ফেবারিট ছাড়া ফাইনাল

আর কয়েক ঘন্টা্র অপেক্ষা । তারপরেই বিগ ফাইনাল দিয়ে পর্দা নামবে ক্রিকেটের সবচাইতে বড় বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট ওয়ানডে বিশ্বকাপের একাদশ আসরের । বড় টুর্নামেন্টের ফাইনালগুলো সব সময়েই এমন হয় যেখানে দুই দলের শক্তি দুর্বলতা নিয়ে কথাবার্তা কমই বলা হয় । কারণ, ম্যাচদুটো এমন দুটো দল খেলে যারা একটা লম্বা টুর্নামেন্ট পেরিয়ে এসেছে সফলতার সাথে । টুর্নামেন্ট জুড়ে তাদের ভাগ্য তাদের সঙ্গ দিয়েছে , তাদের দলে এমন কেউ না কেউ থাকে যে কিনা পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে রাজ করেছে প্রতিপক্ষের উপরে ।

একটা কথা জানেন? ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার যত হেটার তাদের সিংহভাগই এসেছে রিকিপন্টিং এর সময় । কারণটা হলো একটা দল তাদের আধিপত্য দিয়ে খেলাটাকে কতোটা একপেশে করে তুলতে পারে সেটা পন্টিং এর অস্ট্রেলিয়া ছাড়া আর কে দেখিয়েছে ? তাদের এ রাজের বাইরে থাকে নি বিশ্বকাপও । ২০০৩ আর ২০০৭ এর বিশ্বকাপের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার সাথে ভারত আর শ্রীলংকা উঠেছে বটে , কিন্তু ভারত আর শ্রীলংকার কতজন আশাবাদী লোক আশা করেছে যে , তাদের দল পন্টিং এর অজি স্কোয়াডকে টপকে কাপ এশিয়ায় নিয়ে আসবে ? সংখ্যাটা খুবই কম ভাই ! খুবই কম !

সে হিসেবে লেটার মার্ক পেয়ে পাশ এবারের ফাইনাল । ফাইনালের আগে দুটো দলের একটা মোকাবেলায় হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পরে জিতেছে নিউজিল্যান্ড । কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাস আর নিষ্ঠুর রকমের প্রফেশনালিজমের কথা ভাবলে অজিদের পক্ষে বাজি ধরতে মনে চাইবে আপনার । শেষমেষ হয়তো আবেগের বশে একটা দলের পক্ষ নিয়েই ফেলবেন । তবে ম্যাচের আগে স্বীকার করতেই হবে , গত কয়েক বিশ্বকাপের মধ্যে ম্যাচের আগের হিসেবনিকেশ বিচার করে সবচেয়ে এক্সাইটিং ফাইনাল এটি ।

দুটো দলের ব্যাটিং লাইনকে পাশে রাখলে মিডল অর্ডার আর শক্তিশালী লোয়ার মিডল অর্ডারের কারনে একটু হলেও এগিয়ে রাখবো অজিদের । তবে এটা ভুলে গেলে চলবে না ,ব্ল্যাকক্যাপস ওপেনার গাপটিল ৭৬ গড়ে ৫৩২ রান করে লিডারবোর্ডের ২ নাম্বার জায়গাটির মালিক । সাথে পাচ্ছেন ফুটতে থাকা ম্যাককুলামকে । একটা ম্যাককুলাম ইনিংস বা একটা গাপটিল ইনিংস ম্যাচ থেকে ছিঁটকে দিতে যথেষ্ট । কিউইদের ম্যাক থাকলে অজিদের আছে ওয়ার্নার । আর এটা কার না জানা যে ওয়ার্নারদের মত ব্যাটসম্যানদের ফর্ম বা অফফর্ম নিয়ে তেমন ভাবতে হয় না । বিস্ফোরণটা হলে বড়সড়ই হবে । অস্ট্রেলিয়ার স্থিতির জায়গার নাম স্টিভ স্মিথ সাড়ে ৩শর কাছাকাছি রান নিয়ে লিডারবোর্ডের ৯ নম্বরে স্মিথ । স্মিথ-ক্লার্কের পাশে টেলর আর কেইনকে রাখলে এগিয়ে থাকবে অজিরা ।

দ্যা ফিয়ারফ্যাক্টর !
দ্যা ফিয়ারফ্যাক্টর !

