সিজন শেষ করতে পারিনা। এ কোয়ার্টারে এসেই নিজেদের মেলে ধরতে হবে, মনে করতে হবে টিমের কঠিন সময়ে আমাকে টিমের লাগবেই। কোয়ার্টার পার করতে হবেই। ইনশাল্লাহ এবার কোয়ার্টার পাড় হবে সেমি শেষ করে ফাইনালে ট্রফিটা আমরাই উচিয়ে ধরবো। লাস্ট সিজনে রোমাকে আমরা হাটতে দিয়েছি আমাদের উপর, তারা হেটেছে আর আমরা মন খারাপ করে বাড়ি ফিরেছি। আমরা জানি আমাদের ম্যাচ উইনার প্লেয়ার আছে, ম্যাচ জয় করার মতো কোয়ালিটিফুল প্লেয়ার আমাদের আছে। আছে অনেক এস্পেরিয়েন্স প্লেয়ারও যারা ম্যাচ বেড় করে আনার জন্য যথেষ্ট। ইউরোপের টপ বেষ্ট স্কোয়াডের একটা আমাদের। অনেকদিনের অভিযোগ বেঞ্চ ডেপথ সেটাও এ সিজনে আছে। প্রতিটা পজিশনে ফাইট দেয়ার মতো প্লেয়ার আমাদের আছে। যদি আমরা মাদ্রিদের কথা ভাবি, উচলের মাদ্রিদ আর লিগের মাদ্রিদের মাঝে কতোটা ডিফরেন্ট সেটা উচল ম্যাচ আর লিগের ম্যাচ দেখলে স্পষ্ট হয়ে উঠে। মাদ্রিদের নিজেদের অনেক কনফিডেন্স থাকে হ্যা আমরা পারবো। উচলে মাদ্রিদ টানা ৩ সিজন ধরে অপ্রতিরোধ্য, কোয়ালিটি প্লেয়ার তাদেরও আছে অবশ্যই। তাদের উচল জেতার মানসিকতাটাই ক্যাপচার করতে হবে আমাদের। তারা সেরা ফুটবল খেলে টানা ৩ সিজন উচল জিতেনি,তারা জিতেছে কনফিডেন্সে। আমরা জানি আমাদের কি করা উচিৎ, আমাদের কি আছে। ইউরোপে সেটাই শো করতে হবে হ্যা আমরাও পারি। বাহিরে দেখাতে হবে আমাদেরও পাওয়ার এখনো আছে রাজত্ব করার। প্রতিপক্ষের মনে ভয় ধরিয়ে দিতে হবে আমরাও পারি দেখে যাও।

ফেব্রুয়ারি এবং মার্চের ক্রুশিয়াল নক আউট গেম আমাদের জন্য সত্যিই অনেক যন্ত্রণাদায়ক। স্কোয়াডে ফুল ডেপথ না থাকায়, গুরুত্বপূর্ণ এ সময়ে মেইন প্লেয়াররা হাপিয়ে যাচ্ছেন। ভালভার্দে খুব ভালো করেই জানেন নিজের টিমকে। এ সময়ে কি করা উচিৎ সেটাও খুব ভালো জানেন। গত সিজনে যখন মাদ্রিদ লিগ থেকে ছিটকে যায়, কোপা নিয়ে কোন ভাবনা ছিলোনা মাদ্রিদের। তারা তাদের ফুল ফোকাস উচলে দেয়, সিরি আ টিম নাপোলি যখন উচলের গ্রুপ স্টেজে বিদায় নেয়ার পর, যেখানে ইউরোপা লিগ জেতার টপ কন্টেন্ডার ছিলো তবুও তারা নিজেদের ফোকাস লিগের উপর রাখেন। যথেষ্ট ফাইট দিয়েছিলেন লিগ জেতার জন্য, কিন্তু ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে না পারায় শেষ পর্যন্ত ২য় হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়। ভালভার্দের হাতে অনেক অপশন আছে, পুরো মেইন স্কোয়াড রেস্ট দিতে না পারলেও ৫-৬ জন প্লেয়ার রোটেট করার এবিলিটি আছে। গত সিজন যেখানে ১৪-১৫ জন প্লেয়ার দিয়ে সিজন শেষ করেছে, সেখানে এ বছর কাকে রেখে কাকে খেলাবে সেটাই প্রশ্ন। ভালভার্দে খুব ভালো জানেন কি করা উচিৎ, কি করলে এ ইম্পর্টেন্ট সময়ে নিজের টিম প্লেয়ার রেস্ট পাবে। