ফুটবলের বিস্ময়বালক মার্টিন ওডেগার্ড এখন রিয়াল মাদ্রিদে

প্তাহে ৮০,০০০ ইউরো, বাংলাদেশের টাকায় প্রায় ৭০ লাখ টাকা। হয়তো একজন খুব ভালমানের ফুটবল খেলোয়াড়ের বেতন হিসেবে এটা আহামরি কিছু না। কিন্ত যখন শুনবেন এই সাপ্তাহিক বেতন পাচ্ছেন ১৬ বছর বয়সী একটা ছেলে তখন চোখ কপালে না উঠে আর উপায় নেই। হ্যাঁ, মার্টিন ওডেগার্ডের কথাই বলছি। বার্সেলোনা, বায়ার্ন মিউনিখ, চেলসি, আর্সেনাল, লিভারপুল, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, ম্যানচেস্টার সিটি – ইউরোপের এই তরুন প্রতিভাকে সাইন করাতে কে না মরিয়া ছিল? কিন্তু শেষ পর্যন্ত এদের সবাইকে হটিয়ে ২.৩ মিলিয়ন ইউরোতে ওডেগার্ডকে রিয়াল মাদ্রিদে ভেড়ালেন রিয়াল মাদ্রিদ প্রেসিডেন্ট ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ।

Martin-Odegaard
রিয়াল মাদ্রিদের জার্সি হাতে ওডেগার্ড

খেলোয়াড়ি দক্ষতা অসাধারণ। মাঠে কার্যকারিতা এককথায় দুর্দান্ত। মাত্র ১৬ বছর বয়সেই পায়ে দারুণ সব টেকনিকের ফুলঝুড়ি ফোটান। মাঠের খেলায় দারুণ চতুর এবং দূরদর্শী, সাথে যোগ করুন গোলের সামনে প্রকৃতির মত শান্ত আচরন। এককথায় কমপ্লিট ট্যালেন্ট। একজন ১৬ বছর বয়সী হিসেবেও তিনি লক্ষণীয়ভাবে স্বার্থহীন। চেষ্টা করেন নিজে না করে সতীর্থদের দিয়ে গোল করাতে। স্ট্রমগডসেটের হয়ে গতবছর মাত্র ১৫ ম্যাচ খেলেই নিজে করেছেন ৫ গোল আর সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও ৭ টি। সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড় হিসেবে মাত্র ১৫ বছর ২৫৩ দিন বয়সে খেলেছেন ইউরোপীয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের বাছাইপর্বে। গত কয়েকদিনে সবার প্রত্যাশার পারদ এতটাই উঁচুতে উঠিয়ে দিয়েছেন যে তাঁর তুলনা এখন হচ্ছে হালের সেরা খেলোয়াড় মেসি-রোনালদোর সাথে।

গোলে শট নিচ্ছেন মার্টিন ওডেগার্ড
গোলে শট নিচ্ছেন মার্টিন ওডেগার্ড

খেলেন অ্যাটাকিং মিডফিল্ডে। রিয়াল মাদ্রিদেও এই পজিশনেই খেলবেন; তবে সেটা আপাতত রিয়াল মাদ্রিদ বি দল কাস্তিয়ার হয়ে। সেখানে কোচ হিসেবে পাবেন সর্বকালের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় জিনেদিন জিদানকে। সুতরাং তাঁর উন্নতিতে ব্যাঘাত ঘটবে না মোটেও। তবে অ্যানচেলত্তি চাইলে তিনি যে রিয়াল মাদ্রিদের মূল দলে যেকোন সময়ই খেলতে প্রস্তুত সেটাও বেশ ভালভাবেই জানিয়ে রেখেছেন ।

তবে এতকিছুর পরেও একটা সূক্ষ্ম অনিশ্চয়তা কাজ করছে। তা হল তিনি কি পারবেন সবার আস্থার প্রতিদান দিতে? ফুটবল বিশ্ব গত ১০ বছরে তাঁর মত অনেক ট্যালেন্ট দেখছে যারা শেষ পর্যন্ত কিছুই করতে পারেনি। ফ্রেডি আবু, নী ল্যাম্পটি, শেরনো সাম্বা – অসংখ্য ঝড়ে যাওয়া প্রতিভাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন খেলোয়াড়দের নাম যাদের কাছে অনেক কিছু আশা করেও শেষ পর্যন্ত কিছুই পাওয়া যায়নি। ওডেগার্ডের ট্যালেন্ট আছে। কিন্তু শুধু এই ট্যালেন্টই তাঁকে সেরা খেলোয়াড় বানিয়ে দিবে না। সেরা হতে চাই কঠোর পরিশ্রম, সেরা হবার দুর্নিবার আকাঙ্খা, সময়মত সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়া এবং অবশ্যই ভাগ্যের ছোঁয়া। যার সাথে তার তুলনা করা হচ্ছে সেই ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোও কিন্তু এমনটাই বলছেন “তার জন্য দারুণ ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে। আর তাই আমাদের উচিত তাকে সময় দেয়া এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করা। আমি তার মধ্যে অসাধারণ কিছু একটা দেখতে পাচ্ছি”

কিন্তু মুদ্রার উল্টো পিঠও তো আছে। এখানে অনিশ্চয়তার সাথে আছে পরম সম্ভাবনাও। ওডেগার্ডের পক্ষে সম্ভব বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় হওয়া। ঠিক যেমনটা হয়েছিলেন লিওনেল মেসি। লা লিগায় যখন তাঁর অভিষেক ঘটেছিল মাত্র ১৬ বছর বয়সে, তখন তাঁকে নিয়ে সবার প্রত্যাশা ছিল আকাশচুম্বী। প্রত্যাশার প্রতিদান তিনি দিয়েছেন। এখন তাঁকে ফুটবল ইতিহাসেরই সেরাদের একজন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ওডেগার্ডের বয়সও এখন ১৬। মেসি বার্সেলোনাতে খেলে সেরা হতে পারলে, ওডেগার্ডও রিয়াল মাদ্রিদে খেলে সেরা হতে পারবেন এমনটাই বিশ্বাস সবার। আর তাঁর উন্নতির দিকে কঠোরভাবে নজর রাখতে তাঁর বাবা এরিক ওডেগার্ডকেও ক্লাবের কোচ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ।

Martin-Odegaard (1)
প্রত্যাশার চাপ নিতে পারবেন তো ওডেগার্ড?

 

ওইদিকে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো নিজেও ভবিষ্যৎ রিয়াল মাদ্রিদের ব্যাটনটা তুলে দিয়েছেন এই প্রডিজির হাতে এই বলে “একটা সময় আমি আর ভুরি ভুরি গোল করতে পারব না। তখন আমার কাজটা কিন্তু তোমাকেই করতে হবে”

তো এখন সবার এত এত প্রত্যাশার মধ্যে ওডেগার্ডের নিজের আশাটা কি? খুব সহজ। “আমি যেখানেই খেলি না কেন আমি বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় হতে চাই” রিয়াল মাদ্রিদে এসে প্রথম সংবাদ সম্মেলনেই তিনি সাফ বলে দিয়েছেন তাঁর মনের কথা। এখন শুধু চাই সঠিক পরিচর্যা আর একটু ভাগ্যের ছোঁয়া!

কমেন্টস

কমেন্টস