ফাইনাল আর ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া !

এ যেন এক হলদে প্রেমের জীবন্ত কাব্য । গতরাতে আবারও ফাইনাল খেলেছে অজিরা । বলা বাহুল্য, শিরোপায় চুঁমুও তারাই দিয়েছে । বার্বাডোজের ব্রিজটাউনে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টের ফাইনালে ম্যান ইন ইয়োলোদের প্রতিপক্ষ ছিল স্বাগতিক ওয়েস্ট ইণ্ডিজ । যাদের সাথে শেষ কোন ফাইনালে দেখা হয়েছিল সেই ২০০৬ সালে । যে বার কিনা শেষ হাসি হেসেছিল পন্টিংয়ের অস্ট্রেলিয়া । এবারও হেসেছে তাসমানিয়ান ক্রিকেট দলটি । আর এই হাস্যত্‍সবের নেতৃত্বে এবারের নামটি স্টিভেন স্মিথ । পেসারদের পিচে শুরুটা ভালই করেছিল আগে ব্যাট করা অস্ট্রেলিয়া । ডেভিড ওয়ার্নার ছিটকে পড়ায় উদ্বোধন করতে আসা উসমান খাজাকে নিয়ে ৪.২ ওভারে অ্যারন ফিঞ্চ তুলেছিলেন ২৮ রান । যার অর্ধেকই ছিল খাজার নামের পাশে । ১০০ স্ট্রাইক রেটে খাজাকে অবশ্য আর এগোতে দেয়নি ক্যারিবিয় অধিনায়ক জেসন হোল্ডার । কাট করতে গিয়ে ব্যক্তিগত ১৪ রানে রামদিনের দস্তানায় ধরা পড়েন এই ওপেনার । এরপর অধিনায়ক স্মিথ সাবধানী সহচার্য দিলে ফিঞ্চ খেলে যায় নিজ ভঙ্গিতে । ৪১ বলে যখন তার নামের পাশে ৪৭ রান তখনই কাইরন পোলার্ডকে এলো শটে উড়িয়ে মারতে গিয়ে স্যামুয়েলসের হাতে ধরা পড়েন । এরপর মিডল অর্ডারের আরেক ভরসা জর্জ বেইলিকে সাথী করে স্মিথের অর্ধশত রানের জুটি । ধীর গতিতে খেলা বেইলি ধাতস্থ হতে না হতেই এবার আঘাত হানেন ব্রেথওয়েট । শট নির্বাচনে ইতস্তত বেইলিকে ফিরতে হয় ২২ রানে । তখনও সাবলীলতায় পিচে স্টিভ স্মিথ । এক প্রান্তে মার্শকে নিয়ে তার বড় সংগ্রহের স্বপ্নটা ভেঙ্গে দেন খরুচে বোলার শ্যানন গ্যাব্রিয়েল । দলীয় ১৫২ রানে গ্যাব্রিয়েলকে পুল করতে গিয়ে স্যামুয়েলসের দ্বিতীয় ক্যাচ বনে যান অজি অধিনায়ক । দলীয় স্কোরবোর্ডে আর ৪ রান যোগ হতেই এবার প্যাভিলিয়নের পথ মাপতে হয় গ্লেন ম্যাক্সওয়েলকে । গ্যাব্রিয়েলের ১৪০ গতির স্টাম্প বরাবর ডেলিভারীতে বোক বলনে আম্পায়ার তাকে লেগ বিফোরের শাস্তি শুনিয়ে দেন । ১৫৬ রানে টপ ফাইভ খুঁইয়ে অস্ট্রেলিয়া তখন রীতিমত চাঁপে । সেখান থেকে অলরাউণ্ডার মিচেল মার্শ খানিকটা চেষ্টা চালান । তবে দুর্ভাগ্যর খড়গে পড়ে দলীয় ১৭৩ রানে ফিরতে হয় ছোট মার্শকে । সুলেমান বেনের বলে বোল্ড হওয়ার সময় তার নামের পাশে ৪৫ বলে ৩২ রানের এক মাঝারি ইনিংস । এরপর অজিদের সামনে দ্রুত গুঁটিয়ে যাওয়ায় শংকা । তবে সে শংকা শেষতক উবে গেছে ম্যাথু ওয়েডের দায়িত্বশীলতায় । লেজের দিকের ব্যাটসম্যানদের নিয়ে চলে তার মনোমুগ্ধকর লড়াই । মাঝখানে