ফিন্যান্স ক্রিকেট টিম : শিরোপার দেখা মিলবে এবার?

ফাইন্যান্স ক্রিকেট টিম : শিরোপার দেখা মিলবে এবার?

ক্রিকেট ফাইন্যান্স, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আন্তঃবিভাগ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের দুর্ভাগা একটি দলের নাম। অসংখ্য মেধাবী ক্রিকেটার নিয়েও প্রতিবার ভাগ্যের নির্মম পরিহাসের শিকার হওয়া একটি দলের নাম। ১৯৯২, ৯৩ এবং ৯৪ এ হ্যাট্রিক শিরোপা বিজয়ী দলটি যেন এখন ভুলেই গেছে কিভাবে শিরোপা জিততে হয়, কিংবা ভাগ্যের কাছে পরাজয় মেনে নেয়াকেই নিয়তি ভেবে নিয়েছে।

কখনো ২ রানের পরাজয়, কখনো ৫ রান আবার কখনো বা ২ উইকেটের সামান্য ব্যাবধানের হারে প্রতি আসরেই হতাশ হয়ে ফিরতে হয় খালি হাতেই। এই যেমন বছরের শুরুর দিকে হয়ে যাওয়া টুর্নামেন্টের কথাই ধরুন না। আইইআর, মার্কেটিং, ইংরেজি বিভাগের মত শক্তিশালী দলের বিপক্ষে প্রবল বিক্রমের সাথে জয়ের পরে অপেক্ষাকৃত দুর্বল সোশিয়লজির কাছে অনাকাঙ্খিত হারে সমাধি হয়েছে আরো একটি সম্ভাবনার। সেই হারে মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়া দলটি পুনরায় জেগে উঠেছে অপূর্ণ স্বপ্নকে সত্যি করার ইচ্ছায়। ঠিক যেমন আগুনের ধ্বংসাবশেষ থেকে ফিনিক্স পাখির উত্থানের মত। আর সেই আগুনে জ্বলে-পুড়ে ছারখার হয়েছে প্রিন্টিং এন্ড পাবলিকেশন বিভাগ। ২০১৮ শেষভাগে শুরু হওয়া আন্তঃ বিভাগ ক্রিকেট টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচে প্রিন্টিং এন্ড পাব্লিকেশন কে উড়িয়ে দিয়েছে ১৭৮ রানের বিশাল ব্যবধানে। এ যেন কোন আহত সিংহের আগমনী বার্তা।

এবার তবে দেখে নেই কারা কারা আছেন সেই অপূর্ণ স্বপ্ন পুরনের কান্ডারি হিসেবে।

মোটামুটি গতবারের পুরোনো মুখগুলোই আছে এবারের দলে। তবে দলের সিনিয়র বোলার ইমরান বিদায় জানিয়েছেন দলকে এবং আরেক বোলিং ভরসা ভাস্কর হালদারের খেলাও অনিশ্চিত পায়ের ইঞ্জুরির জন্য। এছাড়া যারা আছেন এবারের দলে-

১। আদনান আল রাহিনঃ গত ৪ সিজনের মত এই সিজনেও দলের নিয়মিত ওপেনিং ব্যাটসম্যান এবং নির্দ্বিধায় দলের সেরা ব্যাটসম্যান হিসেবে থাকছেন আদনান আল রাহিন। গত সিজনে মার্কেটিং এবং ইংলিশ বিভাগের সাথে টানা অর্ধশত রানের পর এবারের সিজনেও প্রথম ম্যাচে তিনি করেছেন ৫৫ রান। তার এই ধারাবাহিকতা দলের অন্যতম বড় শক্তি হিসেবে কাজ করবে। ধৈর্যশীল এবং সুযোগসন্ধানী এই ব্যাটসম্যান দ্রুত সিঙ্গেলের মাধ্যমে স্ট্রাইক রোটেট করে খেলতে পারেন শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত, আর তুলতে পারেন প্রতিপক্ষের নাভিশ্বাস। একটি দুর্দান্ত শুরুর জন্য পুরো দল তাকিয়ে থাকবে আদনানের দিকেই।

