ফেইথ, বিলিফ, ট্রাস্ট

::::: রিয়াদ ইবনে মুসা :::::

 

আমার বয়স ছিলো তখন ১৪। হিস্টোরি ফ্রিক হওয়ায় এবং টিপু সুলতান সিরিজটার কিছু ইফেক্ট থাকায় এবং সিপাহি বিদ্রোহ, ইত্যাদি নিয়ে বেশ কিছু বই পড়ায় (উদাহরণঃ স্টিম হাউস) আমি তখন চরম আকারে ইংল্যান্ড হেটার। এর মধ্যেই, ইউরোতে মুখোমুখি ইংল্যান্ড – পর্তুগাল, মেবি সেকেন্ড রাউন্ড বা কোয়ার্টার ফাইনালে, খেয়াল নাই। এক ম্যাচের জন্য আমি সেদিন পর্তুগাল সাপোর্টার।

সেই শুরু। কৈশোরে পা দেওয়া একটা ছেলে পেপারে ছাপানো পতাকা দেখে দেখে ডাইনিং টেবিলে বসে রাত জেগে পতাকা আঁকছে, সিন টা চিন্তা করতেও এখন ভালো লাগে। হাতে আঁকা পতাকাটা এখনো আছে। ১২ বছর বয়স সেটার, ছিড়ে গেছে জায়গায় জায়গায়, কিন্তু আছে 🙂 যত্ন করে রেখে দিয়েছি।

সেবছর পাই নাই।

এরপর যখন কলেজে পড়ি, ২০০৬; নটরডেম থেকে আসার সময় সারা গুলিস্তান ঘুরে পর্তুগালের পতাকা খুঁজে কিনে আনা। সারা গুলিস্তানে মেবি এই একটাই ছিলো। কার থেকে যেন কিছু টাকা ধারও করতে হয়েছিলো, অনিক মেবি। সেইবছরও পাই নাই। অপেক্ষার আনন্দটা কি পেতাম সেবার পেলে? প্রতি দুইবছর পরপর ছাদে পতাকা লাগিয়ে আসি। প্রতিবছর – অপেক্ষা করি। অপেক্ষা ফুরায় না। পতাকা খুলে নামিয়ে আনি। ভাজ করে রাখি আরেকটি বারের জন্য। ২০১০ সালে নেট ঘেটে ন্যাশনাল অ্যানথেম মুখস্ত করা। ২০১৪ তে অফিসে কামলা খাটুনি দিয়ে এসেও রাত জেগে পতাকা রঙ করা (এবার কাপড়ে)। অফিসে যাবার আগে সেই পতাকা ছাদে লাগানো। আরেকদিন কামলা খাটুনি দিতে যাওয়ার আগে খুলে নিয়ে আসা। ভাজ করে রাখা। আবার অপেক্ষা।

অনেকদিনের অপেক্ষা। অনেকদিনের জমানো কথা। অনেকদিনের অনেকের টিটকারি মুখ বুজে সহ্য করা।

আর আজ, ২৬ শেষ হওয়া প্রায় আমি, ১৪ বছর বয়সী আমার স্মৃতিটার মাথায় হাত রেখে বলি, অভিনন্দন বালক 🙂 দ্যাট ইউ অলওয়েজ বিলিভড, দ্যাট ইউ অলওয়েজ বিলিভ। অনেকদিনের একটা ট্রফির হাহাকার আজ শেষ হয়েছে তোমার।

ফেইথ, বিলিফ, ট্রাস্ট।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

three × three =