স্টার্ক ১৭, কোল্টার নাইল ১৫ ও জাম্পা ৫ রানে ফিরে গেলেও ৫২ বলে ৫৭ রানে অপরাজিত থাকেন অজিদের দস্তানা রক্ষক । ছক্কা দিয়ে শেষ করা ইনিংসটিতে ছিল মোট তিনটি ছক্কা দুটির চারের মার । ইনিংস শেষে ক্যারিবিয়দের ৬ বোলারের পাশেই উইকেট প্রাপ্তি । আর ওয়েডে তখন লড়াই করার মত পুঁজি পেয়ে গেছে অস্ট্রেলিয়া । ক্যারিবিয় তাঁবুতে প্রথম আঘাতটা স্টার্কের হাত ধরে আসতে পারতো । কিন্তু দ্বিতীয় স্লিপে দাঁড়ানো স্মিথের আংগুল ছুঁয়ে বেড়িয়ে যায় চার্লেস জনসনের আনাড়ী শটটি । ২৭১ এর লক্ষ্যে তাড়া করতে নামা উইণ্ডিজদের ভাল সূচনায় জল ঢেলে দেন জশ হ্যাজেলউড । দলীয় ৪৯ ও ব্যক্তিগত ৯ রানে প্রথম স্লিপে স্মিথের সহজ ক্যাচে পরিণত হোন আন্দ্রে ফ্লেচার । এরপর ধীরে শুরু করা ব্রাভোকে এগোতে দেয়নি মিচ মার্শ । দলীয় ৬২ রানে ইনসাইড এজে ওয়েডের দস্তানাবন্দী হোন ড্যারেন ব্রাভো । ৮ রান যোগ হতে না হতেই আবারো আঘাত হানে এই অলরাউণ্ডার । স্লোয়ারে তখন বেইলির মুঠোবন্দী সাম্প্রতিক সময়ে ক্যারিবিয়দের সবচেয়ে ছঁন্দে থাকা মারলন স্যামুয়েলস । তাকেও ফিরতে হয় ৬ রানে । ছোট মার্শের উইকেট ক্ষুধা যেন তখন মেটেনি । ঠিক চার রান পরেই এবার বড় আঘাত হানেন তিনি । লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ে ফেরত যেতে হয়ে ৪৫ রান করা চার্লেস কে । হঠাত্‍ই ভেঙ্গে পড়া টপ অর্ডারের ধাক্কা সামলাতে রামদিন ও পোলার্ডের চেষ্টাও বেশিদুর পাখা মেলতে পারেনি । দলীয় ১০৫ রানে পোলার্ডকে হ্যাজেলউর্ডের ক্যাচ বানিয়ে ফেরত পাঠান এ্যাডাম জাম্পা । এরপর সাবধানী শ্লথ রামদিনকে নিয়ে হোল্ডারের তেঁতে ওঠায় স্কোরবোর্ডে জমা হয় আরও ৪৩টি রান । তেঁতে থাকা হোল্ডার অবশ্য মাঠ পার করতে পারেনি কোল্টার নাইলকে । ব্যক্তিগত ৩৪ রানে ফিঞ্চ-নাইল জুটিতে থেমে যায় হোল্ডারের সাহসী ইনিংস । ম্যাচ থেকে ক্রমশঃ বেরিয়ে যাওয়া ক্যারিবিয়রা এবার আরো আক্রমণাত্বক । ব্রেথওয়েট ভয়ংকর হয়ে ওঠার ইংগিত দিতেই তাকে শান্ত করে দেন তরুন হ্যাজি । সরাসরি বোল্ড হওয়া ব্রেথওয়েট এক ছক্কা ও এক চারে ১৪ রান করেন । এরপর ক্যারিবিয়দের থেমে যাওয়া শুধুই সময়ের ব্যাপার ছিলো । ৪০ রান করা রামদিনকে আবারো সরাসরি স্টাম্পে আঘাত করেন হ্যাজি । এরপর ক্যারিবিয়রা ২১২ তে গুটিয়ে গেলে ৫৮ রানের জয়ে ট্রফিতে চুঁমু আঁকে ৫০ ওভার ক্রিকেটের রেকর্ড বিশ্বসেরারা । ৩২ রান ও ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা মিচ মার্শ । ১১টি উইকেট পকেটস্থ করে টুর্নামেন্ট সেরা জশ হ্যাজেলউড ।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

5 × two =