বার্সার এত হেটার কেন?: ক্রিকেট দিয়ে ফুটবল ব্যাখ্যার অপচেষ্টা

শুরুতেই বলে নিই হেটিং বা হেইট্রেড মানে কি? হেটিং মানে হচ্ছে কাউকে দেখতে না পারা, সহ্য করতে না পারা বা এইরকম মনোভাব পোষণ করা। আমি জানি হেটিং মানে কি সবাই জানে। তাও কেন বললাম? আরে ভাই বলতে মন চাইছে। তাই বলছি। হোয়াই সো সিরিয়াস?

ওকে। এরপর আসি হেটিং এর প্রকারভেদে। জগতের সকল হেটিং কিন্তু এক না। অনেক কারণেই মানুষ হেট করে থাকে। তবে আমার ক্ষুদ্র মস্তিষ্ক খাঁটিয়ে হেটিং কে আমি প্রধানত ২ ভাগে ভাগ করলাম। যথা-

১) বিরক্তি থেকে উদ্ভূত ঘৃণা। উদাহরণ- আপনার প্রেমিকার সাথে আপনার ব্রেকাপ হয়ে গেলে তাকে যে ঘৃণা করবেন সেটাকে এই শ্রেণীর ঘৃণা বলা হবে।

২) হিংসা থেকে উদ্ভূত ঘৃণা। উদাহরণ- আপনার কখনও প্রেম হয় না। কিন্তু আপনার ক্লাসমেট ঠিকই আপনার আশেপাশের সব আপ্পি সমাজকে খেয়ে দিয়ে এখন সমানে বাইরের আপ্পি সমাজদেরও খাচ্ছে। তার প্রতি যে ঘৃণা তা এই ক্যাটাগরিতে পড়বে।

আসুন এবার প্রেম পিরীতি এই থিউরিকে খেলাধুলার সাথে মিক্সড করি। যেহেতু শিরোনামে বলেছি ক্রিকেট দিয়ে ফুটবল ব্যাখ্যার অপচেষ্টা তাই বেশ কিছু ক্রিকেটের উদাহরণ দিব। সাথে ফুটবলতো থাকবে।

 

প্রথম শ্রেণীর হেটিং মানে বিরক্তি থেকে উদ্ভুত হেটিং আসে বাধ্য হয়ে। যেমন উদাহরণ হিসেবে ইন্ডিয়ান ক্রিকেট টিমের কথা বলতে পারি। ওদের খেলা নিয়ে কারো কোন আপত্তি থাকার কথা না। কিন্তু মাঠের বাইরে ওরা যে দাদাগিরিটা করে এই জন্য ওদের উপর অনেকেই বিরক্ত। ওদের ঘরের মাঠের পিচ নিয়েও অনেকে বিরক্ত। আইসিসিতে ওদের খবরদারি নিয়েও বিরক্ত। খেলোয়াড়দের দাম্ভিক আচরণ নিয়েও বিরক্ত। এই জন্য অনেকেই ইন্ডিয়ান টিমের হেটার। এখানে অনেকেই ভ্রু কুঁচকে বলবে ভাই তাইলে পাকিস্তানের কথা বললেন না যে? আরে ভাই পাকিস্তানের কথা কেন এখানে বলব? এখানে ক্রিকেট ফুটবল নিয়ে কথা হচ্ছে। জুয়াটুয়া নিয়ে কখনো লিখলে তখন অবশ্যই পাকিস্তানকে হাইলাইট করে লিখব।

শেভাগের স্ট্যাম্প উড়িয়ে দেয়ার পর মাশরাফি

 

এই শ্রেণী হ্যাটিং এর সাথে এবার ফুটবল মিলাই। ফুটবলে অনেকগুলা নাম শুনলেই কেমন যেন লাগে। যেমন- রিয়াল মাদ্রিদ, চেলসি, ম্যানসিটি, পিএসজি, মোনাকো। কারণ কি? কারণ এরা টাকার জোরে অন্য ক্লাবের প্লেয়ার নিয়া গুদামজাত করে থাকে। কিন্তু ম্যানসিটি, পিএসজি এই হেট্রেড কিছুটা কমাইতে পেরেছে তাদের পজেটিভ ফুটবল দিয়া। মানুষ মেনে নিছে। তবে সাফল্যের জন্য চেলসি সব সময়ই নেগেটিভ ফুটবলের দর্শন বেছে নিছে। ওদের মাধ্যমেই ফুটবলে বাস পার্ক করার ট্রেন্ড চালু হইছে। এই জন্য জগতজোড়া ওদের হেটারের অভাব নাই।

