ফুটবল অভিধান: ফরোয়ার্ড ও স্ট্রাইকার- পার্থক্য এবং বিস্তারিত(পার্ট-২)

সাধারণত অনেকের মাঝেই স্ট্রাইকার এবং ফরোয়ার্ড এর মধ্যে কনফিউশন থাকে। নেট ঘাটাঘাটি করে যা পেলাম এবং নিজের অভিজ্ঞতা মিশিয়ে সকলের কনফিউশন দূর করার জন্য একটু চেষ্টা করলাম নিজে। আশা করি এই লেখাটা পড়লে যাদের ফরোয়ার্ড এবং স্ট্রাইকার নিয়ে কনফিউশন ছিল তা কিছুটা হলেও দূর হয়ে যাবে।

স্ট্রাইকার

একজন প্রথাগত স্ট্রাইকার সাধারণত নীচে খুব কম নামে এবং বেসির ভাগ সময় তার পজিশন হয় ব্যাকলাইনের একটু আগে(অফ দা বল)। এবং অন দা বলে তিনি স্পেস নেয়ার চেষ্টায় থাকেন যাতে ডিস্ট্রিবিউটর তাকে বল ভালভাবে সাপ্লাই দিতে পারেন স্কোরিং এর জন্য। বক্স এর ভিতর তার মুভমেন্ট খুবই ইম্পরট্যান্ট কারন তিনি দলের মুল টার্গেট ম্যান। সাধারণত বক্সের বাইরে খুব বেশি তার আনাগোনা থাকেনা। বল পাওয়ার সাথে সাথেই তার কাজ মুলত পোস্টে শট নেয়া যদিনা একেবারেই অসম্ভব হয়। ফলে দেখা যাচ্ছে তিনিই দলের প্রথম এবং প্রধান স্কোরার যাকে লাইন করেই করেই বল যাবে বক্সে(মাইকেল ওয়েন)। আবার কোন কোন কোচ তাদেরকে এমন ভাবে টার্গেট ম্যান হিসেবে ব্যাবহার করেন যাতে ২য় ম্যান রিলিজ হয় এবং তার কাজ হচ্ছে ডিফেন্ডার টেনে নিয়ে যাওয়া যাতে ২য় ম্যান এর সামনে স্পেস তৈরি হয়(ফ্রান্স এর জিরু, মিলানের ভান বাস্তেন, চেলসির কস্তা) কখনও কখনও তিনি ফার্স্ট ম্যান থাকেন বল চারজিং এর ক্ষেত্রে (ইতালিয়ান ৩-৫-২ ফরমেশনে) যাতে গোলকিপার থেকে ফ্রিকুএন্টলি বল ডিস্ট্রিবিউট না হয়(ট্র্যাডিশনাল তিকিতাকা)।

ফরোয়ার্ড

কিন্তু ফরোয়ার্ড এর পজিশন যে শুধু বক্স এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ তা না। ফরোয়ার্ড স্ট্রাইকার এর তুলনায় অনেক বেশি ওয়াইড পজিশনে থাকে। তারা বক্স এ ঢুকে সাধারণত অনেকটা আচমকা। তাদের পজিশন বক্সের সামনে(মেসি, তত্তি,মুলার), ডানে(বেল,সাঞ্চেয) বা বামে(রোনাল্ডো, মার্শাল) যে কোন জায়গায়ই হতে পারে। তারা দলের মুল টার্গেট ম্যান না। তারা অনেক সময় বল সাপ্লাই দেয়(মেসি,রুনি) বা কখনও ২য় স্কোরার(গ্রিযমান,রোনালদো)। আগে উল্লিখিত পদ্ধতিতে তারা স্ট্রাইকার এর ডিফেন্ডার টেনে নিয়ে যাওয়ার সুযোগটা নেয় তাই বলে তারা পোঁচার না। দুই পাশের ফরওয়ার্ডরা সাধারণত অপনেন্ট এর উইংব্যাক কে প্রেসিং করে আর মাঝখানে যাদের পজিশন তাদের প্রেসিঙটা হয় মূলত অপনেন্ট এর রেজিস্তা বা এঙ্করকে। কখনও কখনও তারা প্রথাগত উইঙ্গারদের মতো তারা ক্রসিং ও করে(কোমান,পেদ্রো)। আবার স্ট্রাইকারদের সাথে ১-২-১ করে বক্সে বল নিয়ে ঢুঁকেও তারা গোলের সুযোগ তৈরি করে(নেইমার) বা একেবারেই জায়গা না পেলে লং ডিস্টেন্স শট নেয়। আবার কাট ইন করে নিজেও শট নেয় অনেক সময়(এটা খুব কাজে দেয় যখন ডিফেন্ডার দলের মেইন টার্গেট ম্যান মারকিং এ যায় অর্থাৎ কোচ যখন জোনাল মারকিং এর বদলে ম্যান মারকিং ট্যাঁকটিক্স ব্যাবহার করে) যেমন চেলসির হ্যাযারড। অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে ফরওয়ার্ডরা একি সাথে স্করিং এর পাশাপাশি বক্সের ভিতর ক্রস, থ্রু পাস, ১-২-১ এর মাধ্যমে টার্গেট ম্যান কে সহায়তা সব ধরনের কাজেই পারদর্শী হয়। একেক টিমে ফরোয়ার্ড রোল একেক রকম হয় সেই দলের কোচের ইচ্ছানুযায়ী। কিন্তু প্রথাগত স্ট্রাইকার সব প্রায় একি রকম।

মিশ্র ধরনের ফরোয়ার্ড

বর্তমানে কাগুজে বা একেবারেই পিউর কোন ফরওয়ার্ড পাওয়া যায়না যারা শুধু টিমে উল্লিখিত নির্দিষ্ট রোল প্লে করে থাকে বরং তারা মাল্টি-টাস্কিং। এরা একি সাথে ক্রসও করে, থ্রু-পাস দেয় আবার গোল করে যেমন রিয়ালের রোনাল্ডো, বার্সার মেসি। আবার ১-২-১ করে ভিতরে ঢুকে বা কাট ইন করে বক্সে ঢুকে শট নেয় এবং কখনও কখনও দূর থেকেও শট নেয় বা লম্বা পাস খেলে উইং সোয়াপ করে যেমন নেইমার, বেল। এই ধরনের ফরোয়ার্ডের চাহিদাই বর্তমানে বেশি কারন কোচেরা তাদের কাছ থেকে আক্রমন, গেম বিল্ডাপ এবং স্করিং সব একসাথে পেয়ে থাকেন এবং তারা দলে বৈচিত্র্য এবং ট্যাঁকটিকেল ফ্লেক্সিবিলিটী নিয়ে আসেন।

তবে কিছু কিছু প্লেয়ার আছে যারা প্রথাগত স্ট্রাইকার হয়েও দলে ফরোয়ার্ড বা স্ট্রাইকার রোল প্লে করে যখন যেটা দরকার ম্যাচে। যেমন(সুয়ারেয, টাকলু রোনাল্ডো)।

ভুলত্রুটি মাফ করবেন। অনেক কিছুই প্রত্যাশামত লিখতে পারিনাই। যে কোন সংশোধন আনন্দের সাথে গ্রহন করা হবে কার্টেসি উল্লেখ সহ। ধন্যবাদ।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

14 − 14 =