বার্সার বিপক্ষে জয় পেল ম্যানচেস্টার সিটি

১২ দিনের ব্যবধানে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লীগের গ্রুপ পর্বের চতুর্থ ম্যাচে আবারো মুখোমুখি হয়েছিল ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটি এবং স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনা। দুই দলের সর্বশেষ দেখায় ন্যু ক্যাম্পে বার্সেলোনার কাছে ৪-০ গোলের পরাজয় নিয়ে ঘরে ফিরেছিল সিটিজেন রা।

39f6de0700000578-3895146-image-a-41_1478034292303

গতকাল ফিরতি ম্যাচে সিটির ঘরের মাঠ ইতিহাদে বার্সাকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। সেই সাথে প্রতিপক্ষ কোচ হিসেবে প্রথমবারের মত নিজের সাবেক ক্লাব বার্সেলোনার বিপক্ষে জয় পেলেন সিটি বস পেপ গার্দিওলা। এই জয়ের ফলে ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের ২য় অবস্থানে থাকলো সিটি আর ম্যাচ হেরেও ৯ পয়েন্ট নিয়ে সবার উপরে থাকছে বার্সাই। ইতিহাদে ম্যাচের শুরু থেকেই প্রতিপক্ষের উপর চাপ সৃষ্টি করে খেলতে থাকে ম্যানচেস্টার সিটি। ইনজুরির কারণে আলবা, পিকে বিহীন বার্সার রক্ষণভাগ শুরু থেকেই চাপে ছিল। খেলার ১০ মিনিটের মাথায় বার্সার ডি বক্সে উমতিতির পায়ে লেগে পড়ে যাওয়া স্টার্লিং পেনাল্টির আবেদন করলে রেফারি তাকেই হলুদ কার্ড দেখান ডাইভের অভিযোগে। ১৯ মিনিটে ডি বক্সের একটু বাইরে গুন্ডোগানকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন ইভান রাকিটিচ। ফ্রি কিক পায় সিটি। সেই ফ্রি কিক থেকে পাওয়া বল দ্রুতই নেইমারের কাছে লং শটে পোঁছে দেন লুইস সুয়ারেজ। নেইমার বল নিয়ে সিটির ডি বক্সের বাইরে থেকে মেসিকে পাস দিলে মেসি করেন অসাধারণ এক গোল। কাউন্টার অ্যাটাক থেকে এভাবেই ১-০ তে এগিয়ে যায় বার্সেলোনা। পরের মিনিটে পাল্টা আক্রমণে গিয়ে জোরালো শট নেন সিটির গুন্ডোগান, যা প্রতিহত করেন বার্সা কিপার টের স্টেগান। এরপর কিছুক্ষণ খেলায় আধিপত্য দেখিয়েছে বার্সেলোনা। এসময় গোলের সুযোগও পায় তারা। তবে সুযোগ কাজে লাগাতে পারেন নি কেউই। এরপর থেকেই মূলত বার্সেলোনার খেলার ছন্দ হারিয়ে যেতে থাকে। আর চাপ বাড়াতে থাকে সিটি। ৩৯ মিনিটে বার্সা ডিফেন্ডারদের ভুলে বল পেয়ে যান স্টার্লিং, তার ক্রসেই গোল করে খেলায় ১-১ এ সমতা ফেরান সিটির জার্মান মিডফিল্ডার গুন্ডোগান। ১-১ সমতায় শেষ হয় প্রথমার্ধ। দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই একের পর এক আক্রমণে বার্সা ডিফেন্স কে নাজেহাল করে তোলে সিটি। ৫০ মিনিটে ফ্রি কিক থেকে গোল করে সিটি কে ২-১ গোলের লীড এনে দেন বেলজিয়ান কেভিন ডি ব্রুনে। খেলার ৫৯ মিনিটে রাকিটিচ কে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন সিটি ডিফেন্ডার কোলারভ। ৬০ মিনিটে ফার্নান্দিনহো কে উঠিয়ে ফার্নান্দোকে মাঠে নামান সিটি বস গার্দিওলা। ৬১ মিনিটে রাকিটিচ কে উঠিয়ে আরদা তুরান কে মাঠে নামায় বার্সা। ৬৪ মিনিটে আন্দ্রে গোমেজের জোরালো শট সিটির গোলবারে লেগে ফিরে আসে।৭৩ মিনিটে দ্রুত আক্রমণ থেকে আবারো গোল করেন গুন্ডোগান। তবে এই গোলের আগে আগুয়েরোর হাতে বল লাগার অভিযোগে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন বার্সা কিপার টের স্টেগান।৭৫ মিনিটে গোমেজ কে উঠিয়ে রাফিনহা কে মাঠে নামান লুইস এনরিকে। আর ৮৮ মিনিটে কেভিন ডি ব্রুনে কে উঠিয়ে নোলিতো কে নামায় সিটি। ৩-১ স্কোরলাইন নিয়ে শেষ হয় খেলা। সিটির প্লেয়ার রা বেশ কয়েকটি সহজ সুযোহ মিস না করে ব্যবধান আরো বড় হতে পারতো। এ ম্যাচে বার্সার তরুণ রক্ষণভাগ প্রতিপক্ষের আক্রমণ সামলাতে বারবার হিমশিম খেয়েছে। লেফট ব্যাক ডিনিয়ে বারবার পিছিয়ে পড়েছেন স্টার্লিং,আগুয়েরোদের চেয়ে। তবে উমতিতি ভাল খেলেছেন।বেশ কয়েকটি আক্রমণ সামলিয়েছেন। বার্সা মিডফিল্ডও এদিন ছিল একেবারেই নিষ্প্রভ। আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার অনুপস্থিতি আর বুসকেটসের ফর্মহীনতা ভালই ভুগিয়েছে বার্সেলোনাকে। রাকিটিচ রাও খুব একটা ভাল খেলতে পারেননি। সুয়ারেজ বারবার ভুল পাস দিয়েছেন,নেইমারের ভুগেছেন সিদ্ধান্তহীনতায়। মেসিকে বলের যোগানটাই ঠিকমত দিতে পারেনি মিডফিল্ড।

সব মিলিয়ে বলতে হয় এদিন নিজেদের সেরা খেলার কিছুই দিতে পারেনি বার্সেলোনা। অপর দিকে গত ম্যাচে হারার পর চাপে থাকা ম্যানচেস্টার সিটি ভালভাবেই ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এদিন তাদের খেলা ছিল দুর্দান্ত। প্রতিপক্ষ কে চাপে রাখতে পেরেছে তারা। সেইভাবেই বের করে নিয়েছে গোল। সব মিলিয়ে বলা যায় নিরপেক্ষ দর্শক দের জন্য এ ম্যাচ ছিল দারুণ উপভোগ্য।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

eighteen − 17 =