 

এখন আসি দ্বিতীয় শ্রেণীর হেটিং এর ব্যাপারে। আগেই বলেছি এটা মানুষ করে থাকে ঈর্ষা থেকে, অসহায়বোধ থেকে। যেমন আমার নিজের অভিজ্ঞতাই বলি। অস্ট্রেলিয়া যখন তাদের স্বর্ণ যুগ পার করতেছে তখন অস্ট্রেলিয়াকে দেখতে পারতাম না। ওদের কেউই হারাতে পারত না। ওদের যেকোন একজনই হঠাৎ দাঁড়িয়ে গিয়ে ম্যাচ বের করে নিয়ে আসত। বড্ড একপেশে হত ওদের সাথে খেলা। এই জন্য ওদের দেখতে পারতাম না। যেদিন সাউথ আফ্রিকা ওদের হারিয়ে টেস্ট র‍্যাংকিং এ এক নাম্বারে উঠে আসে সে দিন আমি ঈদের দিনের অনুভূতি পেয়েছিলাম। রাজার পতন দেখা কম ভাগ্যের ব্যাপার না! 😛

কি জিতে নাই এই দল?

 

 

ফুটবলে যদি এমন কারো কথা বলি তাহলে বলতে হবে জার্মানির কথা। বড্ড রোবোটিক ওদের খেলা। সব মাপা মাপা। প্রতিটা সেকেন্ড হিসাব করা। অখ্যাত দল নিয়েও প্রতিবার সেমি ফাইনাল খেলে। খুবই বিরক্ত লাগে ওদের খেলা দেখলে। ওরা হারে না কেন এমন একটা অনুভূতি হয়?

কিচ্ছু বলার নাই…

 

এবার আসি বার্সেলোনার কথায়। একবিংশ শতাব্দীর শুরুতেও বার্সার এত সমর্থক ছিল না। আবার এত হেটার ছিল না। পেপ গার্ডিওলা যখন জাভি-ইনিয়েস্তা-মেসিদের সমন্বয়ে একটা জাদুকরি দল বানালেন তখন হুহু করে বার্সার সমর্থক বাড়তে থাকল। এই টিম পৃথিবীর সব বড় বড় টিমকে শুধু নাকানি চুবানিই খাওয়ায় নাই, একেবারে বিধ্বস্ত করে ছেড়ে দিয়েছিল। তাদের সাথে খেলায় সবাই জিতার চেষ্টা তো দূরে থাকে চিন্তা করত দুয়েকটা গোল যাতে কম খায়। রিয়াল মাদ্রিদের মত চরম আক্রমনাত্বক দলও বার্সার সামনে কাউন্টার এটাকের উপর নির্ভর করত। তারপরও রক্ষা হয় নাই। ৪/৫ টা গোল খাওয়া ছিল স্বাভাবিক ব্যাপার। এরা এক ইয়ারে হায়েস্ট পসিবল ৬ টা শিরোপা জিতছে। ৬ বছরে ৩ বার চ্যাম্পিয়ন্স লীগ জিতছে।

পার্টি টাইম!

 

মোট কথা বার্সা ফুটবল বিশ্বকে শাসন করেছে প্রবল প্রতাপে। আর তাই সমর্থকের পাশাপাশি তৈরি হয়েছে বার্সার হেটার। যাদের হেটিংয়ের মূলে আছে পৃথিবীর সেরা প্লেয়ার, সেরা টিম তাদের না হওয়ার ঈর্ষা। যাদের হেটিং শুরু হয়েছে বার্সা কর্তৃক তাদের টিম বিধ্বস্ত হওয়ার পর থেকে।

যে রেকর্ড ভাঙ্গা যাবে না কভু…

 

কিন্তু দিনের শেষে একজন বার্সা সমর্থক হিসেবে, একজন কিউল হিসেবে বলতে চাই- হেটারস গনা হেট! পটেটোস গনা পটেট!
ভিস্কা এল বার্সা <3

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

two × 5 =