গ্লেন ম্যাক্সওয়াল ইনোভেটিভ ব্যাটিংকে নিত্য নিয়ে যাচ্ছেন অন্য পর্যায়ে । আর দরকারের সময় কোরি এন্ডারসন আর এলিয়ট কি করতে পারেন তার হিসেব তারা দক্ষিণ আফ্রিকার সাথে সেমিতেই দিয়েছেন । তবে একটা ব্যাপার মাথায় আপনাকে রাখতেই হবে এই অস্ট্রেলিয়ায় জনসনের মত ক্লিনহিটারকেও শেষের দিকে নামতে হয় … যেকোন পরিস্থিতি থেকে ব্যাটিং দিয়ে ম্যাচ ঘোরানোর ক্ষমতাটা তাই তাদের বেশি ।

অজিদের ভয় গাপটিলকে
অজিদের ভয় গাপটিলকে

নিউজিল্যান্ড সারাটা টুর্নামেন্ট খেলেছে নিজেদের মাঠে । অকল্যান্ড হোক আর ক্রাইস্টচার্চ – নিউজিল্যান্ডের সবগুলো মাঠই অস্ট্রেলিয়ার মাঠগুলো থেকে বেশ ছোট । আর ফাইনালটা হচ্ছে মেলবোর্নে । অন্য মাঠের ছক্কাও যেখানে সহজেই মাঝে মাঝে ফিল্ডারের হাতে জমে যায় অনায়াসে । তবে কিউইদের সান্ত্বনা এই মাঠে অস্ট্রেলিয়া আর নিউজিল্যান্ড সর্বশেষ যে ম্যাচটি খেলে তাতে শেষ হাসি হাসে নিউজিল্যান্ডই । সেটা অবশ্যি ৬ বছর আগে ২০০৯ এর কথা । আর ইতিহাস ঘাটলে নিউজিল্যান্ডকে ভয়ই পেতে হবে । অস্ট্রেলিয়া এখানে তাদের খেলা শেষ ৬টি ম্যাচই জিতেছে তাদের মতো করে ।

ক্রিকিনফো
সেরা দিনে অজি পেইস এটাক গুড়িয়ে দিতে পারে সবাইকে

বোলিং এ অস্ট্রেলিয়ার স্বস্তি জনসনের ফর্মে ফেরার ব্যাপারটি । আর বোল্ট-স্টার্কের লড়াই যে জমজমাট হবে তা তো বলে দেয়া যায় হলফ করে । বোলিং এর লিডারবোর্ডের প্রথম দুটো জায়গাই দুজনের । বোল্টের ২১ উইকেট আর স্টার্কের ২০ উইকেট । তবে মাঠটা বড় হওয়াতে দু দলের মধ্যে পার্থক্য গড়ে দেবার ক্ষমতাটা রাখেন বর্ষীয়ান স্পিনার ডেনিয়েল ভেট্টোরি ।

এমসিজিতে হাতছানি দেয় রোমাঞ্চ
এমসিজিতে হাতছানি দেয় রোমাঞ্চ

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৩৫ টা জয়ের বিপক্ষে ৮৫টি হারের স্বাদ পেতে হয়েছে নিউজিল্যান্ডকে । তবে আগেই বলেছি , ফাইনালের আগে এগুলোকে ধরে নিন স্রেফ বোবা পরিসংখ্যান । মাঠের ১০০ ওভার … খেলাটা ওখানেই ! দুদলেরই পাবার আছে অনেক কিছু , হারাবার আছে অনেক কিছু । এত বড় টুর্নামেন্টের ফাইনালে আন্ডারডগ বলে কিছু নেই । মেলবোর্নের বিগ ফাইনাল … ফেবারিট ছাড়া ফাইনাল ।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

15 − ten =