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে মেইন স্কোয়াড প্রস্তুত থাকবে। ফেব্রুয়ারির তে রাউন্ড অফ সিক্সটিন, তারপর কোয়ার্টার ফাইনাল। এবং এ বাধা পার করলে সেমি ফাইনাল, ফাইনাল অবশ্যই। তবে আমারা টানা ৩ সিজন আটকে যাচ্ছি কোয়ার্টারে। টিমে স্পিরিট আনতে হবে এ কোয়ার্টার স্টেজ পাড় করতেই হবে। কোয়ার্টারে অন ফায়ার করতে হবে যেন আমরা আরো দূর যেতে পারি। আমাদের বেষ্ট ফুটবল খেলেই এ স্টেজ পাড় করতে হবে। ভালভার্দেকে টিম সেট আপ করতে হবে সেভাবেই যেনো আমরা একটা স্ট্রং এনার্জি টিম পাই বোম ফাটানোর জন্য। ভালভার্দে অবশ্যই জানেন কোনটা তার সিস্টেম, কিভাবে তিনি টিম সাজাবেন। গত সিজনের ৪-৪-২ আর মুখস্থ একাদশ রাখবেন নাকি এ সিজনের শুরুর মতো ৪-৩-৩ খেলবেন, নাকি ফিরে যাবেন ৪-৪-২ এ। যখন এনাদার অপশন আছে তখন প্রতিপক্ষ অনুযায়ী ৪-৪-২/৪-৩-৩/৪-২-৩-১ যা ইচ্ছে খেলাতে পারবেন। তিনি ডিফেন্সিভ খেলাবেন নাকি এটাকিং খেলবেন উনি আমাদের থেকে ভালো জানেন। হ্যা আমরা বার্সেলোনা এর সুন্দর পাসিং এবং এটাকিং ফুটবলের ফ্যান। কিন্তু যেহেতু উনি কোচ, ওনার নিজস্ব পছন্দ থাকবেই, আর সেটাকে সম্মান দেয়া উচিৎ। কিন্তু লাস্ট সিজনে রোমার সাথে হারের ম্যাচের মতো প্লেনহীন ম্যাচ অবশ্যই দেখতে চাইনা। ভালভার্দের তার টিম প্লেন অবশ্যই ক্লিয়ার করা দরকার এবং প্রয়োজন হলে সেভাবে ট্রান্সফার করা দরকার। টিমকে একটা ফান্ডামেন্টাল ডিরেকশন অবশ্যই তার দেয়া দরকার। যদি ভালভার্দের ক্লিয়ার কোন প্লেন থাকে তবে সেভাবে টিম এবং প্লেয়ার সাজানো দরকার। প্লেয়ার সেখানে নির্দিষ্ট রোল থাকবে এবং নিজের রোল ঠিকমতো প্লে করার এবিলিটি উনিই দিবেন প্লেয়ারদের। উনি নিজের প্লেয়ারদের আমাদের থেকে অনেক ভালো জানেন। তাদেরকে তাদের রোল বুঝিয়ে দিতে হবে টিমে এবং প্রত্যেকটা প্লেয়ারকে ইম্পোর্টেন্ট বানাতে হবে অবশ্যই।
বার্সেলোনা এমন একটি ক্লাব যাদের টার্গেট থাকে সবকিছু জেতা। আমরা সুপার কাপ জিতে সিজন শুরু করেছি, সিজন শেষে আরো একটা ট্রেবল দেখা অনেক বিগ ক্লাবের স্বপ্ন। কিন্তু আমি পার্সোনালি চাই লিগ এবং উচলের জন্য কোপা সেক্রিফাইস করুক। জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে কোপার ফিক্সার আমাদের জন্য অনেক কঠিন হয়ে পরে। রাউন্ড অফ সিক্সটিন এর পর খুব দ্রুতই কোয়ার্টার ফাইনাল, এবং তারপরেই সেমি ফাইনাল। এ ছয় ম্যাচ আমাদের স্কোয়াডের অনেকটা সময় এবং এনার্জি নষ্ট করে দেয়। ঠিক এ সময়েই উচলের নক আউটের খেলা এবং লিগ ফয়সালা হয়ে যাওয়ার সময় এসে পরে। বার্সেলোনা সমর্থক হিসেবে সবকিছু জিততে আমিও চাই কিন্তু এ বছর উচল এবং লিগের জন্য কোপা সেক্রিফাইস করুক। কোয়ার্টার পর্যন্ত বেঞ্চ প্লেয়ার খেলাক, সাক্সেস হলে সেমিতে মূল একাদশ খেলানো যাবে। যখন আমাদের হাতে উচল এবং লিগ জেতার চান্স থাকবে তখন এমনিই কোপা পেয়ে যাবো। কিন্তু কোপার নক আউট ক্রুশিয়াল ফিক্সার আমাদের কিল করার জন্য যথেষ্ট। যখন লিগ এবং উচল জেতার চান্স থাকবে তখন সবার মতো ট্রেবল নিয়ে কথা বলবো আমিও। কিন্তু আগে আমাদের উচলের আসল কাটা কোয়ার্টার পার হওয়ার জন্য মানসিক প্রস্তুতি রেখে তারপরেই কোপাতে মনোযোগ দেয়া দরকার। আগে স্কোয়াড ফিট রাখতে হবে উচল এবং লিগের জন্য তারপর কোপা।
ভালভার্দেকে নিজের স্কোয়াড ম্যানেজ করতে হবে বুদ্ধি দিয়ে। পুরো সিজনে আমরা ৬০ এর মতো ম্যাচ খেলি। সব ম্যাচে নিজেদের বেষ্ট খেলা পসিবল না সবাই জানি। আমাদের বেষ্ট স্কোয়াড আছে, বেষ্ট প্লেয়ার আছে। আমরা এ সিজনে বেশ বেশ ভালো ট্রান্সফার করেছি। প্রত্যাকটা প্লেয়ারের মাঝে পটেনশিয়াল এবং একাদশে খেলার মতো এবিলিটি আছে। আমাদের স্কোয়াড ডেপথ আছে এবং ডেপথ বেঞ্চ আছে। তবে ভালভার্দেকে ইম্পোর্টেন্ট ম্যাচে বেষ্ট একাদশ খেলানোর জন্য টিম তৈরি রাখতে হবে। তাকে বুঝতে হবে কোণ ম্যাচে প্রতিপক্ষ সহজ, কোনটা কঠিন। আমাদের স্কোয়াডে প্রচুর ডেপথ আছে, প্রতিটা পজিশনে ফাইট দেয়ার মতো প্লেয়ার আছে। গত সিজনে যেটা পসিবল ছিলোনা এ সিজনে সেটা পুরো পসিবল। প্রতিপক্ষ দেখে প্লেয়ার রোটেট করাতে হবে যেন ইম্পোর্টেন্ট ম্যাচে বেষ্ট একাদশ ফুল ফিট থাকে। স্কোয়াডের প্রত্যাকটা প্লেয়ারকে ইম্পোর্টেন্ট বানাতে হবে। সবাইকে নিজেদের পজিশন ধরে রাখার জন্য যুদ্ধ করতে হবে। কেউ খারাপ করলে তার জয়গায় বেঞ্চে বসে থাকা প্লেয়ার ভালো খেলে দেখিয়ে দিতে হবে বি সিরিয়াস অর আইএম কামিং। কখন কে ইঞ্জুরড হবে কেউ জানেনা, তাই প্রত্যাক পজিশনের প্লেয়ার প্রস্তুত থাকতে হবে নিজের রোল প্লে করার জন্য। ভালভার্দে নিজের প্লেয়ারদের খুব ভালো করে জানেন। সবাইকে বি সিরিয়াস বানাতে হবে। এবার কেউ বলতে পারবেনা, রোটেট করার প্লেয়ার নাই। মেইন টিমের ঢোকার মতো এবিলিটি এ বছর আমাদের বেঞ্চড প্লেয়ারদের আছে। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে মেইন টিমের কিছু প্লেয়ার রেস্ট দেয়ার মতো সাহসটা ভালভার্দকে দেখাতে হবে। ভয় লাগে এটাই যে ভালভার্দে ভয় পায়। সাহস করেনা রোটেট করার। খারাপ খেললে যে সুয়ারেজ এর মতো প্লেয়ারকেও সাভ করানো যায় এটা উনি ভুলে যান।
দিনশেষে কথা একটাই স্কোয়াড ম্যানেজ করে,প্রত্যাকটা প্লেয়ারকে নিজেদের রোলে ইম্পর্টেন্ট বানিয়ে তাদের বেষ্ট পারফর্ম বেড় করে আনতে হবে। হয়তো এ বছর অপছন্দের ভালভার্দের আমাদের ৩ বছর পর উচল উপহার দিবে ইনশাল্লাহ। হয়ে যাক হেক্সা উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

16 + 3 =