বিশ্বকাপ ২০১৮ : টিম প্রিভিউ – ফ্রান্স

বিশ্বকাপ ২০১৮ : টিম প্রিভিউ - ফ্রান্স

এবারের বিশ্বকাপ এর অন্যতম ফেভারিট দল হল ফ্রান্স। গত ইউরোর ফাইনালিস্ট ফ্রান্সের প্রতিভাধর খেলোয়াড়ের কোনই অভাব নেই। বলা হচ্ছে, বিশ্বকাপজয়ী সেই জিদানদের জেনারেশনটার পর এবারই ফ্রান্সের ফুটবল ইতিহাসে সবচেয়ে বেশী প্রতিভার ছড়াছড়ি দেখা যাচ্ছে। কি ডিফেন্স, কি মিডফিল্ড, কি অ্যাটাক – সবজায়গায় এতই কার্যকরী খেলোয়াড়ের সমারোহ, কোচ দিদিয়ের দেশম কাকে ছেড়ে ছেড়ে কাকে নেবেন, এ সমস্যায় পড়তেই পারেন! আজকে ফ্রান্স কোচ দিদিয়ের দেশম বিশ্বকাপ এর জন্য ২৩ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করলেন। দেখা যাক, স্কোয়াডে তিনি কাকে নিলেন, আর কে কে বাদ পড়লেন!

গোলরক্ষক

  • হুগো লিওরিস (টটেনহ্যাম হটস্পার)
  • আলফোনস আরেওলা (প্যারিস সেইন্ট জার্মেই)
  • স্টিভ মানদান্দা (অলিম্পিক মার্শেই)

ডিফেন্ডার

  • স্যামুয়েল উমতিতি (বার্সেলোনা)
  • রাফায়েল ভ্যারেন (রিয়াল মাদ্রিদ)
  • প্রেসনেল কিমপেম্বে (প্যারিস সেইন্ট জার্মেই)
  • আদিল রামি (অলিম্পিক মার্শেই)
  • লুকাস হার্নান্দেজ (অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ)
  • বেঞ্জামিন পাভার্ড (ভিএফবি স্টুটগার্ট)
  • বেঞ্জামিন মেন্ডি (ম্যানচেস্টার সিটি)
  • জিব্রিল সিদিবে (মোনাকো)

মিডফিল্ডার

  • এনগোলো কান্তে (চেলসি)
  • পল পগবা (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড)
  • স্টিভেন এনজনজি (সেভিয়া)
  • ব্লেইজ মাতুইদি (জুভেন্টাস)
  • কোরেন্তিন তোলিসো (বায়ার্ন মিউনিখ)
  • নাবিল ফেকির (অলিম্পিক লিওঁ)
  • ওসমানে দেম্বেলে (বার্সেলোনা)
  • থমাস লেমার (মোনাকো)
  • ফ্লোরিয়ান থাউভিন (অলিম্পিক মার্শেই)

স্ট্রাইকার

  • অলিভিয়ের জিরু (চেলসি)
  • আতোয়াঁ গ্রিজম্যান (অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ)
  • কিলিয়ান এমবাপ্পে (প্যারিস সেইন্ট জার্মেই)

সুযোগ পাননি যারা

  • দিমিত্রি পায়েত (অলিম্পিক মার্শেই)
  • আয়মেরিক লাপোর্ত (ম্যানচেস্টার সিটি)
  • অ্যালেক্সান্দ্রে লাকাজেট (আর্সেনাল)
  • অ্যান্থনি মার্সিয়াল (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড)
  • লরাঁ কসিয়েনি (আর্সেনাল)
  • মামাদু সাখো (ক্রিস্টাল প্যালেস)
  • লুকাস ডিনিয়ে (বার্সেলোনা)
  • কিংসলে কোমান (বায়ার্ন মিউনিখ)
  • উইসাম বেন ইয়েদার (সেভিয়া)
  • বেনোয়া কস্টিল (বোর্দো)
  • ম্যাথিউ ডেবিউশি (সেইন্ট এতিয়েঁ)
  • আদ্রিয়েন রাবিওত (প্যারিস সেইন্ট জার্মেই)
  • মুসা সিসোকো (টটেনহ্যাম হটস্পার)
  • কার্ট জুমা (স্টোক সিটি)
  • ইয়োহান কাবাই (ক্রিস্টাল প্যালেস)
  • মর্গান শ্নাইডারলিন (এভারটন)
  • এলিয়াকুইম মাঙ্গালা (ভ্যালেন্সিয়া)

