ফুটবলিউশন !

জীবনে প্রথম ফুটবল কিনি ক্লাস টুতে পড়ার সময় ।
৩নাম্বার সাইজের ডিয়ার বলটার দাম
ছিল একশ টাকা ।
সাথে একটা নেট ছিল ।
বলটা নেটে ভরে কাধে নিয়ে বিকেলে
বেরিয়ে পড়তাম ।
সাঙ্গ পাঙ্গ জুটাতে সমস্যা হতো না।
বলের মালিক ভাবই আলাদা।
যাকে ইচ্ছা নেব যাকে ইচ্ছা নেব না 😎
সব ধরনের ছেলেদের সাথেই ভাব ছিল আমার।প্রতিদিন খেলা শেষে বলটাকে ধুয়ে আবার নেটে ভরে কাধে ঝুলিয়ে বাসায় ফিরতাম।

এক বছর যেতে না যেতেই মজার জীবন শেষে।
বেশি বাদড়ামী করে বেরাই এই অজুহাতে
মামার বাড়িতে যেতে হল,পড়াশুনা ওখানে
থেকেই করতে হবে 🙁
মামাকে ভীষন ভয় পেতাম।
তাতে কি ?
ফুটবল তো আর থেমে থাকতে পারে না 🙂

সমস্যা হল ফুটবলটা ততদিনে নষ্ট হয়ে গেছে।
খেলতে হয় অন্যের বল দিয়ে,আগের মতো পাট নেয়া যায় না।
তবু বেশ কিছু বন্ধু জুটে গেল।
একটা ছোট টিম বানিয়ে ফেললাম ছয় সাতজনের।
মামাদের পাড়ার পূর্ব দিকে ছিল ‘রানদিয়া হাটি’ গ্রাম।
ঐটার আবার বেশ কয়েকটা ছেলে আমার সাথে
একই ক্লাসে পড়ে।
তো ওদের সাথে প্রায়ই ফুটবল ম্যাচ হতো।
এমনি এমনি না,বাজি ধরে।নারকেল বাজি।
স্কুলের সামনে একটা পুকুর ছিল তার পাড়ে
প্রচুর নারকেল গাছ।
ওটা আবার ভূইয়াদের বাড়ির সীমানায় ।সো চুরি করতে হবে সাবধানে।
দুপুর বেলা পুকুরে গোছল করতে যেতাম দলবেধে।
২ জন ছিল গাছে চড়ার ব্যাপারে উস্তাদ,রসি এদের একজন।
তো পুকুরে লাফ দেয়ার নাম করে গাছে উঠে
যেত ওরা ।
তারপর সুযোগ বুঝে পুকুরে ছেড়ে দিত
গোটাকয়েক নারকেল ।
নিচে পানিতে বাকিরা অপেক্ষায় ।অতপর গোছল শেষ চুপিচুপি সাতরিয়ে
নারকেল নিয়ে অন্য পাড় দিয়ে উঠে দে ছুট 🙂

বিকেলে সেই নারকেল নিয়ে হতো বাজির খেলা।
প্রায়ই জিততাম ।তবে হেরেও বসতাম মাঝে মাঝে।
মজার এক ফুটবলীয় শৈশব ছিল আমার ।ক্লাস ফাইভের পর আবার বাড়ি ফিরে আসি।
নতুন স্কুলে ভর্তি হই ।
ক্রিকেটই তখন বেশি খেলা হয় ।
তবে প্রতিদিন এসেম্বলির আগে ক্রিকেট বল দিয়ে ফুটবল খেলতে ছাড়ি না ।

তো একদিন মাঠে প্রায় একঘন্টা ক্রিফুটবল খেলার পর এসেম্বলির ডাক আসল।
আমি আবার জাতীয় সংগীত গাওয়া দলের একজন 😎 তো সেদিন খেলে এমনিতেই টায়ার্ড হয়ে ছিলাম,
তার উপর রেস্ট না নিয়েই প্রচন্ড রোদে এসেম্বলি শেষে দাড়িয়ে জাতীয় সংগীত গাওয়া।
ছোট্ট দেহটা আর চাপ নিতে পারল না,গানের অর্ধেক যেতে না যেতেই চিতপটাং 😀

প্রায় ১০ মিনিট পর নিজেকে শিক্ষক মিলনায়তনে আবিষ্কার করলাম।
চারপাশে উদ্বিগ্ন কিছু মুখ,ফুটবলের জন্যে সেন্স ও হারাতে হল 😛

স্কুলে বেশ আধিপত্য ছিল।সবার সাথে ভালো সম্পর্ক ।
তবে ব্যাচের খেলায় অংশ নিতে পারতাম না,বয়স ও সাইজ দুইটাই কম ছিল তো :O
একই কারনে স্কাউট জাম্বুরিতেও অংশ নিতে পারিনি ।
তবে খেলা থেমে থাকত না।

Tifo_at_Camp_Nou

আমাদেল এলাকায় বছরে চার-পাঁচ মাস সব মাঠ পানির নিচে থাকে।হাওড়।
সে সময় খেলার মাঠ পাওয়া খুব টাফ।
তো ঐ সময়টা আমরা খেলতাম কলেজ মাঠে।
ওটার চারপাশে হাওরের পানিতে
ভরে যেত।
কলেজ মাঠে আবার ফুটবল খেলা নিষেধ।
প্রিন্সিপাল বর্তমান রাস্ট্রপতির ছোট ভাই।
দেখা যেত চুরি করে কলেজে ঢুকে খেলছি হঠাত করে প্রিন্সিপাল স্যার কোত্থেকে এসে হাজির।পালাও।
যে যেদিক থেকে পারে লাফিয়ে পানিতে পরে ভাগে।
তাড়াহুড়ায় মাঝে মাঝে বল নিতে ভুলে যেতাম।
পরবর্তীতে কলেজ মাঠেই সে বল পাওয়া যেত।
তবে ফুটো ।প্রিন্সিপাল সাব তার ছাতার মাথা দিয়ে বল পাংচার করে রেখে দিয়েছেন 🙁

কলেজের দুইটা নিরামিষ বছর শেষে যখন এখানে (কেএমসি) এসে ফুটবল খেলার এত স্বাধীনতা পেলাম তা ফেলে দিই কি করে ??
তাইতো আমি এখন ফুটবল আসক্ত 😉

ড্রাগ এডিকশনে যেমন উইথড্রয়াল সিনড্রোম থাকে।
ফুটবল এডিকশনের ও আছে।সিজন শেষ হয়ে গেলেই তা প্রকাশ পায়।
এ রোগের নাম দিলাম ফুটবলিউশন 😎

article-1187748-051CA325000005DC-404_634x384

[লেখাটি ২০১৩ এ নিজের ফেসবুক ওয়ালে নোট আকারে লিখেছিলাম,গোল্লাছুটে এ ধরনের লেখা দেয়া যায় কিনা ধারনা নেই,ভুলত্রুটি মার্জনীয় ]

কমেন্টস

কমেন্টস