ফুটবল ভ্রাতৃত্ব

এল ক্ল্যাসিকো শুরু হতে মিনিট কয়েক বাকি । টানেল দিয়ে বের হচ্ছে স্বাগতিক বার্সেলোনা ও অতিথি রিয়াল মাদ্রিদ ।
ভিডিওতে ধরা পড়লো বার্সার সার্জিও বুস্কেটস আর মাদ্রিদের আলভারো মোরাতা কি যেন নিয়ে দুষ্টুমি হাসিতে ব্যস্ত । ওদিকে সিঁড়ির মাথায় লিও মেসি করমর্দন করলেন মার্সেলোর সঙ্গে । রোনালদো সতীর্থ নাচো ও ক্যাসিয়ার সাথে বুক মিলিয়ে ফিরলেন অন্যপাশে । সিঁড়ি ভেঙ্গে আসা মেসির সাথেও বুক মেলালেন তিনি ।
সারিবদ্ধ দু’দল যখন মাঠে ঢোকার শেষ প্রস্তুতিতে তখনই জর্দি আলবা এপাশে এসে গলা মিলিয়ে গেল সার্জিও রামোস ও ড্যানি কার্ভাহালের সাথে ।
আর মাঠে রোনালদো-মেসির ঐ ছবিটা ?
উফ. . সঙ্গায়িত করা অসম্ভব !
উপমার অভিধানও ব্যর্থ যেন এটিকে অলংকৃত করতে ।

15380311_1263962147007120_741600284539890461_n

খেলা চললো । পেশাদারিত্বে দু পক্ষই ভুলে গেল গলা মেলানো কিংবা উচ্ছ্বল দুষ্টমির কথা । তবে তা ৯৩ মিনিট ৩ সেকেণ্ডের বেশি দীর্ঘায়িত হয়নি ।
এরপর সেই টানেলেই আবার সেই দৃশ্য । যতসব রাইভালি যেন ধোপেই টিকলোনা । রামোস গিয়ে জর্দি আলবাকে জ্বালালো বেশ কিছুক্ষণ । এরপর বুস্কেটের সাথে বুক মিলিয়ে চলে গেল নিজের ড্রেসিংরুপে । রামোস-বুস্কেটস-আলবা ত্রয়ীর পাশেই ছিল তিন ক্রোয়াট ত্রয়ী মদ্রিচ-রাকিটিচ-কোভাসিচ । মদ্রিচ আর কোভা দুজনই জার্সি বদলালো রাকিটিচের সাথে ।
ওদিকে ড্রেসিংরুমের আশেপাশে কোথাও একটা বসলো ব্রাজিলিয়ান আড্ডা । মার্সেলো, নেইমার ও ক্যাসিমিরোর ঐ আড্ডার ছবিটি ভাতৃত্বের গান শুনিয়েছে গত দুইদিন ।

মাঠের ভেতরে আর বাইরের দুটো সত্ত্বাই আমরা দেখেছি । অথচ একপেশে গ্রহণ করছি মাঠের যুদ্ধটাকেই ।
ললনা কিংবা মাদারি বলে একে অপরকে বানিয়ে ফেলছি দুনিয়ার নিকৃষ্টতম প্রাণী ।
অথচ এই ফুটবল আমাদের সর্বাগ্রে শেখায় ভাতৃত্বের মুলমন্ত্র ।
অথচ ভ্রান্ত আমরা ক্লান্ত হইনা একে অপরের জন্ম ময়নাতদন্ত করতে ।

একজন মাদ্রিদ সমর্থক হিসেবে অবশ্যই আমি চাই বার্সেলোনার নিয়মিত ব্যর্থতা । তবে নোংরামিতে অনিষ্ট কামনা নয় ।
মেসি-রোনালদো গলা মেলাতে পারলে আমি আপনি কোন ক্ষেতের মূলারে ভাই ? বলছিনা রাইভালি ভুলে পিরিতের বাজার বসাতে হবে । বলছি যুদ্ধটা ৯০ কিংবা ৯৩ মিনিট ৩ সেকেণ্ডেই থাকুক ।
এবং অবশ্যই সেটি প্রতিপক্ষের প্রাপ্য সম্মান জানিয়ে ।
নিজের প্রিয় দল ও খেলোয়ারের গুনকীর্তন গাইতে যদি অন্যদের কুত্‍সা রটানো হয় তবে সেটা কিন্তু নিজেদেরই অপমান । মেসি বা রোনালদো, কিংবা রিয়াল মাদ্রিদ-বার্সেলোনা । কীর্তির আসর বসাতে গেলে সবারই নিজস্ব অর্জন খাজানা আছে । তাই অহেতুক প্রিয় কীর্তনে অন্যদের মুণ্ডু কর্তনের কি দরকার ?

খেলার মাঠে ডুবে যাক রাইভাল বার্সা । কিন্তু বাইরে ডুবে থাকি আমরা ফুটবল ভাতৃত্বের মিস্টি পানির হ্রদে ।

জয়তু ফুটবল !

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

11 − 7 =