বাংলার ক্রিকেটের সুপারম্যান-২

শোন শোন বোলারগণ, শোন শোন দিয়া মন,
আমি এসেছি চার ছক্কা হাঁকাতে।
ব্যাটসম্যানদের বলছি হাই, সাবধানে থেকো তাই,
ঘূর্ণি জাদু আছে আমার বলেতে।
আমি সোজা পথে চলি,
খুলে মনের কথা বলি,
তবে চ্যালেঞ্জ দিলে করবো কিস্তিমাত।
মাগুরার পোলা, ভেরি ভেরি স্মার্ট!
মার কাটারি ব্যাটিঙেতে পোলা নাম্বার ওয়ান,
ঘূর্ণির মায়ায় উইকেট শিকারে পোলা চ্যাম্পিয়ন।
আমায় হিরো বলে লোকে,
থাকি দিব্যি হাসিমুখে,
পারফরম্যান্সেই এই Haters রা কাত। 
মিঃ 75, Very Very Smart!
ওড়াই লাল সবুজ সুখে,পুরো ক্রিকেট বিশ্বের বুকে,
করিনা কাউকে ভয়, মনে নেই কোন সংশয়,
জানি কি করে হয় করতে বাজিমাৎ!
সাকিব আল হাসান, ভেরি ভেরি স্মার্ট!

আপনাদের অনেকের হয়তো মনে আছে ঢাকার পোলা ভেরি ভেরি স্মার্ট গানের কথা। অনন্ত জলিলের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি প্যারোডি করার জন্য। কিন্তু চ্যাম্পিয়নরাই তো সব থেকে স্মার্ট হয়, তাই এই গানের কথা গুলো সাকিব কেই মানায়।

চ্যালেঞ্জ দিলে কি হয়- সেটা প্রতিপক্ষ ভালোই জানে। ২০০৮ এ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৬১ বলে ৯২ রান করে বোনাস পয়েন্ট নিয়ে দলকে ফাইনালে তুললেন। সদ্য অভিষিক্ত ক্রিকেটারের পক্ষে মুরালির শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এমন করাটা শুধু স্বপ্নেই বেশি মানাত, কিন্তু তার খেলা দেখে মনে হল না তিনি সদ্য অভিষিক্ত। সেই দিনই বুঝা গিয়েছিলো, এ ছেলে অন্য ধাতুতে গড়া। ভয়ের লেশ মাত্র নেই মনে, তাই বলে কাউকে অসম্মান করেছেন অকারণে- এ কথা কেউ বলতে পারবে না। তবে পায়ে পা বাধিয়ে ঝগড়া করতে গেলে তার উত্তর কেমন হয়, সেটা ওয়াহাব রিয়াজ কে জিজ্ঞেস করে দেখুন। বাংলাদেশ- পাকিস্তান সিরিজের এক টেস্টে রিয়াজের দিকে আঙ্গুল তুলেছেন সাকিব- সেটা ছিল ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম আলোচিত দৃশ্য।
সেই পাকিস্তান সিরিজের আগে সাকিব বলেছিলেন, আমরাই ফেভারিট! তখন সবার চোখ কপালে উঠেছিলো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিজয়ী কে?- লাল সবুজের বাংলাদেশ! তাও আবার এমনভাবে বাংলা ধোলাই দেওয়া হল পাকিদের- দেখে মনে হচ্ছিলো পাকিস্তান নয়, খেলছে পাপুয়া নিউ গিনি!

তার উত্তুঙ্গ আত্মবিশ্বাস, পাহাড়সমান চাপের মুখেও এমন মিষ্টি হাসি ধরে রাখার ক্ষমতা- এসব বাংলাদেশের ক্রিকেটে নতুন! তাই তাকে নিয়ে ক্রেজ টা অন্য অনেকের চেয়ে বেশি।

অধিনায়ক সাকিবকে নিয়ে আক্ষেপ আমি প্রকাশ করেছিলাম আমার এই সিরিজের প্রথম লেখায়। এবার দেখুন সাকিব অধিনায়ক থাকা কালে আমাদের সাফল্য- ২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজে ম্যাশ ইঞ্জুরিতে পড়ার ফলে সাকিব অধিনায়ক! তরুণ সাকিবের কাঁধে তখন বিরাট দায়িত্ব। এই দ্বিতীয় শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে হারলে সবাই কচুকাটা করবে, সেটা তিনি জানতেন। ঐ সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে কেমার রোচের রুদ্রমূর্তির সামনে বুক চিতিয়ে দাড়িয়ে তার সেই ৯৬ রানের ইনিংস- টেস্ট ইতিহাসের অন্যতম সেরা ইনিংসের মর্যাদা পাবে। নতুন কিছু করা, বিপক্ষকে চমকে দেওয়া, আক্রমণাত্মক অধিনায়কত্ব- সব মিলিয়ে ম্যাশ আসার আগে সাকিব ছিলেন বাংলার সেরা অধিনায়ক। তার নেতৃত্বেই আমরা কিউইদের বাংলা ধোলাই করি ২০১০ এ। শুধু নেতৃত্ব নয়, ব্যাট বল দু হাতেই সমান উজ্জ্বল সাকিব একাই কিউইদের হারিয়েছেন- এমন স্বীকারোক্তি করেছিলেন তখনকার কিউই কোচ গ্রেটব্যাচ। ২০১১ বিশ্বকাপে তার নেতৃত্বে খেলা এবং তার পরে তার বিদায়- এ সবই ছিল চূড়ান্ত অপেশাদার দৃষ্টিভঙ্গির প্রমাণ। অফ দ্য ফিল্ড তার অনেক অসঙ্গতি ছিল মানলাম, কিন্তু তিনি সেগুলো কাটিয়ে উঠতে পারতেন, সে ব্যাপারে তাকে সাহায্য করা যেত। আমি এখনও মনে করি, টেস্ট অধিনায়ক হওয়া উচিত সাকিবের। মুশফিক আমাদের সেরা ব্যাটসম্যান, তিনি থাকুন এভাবে আর কিপিং ও করতে থাকুন।

অপ্রিয় সত্য মুখের উপর বলে দেওয়াতে সাকিবের জুড়ি নেই, আর সেজন্যই তার হ্যাঁটার বা ঘৃণাকারিরও অভাব নেই। কিন্তু এদের বিন্দু মাত্র পাত্তা দিলে চলবে না বিশ্বসেরা সব্যসাচী। আপনি আপনার মতোই খেলে যান।
দুর্দান্ত মানসিক শক্তি আর উত্তুঙ্গ আত্মবিশ্বাস দেখে সাকিব কে মনে হয় নজরুলের বিদ্রোহী, যার মাথা কখনো নিচু হবার নয়-
বল বীর, চির উন্নত মম শির,
শির নেহারি আমারি নত শির ঐ শিখর হিমাদ্রির।
আমি বেদুইন আমি চেঙ্গিস,
আমি আপনারে ছাড়া করিনা কাহারে কুর্নিশ।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

one × three =