২। সারোয়ার হাবিব প্রিন্সঃ দলের আরেক ওপেনার হিসেবে আছেন সারোয়ার হাবিব প্রিন্স। হার্ডহিটার হিসেবে সুখ্যাতি থাকলেও গত দুই সিজন ধরে করতে পারছেন না নামের প্রতি সুবিচার। চমৎকার শুরুর পর নিয়মিতই বাজেভাবে আউট হয়ে যাচ্ছেন গত কয়েক ম্যাচ ধরেই। তবে একবার জ্বলে উঠলে আর নিস্তার নেই প্রতিপক্ষের বোলারদের। তার সেই জ্বলে উঠার অপেক্ষায় থাকবে এবার পুরো দল। দলের উইকেট কিপিঙের দায়িত্বটাও প্রিন্সের কাঁধে। গত ৫ সিজন ধরে উইকেটের পিছনে ভরসার নাম প্রিন্স।

৩। তন্ময় দেবনাথঃ দলের সহ-অধিনায়ক এবং দলের আরেক ব্যাটিং ভরসার নাম তন্ময় দেবনাথ। দলের প্রয়োজনে কখনো ওয়ান ডাউনে বা কখনো মিডল অর্ডারে ব্যাট করে থাকেন তিনি। গত সিজনে সব ম্যাচে ধারাবাহিকভাবে রান পাওয়া এই ব্যাটসম্যান রানের চাকা সচল রেখেছেন এই সিজনেও। স্ট্রাইক রোটেট করে যেমন খেলতে পারেন আবার পাওয়ার হিটিংয়েও তিনি সিদ্ধহস্ত। যার প্রমাণ তার ১৭২ স্ট্রাইক রেট। গতবারের হেরে ম্যাচে এক লড়াই করে ৫৮ করেও জেতাতে পারেননি দলকে। তবে সেই হতাশা এবার কিছুটা হলেও গুছাতে পেরেছেন প্রথম ম্যাচে ৩৯ বলে ৭৮ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলে। তার ব্যাট থেকে এমন আরো অনেক ইনিংস দেখার প্রত্যাশায় থাকবে পুরো দল। ব্যাটিঙের সাথে স্লো মিডিয়াম পেস বোলিংও করে থাকেন তিনি। প্রথম ম্যাচে তিনি বোলিংয়ে বগলদাবা করেছেন ২ উইকেট।

৪। খন্দকার আসাদুল্লাহি গালিবঃ দলের অধিনায়ক এবং বোলিং এট্যাকের পুরোধা হচ্ছেন গালিব। প্রথম বর্ষ থেকেই খেলে আসা এই বোলার অসাধারণ গতির সাথে লাইন লেংথের মিশ্রণে নিজেকে করে তুলেছেন দুর্দান্ত এক বোলার। তার অসাধারণ অধিনায়কত্বেই গতবার দল খেলেছে জোন সেমিফাইনাল। ধারাবাহিক ভাবে নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে যাওয়া এই বোলার পকেটে পুরেছেন অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। দলের প্রয়োজনে ব্রেক থ্রু এনে দিতে তিনি অতুলনীয়। তার দিকে চেয়ে থাকবে দল একটা তাড়াতাড়ি উইকেট এর জন্য। পাওয়ার হিটার হিসেবেও সুখ্যাতি আছে গালিবের। গত সিজনে আইইআরের সাথে ১৯ বলে ৪৬ রানের ইনিংসটি দলের জয়ে রেখেছিল দারুণ ভূমিকা।

৫। আসিফ আল মাহমুদঃ দলের অন্যতম সিনিয়র ব্যাটসম্যান আসিফ। দ্রুত সিঙ্গেলের মাধ্যমে স্ট্রাইক রোটেট করে খেলতে পারেন। মিডল অর্ডারে দলের অন্যতম ভরসা। দলের অন্যতম সেরা ফিল্ডার।

৬। মোহাম্মদ নাইমঃ মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান এবং ফাস্ট বোলার। পাওয়ার হিটার। ক্রিকেট সেন্স অসাধারণ। দলের প্রয়োজনে যে কোন ভূমিকায় দেখা যেতে পারে তাকে।

৭। আবেদুল আলম ফাহিমঃ অন্যতম ব্যাটিং ভরসা ফাহিম। মিডল অর্ডারে ব্যাট করে থাকেন তিনি। ব্যাটিং বিপর্যয়ে দলের কান্ডারি হয়ে দলকে টেনে তুলেন খাদের কিনার থেকে। এবার ফাহিমের ব্যাটে অনেকটাই নির্ভর করবে দলের ভাগ্য।

