ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মিডফিল্ডে ব্রাজিলীয় ছন্দ : ফ্রেড

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মিডফিল্ডে ব্রাজিলীয় ছন্দ : ফ্রেড

৫২ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে ইউক্রেনের ক্লাব শাখতার দোনেতস্ক থেকে ব্রাজিলীয় সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার ফ্রেড কে দলে নিয়ে এসেছে হোসে মরিনহোর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। চুক্তি পাঁচ বছরের।

ইউনাইটেডের মিডফিল্ডের এমনিতে অত ভালো অবস্থা নেই বর্তমানে। বিশ্বের সবচেয়ে দামী খেলোয়াড় হয়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে আসা ফরাসী মিডফিল্ডার পল পগবা নিজের জাত চেনাতে পারেন কদাচিৎ। তাঁর সাথে যুক্ত হয়েছে এই মৌসুমের পর মাইকেল ক্যারিক ও মারুয়ান ফেলাইনির মত মিডফিল্ডারের চলে যাওয়া। এই অবস্থায় দলের মিডফিল্ডের মান বাড়াতে ভালো কোন মিডফিল্ডার আনতেই হত কোচ হোসে মরিনহোকে। এমন মিডফিল্ডার যে কিনা একই সাথে দলের মিডফিল্ডের মান বাড়াতে পারে ও পল পগবাকে তাঁর স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে সহায়তা করে। শাখতার দোনেতস্কের এই মিডফিল্ডার এই কাজটা বেশ ভালোভাবেই করতে পারবেন বলে বিজ্ঞজনের মতামত।

ফ্রেড কে কিভাবে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে ব্যবহার করতে পারবেন হোসে মরিনহো? শাখতারের গত কয়েক মৌসুমের ম্যাচে ফ্রেড এর খেলা (বিশেষত সদ্য শেষ হওয়া চ্যাম্পিয়নস লিগের মৌসুমে ম্যানচেস্টার সিটির সাথে শাখতারের খেলায়) বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও ইউটিউবের ভিডিও দেখে যা মনে হল, ট্যাকটিক্যালি বেশ পোক্ত একজন মিডফিল্ডার পেতে যাচ্ছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। পাঁচ ফুট ছয় ইঞ্চি উচ্চতার সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার হলেও প্রতিপক্ষের আক্রমণ ভেঙ্গে দিয়ে নিজের দলের হয়ে আক্রমণ শুরু করার ক্ষেত্রে ফ্রেডের জুড়ি নেই। কখনই প্রতিপক্ষের কাছ থেকে চার্জ বা ট্যাকল করে বল কেড়ে নিয়ে আক্রমণ শুরু করতে পিছপা হন না, যার প্রতিফলন পাওয়া যায় পরিসংখ্যানে। গত মৌসুমে শাখতার দোনেতস্কের সবচেয়ে বেশী সফল ট্যাকল করা খেলোয়াড় এই ফ্রেডই ছিলেন, চ্যাম্পিয়নস লিগে প্রতি ম্যাচে গড়ে ২.৯ বার করে প্রতিপক্ষকে বলের জন্য চ্যালেঞ্জ করতেন। শাখতারের হয়ে লিগে গত মৌসুমে ১৯ ম্যাচ খেলা ফ্রেড ১৩ বার হলুদ কার্ড ও ১ বার লাল কার্ড খেয়েছেন, যা তাঁর খেলার স্টাইলের  হার-না-মানা ভাবটা প্রকাশ করে বেশ ভালোমত। ট্যাকল করা ছাড়াও, স্বভাবজাত ব্রাজিলীয় ছন্দ তো আছেই। ফলে ফ্রেড কে এই সময়ের অন্যতম প্রতিশ্রুতিশীল বক্স-টু-বক্স সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার বলা হলে ভুল বলা হবেনা। অর্থাৎ প্রতিপক্ষের আক্রমণ নস্যাৎ তো করেনই, সাথে নিজের দলের আক্রমণটাও গড়ে দিয়ে প্রায়ই প্রতিপক্ষের ডি-বক্সের আশেপাশে সুযোগের জন্য ঘোরাফেরা করেন শট নেবার জন্য। ইউক্রেইনে অনেক সময় দেখা যায় মানহীন পিচ, বরফের মধ্যে খেলতে হয় খেলোয়াড়দের, অর্থাৎ সেরকম প্রতিকূল পরিবেশেও খেলে খেলে অভ্যস্ত ফ্রেড। গত কয়েক বছর ধরে নিয়মিত চ্যাম্পিয়নস লিগ ও ইউরোপা লিগে খেলার ফলে তাঁর ইউরোপে খেলার অভিজ্ঞতাও আছে যথেষ্ট যা এই ইউনাইটেড স্কোয়াডে অনেক গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মিডফিল্ডে ব্রাজিলীয় ছন্দ : ফ্রেড
gollachhut.com

৪-৩-৩ ফর্মেশনে নেমানিয়া মাতিচকে ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসেবে রেখে পল পগবাকে বামে রেখে ডানদিকের সেন্ট্রাল মিডফিল্ড পজিশনে খেলতে পারেন ফ্রেড। পুরো সেন্ট্রাল ডিফেন্সের মাঝে মাতিচ একজন আদর্শ ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারের কাজ করে যাবেন, আর পগবা বা ফ্রেড এর মত অপেক্ষাকৃত গতিশীল খেলোয়াড়েরা একইসাথে পুরো মাঠ দাপিয়ে খেলতে পারবেন। ওদিকে পল পগবার মাঝে মাঝেই রক্ষণের কথা ভুলে গিয়ে আক্রমণ করতে চাওয়ার জন্য গত মৌসুমে দেখা গিয়েছিল নেমানিয়া মাতিচ পরে গতিহীনতার কারণে একা প্রতিপক্ষের আক্রমণ সামলাতে পারছেন না, ফ্রেড এর গতিময় উপস্থিতি সেক্ষেত্রে অনেক কার্যকরী হতে পারে। মাতিচ আর পগবা ছাড়াও এই ফর্মেশানের বাকী জায়গাটায় গত মৌসুমে স্কট ম্যাকটমিনায় ও অ্যান্ডার হেরেরাকে খেলিয়ে অত লাভ পাননি মরিনহো, ফ্রেড এর আগমন সেই পজিশনে মূল একাদশের মান বেশ বাড়াবে বৈকি! আবার ৪-২-৩-১ ফর্মেশনে পগবাকে নাম্বার ১০ হিসেবে খেলিয়ে পেছনে ফ্রেড ও মাতিচকে খেলিয়ে দলের রক্ষণের দিকটা আরেকটু মজবুত করে পগবাকে আক্রমণাত্মক খেলার স্বাধীনতাও দেওয়া যেতে পারে।

শাখতার দোনেতস্ক থেকে এর আগে যারাই প্রিমিয়ার লিগে খেলতে এসেছেন – ফার্নান্দিনিও (ম্যানচেস্টার সিটি), উইলিয়ান (চেলসি), হেনরিক মিখিতারিয়ান (আর্সেনাল) ; কেউই কখনো ফ্লপ করেননি। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ভক্তরা আশা করবেন ফ্রেড এর বেলাতেও যেন সেটা না হয়!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

20 + 4 =