প্রস্তুত থাকেন মোসাদ্দেক

বাংলাদেশের আর কোনো ব্যাটসম্যানের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট ক্যারিয়ারেই ৩টি ডাবল সেঞ্চুরি নেই, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ৩টি ডাবল করে ফেললেন ৮ মাস ও ৮ ম্যাচের মধ্যেই…

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে টানা চার ম্যাচে সেঞ্চুরি ছিল বাংলাদেশের কেবল একজনেরই। ২০০৮-০৯ মৌসুমে জাতীয় লিগে করেছিলেন মাহমুদউল্লাহ। মোসাদ্দেক করে ফেললেন ক্যারিয়ারের শুরুর দিকেই। পরের ম্যাচেও সেঞ্চুরি করতে পারলে রেকর্ডকে করে নিতে পারেন একার…

১২টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচেই সেঞ্চুরি করে ফেললেন ৬টি। গত ৮ ম্যাচের মধ্যেই করলেন ৬ সেঞ্চুরি। ব্যাটিং গড় এখন ৭৮.৮৩!

গত জাতীয় লিগে রংপুরের বিপক্ষে করেছিলেন ২৫০, পরের ম্যাচে চট্টগ্রামের বিপক্ষে ২৮২। আজকে সিলেটের বিপক্ষে মূলত লোয়ার অর্ডারদের সঙ্গে নিয়ে অপরাজিত ২০০…

আগের দুটি ডাবল সেঞ্চুরিতে ছক্কা ছিল ৫টি করে, আজকে ৭টি। বিসিএলে ১১৯ রানের ইনিংসে ৫টি ছক্কা ছিল, ১৫৩ রানের ইনিংসে ছিল ৭টি। গত ম্যাচে ১২২ রানের ইনিংসে ছক্কা ৬টি। সব মিলিয়ে ১২টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচে ছক্কা মেরেছেন ৪৪টি! তবে ছক্কার হার দেখে দশাসই শরীরের পেশীশক্তিওয়ালা বিধ্বংসী ব্যাটসম্যান ভাবার কারণ নেই। সে ঠান্ডা মাথার ব্যাটসম্যান, গড়নেও বড়সড় নন। ব্যাটসম্যান হিসেবে নির্ভরতা মূলত টাইমিং ও প্লেসমেন্টে…

পরিসংখ্যান তুলে ধরছে তার সামর্থ্য। তবে এর বাইরেও একটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যপার আছে। এইসব ডাবল সেঞ্চুরির অনেক আগে, এমনকি প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলারও আগে, বয়সভিত্তিক ক্রিকেট খেলার সময় থেকেই মোসাদ্দেকের একটি ব্যাপার আমাদের অনেকেরই চোখে পড়েছে। ম্যাচিউরিটি। বয়সের চেয়ে এগিয়ে থাকা মনোভাব। সেটা ব্যাটিংয়ে যেমন ফুটে ওঠে, প্রতিফলিত হয় তার অফ স্পিন বোলিংয়েও। আবাহনীর সঙ্গে পাওয়ার প্লে তে এবং স্লগ ওভারে মাথা খাটিয়ে বেশ ভালো বোলিং করেছেন বেশকবার। সমবয়সী আর দশটা ক্রিকেটারের তুলনায় বেশ ম্যাচিউরড…
…………………………………………………………..
…………………………………………………………..
গত শুক্রবার একটা রেডিওর টক শোতে গেলাম। সেখানে একজন প্রশ্ন করেছিল , মোসাদ্দেককে কেন এখনও জাতীয় দলে নেওয়া হচ্ছে না! ভয়ের জায়গা এখানেই। অনেকেরই এখন মাথা খারাপ হয়ে যাবে, মোসাদ্দেককে দলে দেখার জন্য অস্থির হয়ে উঠবেন। সংবাদমাধ্যমে লেখা হবে, বলা হবে। সেটা স্বাভাবিকও, পারফরমারকে নিয়ে নিউজ করতেই হবে। কিন্তু সেই নিউজে মোসাদ্দেক-স্তুতি সীমা ছাড়াবে প্রায়ই। অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অধিনায়ক মিরাজকে ২-৩টি ম্যাচ কাছ থেকে না দেখার পরও সংবাদমাধ্যমে ভবিষ্যতের মাশরাফি আখ্যা দেওয়া হয়েছে এখনই। মোসাদ্দেককেও সপ্তম আসমানে তোলা হবে। আমজনতা এবং সংবাদ মাধ্যম একসঙ্গে কোরাস ধরবে!

বাট, হি ইজ জাস্ট আ কিড! ১৯ বছর বয়স। ক্যারিয়ারের কেবল শুরু। আরও খেলুক। সব জায়গায় রানের জোয়ার বইয়ে দিক। ‘এ’ দলে আগে খেলেছে, সামনে আরও খেলবে। সেসব ম্যাচে রান করুক, তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ, আরও শিখুক। টেকনিক পোক্ত হোক, শটের বহর সমৃদ্ধ হোক। কলিজা আরও বড় হোক, বুকের ছাতি চওড়া হোক। পরিণত হোক আরও। নিতে হবে বলেই যেন জাতীয় দলে নেওয়া না হয়। বরং দলের যখন দরকার হবে, ততদিনে যেন পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে ওঠেন, প্রস্তুত থাকেন মোসাদ্দেক, এই প্রত্যাশা ও আবেদন থাকল…

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

9 − 2 =