৮। ভাস্কর হালদারঃ দলের অন্যতম উইকেটশিকারী বোলার। গতবার দলের হয়ে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি। যদিও এবার পায়ের ইঞ্জুরিতে এখনো তার খেলা অনিশ্চিত। কিন্তু সবাই আশাবাদী তিনি এবারো খেলবেন এবং তার চিরাচরিত আগ্রাসী বোলিংয়ে ভাংবেন প্রতিপক্ষের উইকেট। আইইআরের সাথে ৫ উইকেটসহ প্রতি ম্যাচেই রেখেছেন কার্যকরী ভূমিকা।

কামরুল ইসলামঃ দলের আরেক ব্যাটিং ভরসা। মিডল অর্ডারে কার্যকরী ব্যাটসম্যান। সিঙ্গেল নিয়ে খেলতে পারেন অনেকক্ষণ। ঊইকেটে থিতু হয়ে খেলে যেতে পারেন লম্বা ইনিংস।

১০ইব্রাহিম এইচ সাইফঃ তরুণ তুর্কি। দলের আরেক স্ট্রাইক বোলার। অসাধারণ গতির সাথে স্লোয়ারের মারাত্মক কম্বিনেশনে ব্যাটসম্যানকে ঘায়েল করতে ওস্তাদ। ডেব্যু ম্যাচে ৫ উইকেট নিয়ে শুরুতেই জানিয়েছিলেন নিজের আগমনী বার্তা।

১১আতেফ খানঃ প্রথম বর্ষের আতেফ দারুণ কার্যকরী অফ স্পিনার। নিজের ডেব্যু ম্যাচে ৪ উইকেটের সাথে প্রস্তুতি ম্যাচেও নিয়েছিলেন ৪ উইকেট। দারুণ কার্যকরী এই বোলার ব্যাট হাতেও দলকে আশার আলো দেখাচ্ছেন।

১২ওমর ফারুকঃ অফস্পিনার। দারুণ ফিল্ডার। লোয়ার অর্ডারে কার্যকরী ব্যাটসম্যান। ঘুর্ণি জাদুতে বিভ্রান্ত করে থাকেন ব্যাটসম্যানকে।

১৩নবীন খানঃ দলের নতুন পেইস সেনসেশন। দারুণ গতিতে ব্যাটসম্যানকে আতংকে রাখতে পারেন।

১৪ইমজামুল হাসান সাব্বিরঃ মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান। উইকেট কিপিং ও করতে পারেন। দারুণ কার্যকরী ফিল্ডার।

১৫। উল্লাস হোসেনঃ বাঁহাতি ক্লাসিক ব্যাটসম্যান। হাতে দারুণ সব শট আছে। দলের প্রয়োজনে ধীরগতিতেও খেলতে পারেন আবার আগ্রাসিও হতে পারেন।

১৬। তাউহিদুল হোসেন অপূর্বঃ প্রথম বর্ষের সদস্য। দারুণ ব্যাটসম্যান এবং দারুণ ফিল্ডার। অসম্ভব রকমের ডেডিকেশন সম্পন্ন প্লেয়ার।

১৭। আজিজুর রহমান রিজভিঃ দ্বিতীয় বর্ষের উদীয়মান ক্রিকেটার। স্লো মিডিয়াম বোলার। বলে আছে দারুণ সুইং। ভবিষ্যতে দারুণ কার্যকরী প্লেয়ার হবে।

১৮। সামসুদ্দি মরসেলি সুলতানঃ উদীয়মান লেগ স্পিনার। বলে দারুণ টার্ন আছে। প্রয়োজনীয় ট্রেনিং পেলে কার্যকরী লেগব্রেক বোলার হয়ে উঠতে পারবে।

১৯। জাহিদুল ইসলাম জাহিদ  : মূলত মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান জাহিদ প্রয়োজনে দারুণ আগ্রাসী হয়ে তছনছ করতে পারে প্রতিপক্ষের বোলিং আক্রমণ। আউটফিল্ডে দুর্দান্ত জাহিদ যে কোন সময় ঘুরিয়ে দিতে পারে ম্যাচের গতিপথ তার ব্যাটিং বা ফিল্ডিংয়ের মাধ্যমে।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

15 − five =