স্কোয়াড দেখে বুঝতেই পারছেন, কাজটা সহজ ছিল না দিদিয়ের দেশমের জন্য। বেশ অনেকেই বাদ পড়েছেন ২৩ দলের স্কোয়াড থেকে। ইউরো ২০১৬ স্কোয়াড থেকে মাত্র ৯ জনের সৌভাগ্য হয়েছে এই বিশ্বকাপ এর স্কোয়াডে থাকার। দলে এসেছেন অনেক নতুন চমকও – এনজনজি, ফেকির, থাউভিন, কিমপেম্বে, রামি, পাভার্ড প্রমুখ।

বিশ্বকাপ ২০১৮ : টিম প্রিভিউ - ফ্রান্স

দলে গোলরক্ষক হিসেবে সুযোগ পেয়েছেন টটেনহ্যামের হুগো লিওরিস, পিএসজির আলফোনস আরেওলা ও অলিম্পিক মার্শেইয়ের স্টিভ মানদান্দা। এদের মধ্যে মূল একাদশে অবশ্যই সুযোগ পাচ্ছেন অধিনায়ক হুগো লিওরিস। ইউরো ২০১৬ তে ৪-৪-২ ফর্মেশনে খেলা ফ্রান্স এবার খুব সম্ভবত তাদের ফর্মেশনের পরিবর্তন করলেও করতে পারে। চারজন ডিফেন্ডারের মধ্যে দুইজন থাকবেন সেন্টারব্যাক, একজন করে রাইটব্যাক ও লেফটব্যাক। সেন্টারব্যাক হিসেবে এই দলে রয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের রাফায়েল ভ্যারেন, বার্সেলোনার স্যামুয়েল উমতিতি, মার্শেইয়ের আদিল রামি ও পিএসজির প্রেসনেল কিমপেম্বে। এদের মধ্যে মূল একাদশে জুটি বাঁধবেন ভ্যারেন আর উমতিতি। রাইটব্যাক হিসেবে দলে রাখা হয়েছে মোনাকোর জিব্রিল সিদিবে আর ভিএফবি স্টুটগার্টের তরুণ সেনসেশান বেঞ্জামিন পাভার্ডকে। এদের মধ্যে মূল একাদশে থাকবেন সিদিবে। ওদিকে লেফটব্যাক হিসেবে দলে জায়গা করে নিয়েছেন ম্যানচেস্টার সিটির বেঞ্জামিন মেন্ডি ও অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের লুকাস হার্নান্দেজ। মৌসুমের একটা বড় অংশ ইনজুরিতে কাটালেও দিদিয়ের দেশম মূল একাদশে লেফটব্যাক পজিশনটার জন্য মেন্ডির উপরেই ভরসা রাখবেন।

চিরাচরিত ৪-৪-২ ফর্মেশনে যদি খেলে ফ্রান্স, তাহলে সেন্ট্রাল মিডফিল্ডে থাকবেন দুইজন। ২৩ সদস্যের এই স্কোয়াডে সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার হিসেবে রয়েছেন চেলসির এনগোলো কান্তে, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের পল পগবা, সেভিয়ার স্টিভেন এনজনজি, বায়ার্ন মিউনিখের কোরেন্তিন তোলিসো ও জুভেন্টাসে ব্লেইজ মাতুইদি। এদের মধ্যে মূল একাদশের দুই সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার হিসেবে খেলার সম্ভাবনা সবচাইতে বেশী পগবা ও কান্তে’র। ওয়াইড মিডফিল্ডার/উইঙ্গার হিসেবে দলে আছেন মার্শেইয়ের ফ্লোরিয়ান থাউভিন, বার্সেলোনার ওসমানে দেম্বেলে, মোনাকোর থমাস লেমার, অলিম্পিক লিওঁর নাবিল ফেকির। এদের মধ্যে দলে থাকার সম্ভাবনা সবচাইতে বেশী ওসমানে দেম্বেলে ও থমাস লেমারের। যদিও ফেকির আর থাউভিন এ মৌসুমে নিজ নিজ ক্লাবের হয়ে খেলেছেন দুর্দান্ত।

স্ট্রাইকে রয়েছেন দিদিয়ের দেশমের প্রিয় শিষ্য, ফ্রান্সের হয়ে অত্যন্ত কার্যকরী স্ট্রাইকার চেলসির অলিভিয়ের জিরু। আছেন অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের সুপারস্টার আতোয়াঁ গ্রিজম্যান। আর আছেন পিএসজির আক্রমণভাগের ত্রিরত্নের একজন – কিলিয়ান এমবাপ্পে। কাকে ছেড়ে কাকে খেলাবেন দেশম? ৪-৪-২ ফর্মেশানে খেলাতে গেলে এই তিনজনের মধ্যে যেকোন দুইজনকে খেলাতে হবে তাঁর। তাই বলা হচ্ছে দলে যেহেতু সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার ওরকম নির্ভর করার মত অত নেই, আর যেহেতু টার্গেটম্যান স্ট্রাইকার হিসেবে জিরুই আছেন, সেহেতু ৪-৪-২ বাদ দিয়ে ৪-২-৩-১ বা ৪-৩-৩ ফর্মেশানে চাইলে দলকে খেলাতে পারেন দিদিয়ের দেশম।

মার্শিয়াল, পায়েত, কসিয়েনি, রাবিওত সহ আরও অনেক প্রতিভাধর খেলোয়াড়কে কেন নেওয়া হল না, এর পেছনে বেশ কিছু কারণ দেখানো যায়। মার্শিয়ালকে হোসে মরিনহো ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে নিয়মিত খেলান না, যে কারণে মার্শিয়াল ইউনাইটেড ছাড়তেও পারেন। এ না খেলানোর জন্যই ফ্রান্স দলে জায়গা হারিয়েছেন তিনি। লরাঁ কসিয়েনি ও দিমিত্রি পায়েত জায়গা হারিয়েছেন ইনজুরির কারণে, আর অ্যালেক্সান্দ্রে ল্যাকাজেটেকে নেওয়া হয়নি কেননা তাঁর পজিশনে ফ্রান্স দলে এমবাপ্পে, গ্রিজম্যান ও জিরু সবাই ভালো খেলেন তাঁর থেকে। সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার আদ্রিয়েন রাবিওতের পিএসজির হয়ে পারফরম্যান্স আর ফ্রান্সের হয়ে পারফরম্যান্সের আকাশ-পাতাল তফাত, যে কারণে জায়গা হারিয়েছেন তিনি। দলে জায়গা পাননি ম্যানচেস্টার সিটির ইতিহাসের সবচেয়ে দামী সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার আয়মেরিক লাপোর্তে। এর কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে দলে ভ্যারেন ও উমতিতি দুইজনই বাম পায়ের সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার, তাঁর উপর আবার লাপোর্তেকে নেওয়া হলে দলে বামপায়ের সেন্ট্রাল ডিফেন্ডারই হয়ে যেত তিনজন। তাই লাপোর্তেকে না নিয়ে মার্শেইয়ের হয়ে দুর্দান্ত মৌসুম কাটানো আদিল রামি কে নিয়েছেন তিনি। এমনকি রিজার্ভ বেঞ্চেও রাখা হয়নি লাপোর্তেকে।

কোচ দিদিয়ের দেশমের এইসব ছোটখাট জুয়া কি কাজে লাগবে? দিদিয়ের দেশম কি পারবেন খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপ জয়ের পর কোচ হিসেবেও বিশ্বকাপ জয় করতে? চোখ রাখুন বিশ্বকাপে!

স্কোয়াড প্রিভিউ দেখুন আরও –

কমেন্টস

কমেন্টস