প্রথম ম্যাচে লঙ্কার বিশাল হারঃ বার্তা বাকি এশিয়ার দলগুলোর জন্যেও

পেশাদার ক্রিকেট বলে প্রতিশোধ জিনিসটা হয়তো মুখে মুখে দূরে দূরেই রাখতে চাইবেন কিউই ক্যাপ্টেন ব্রেন্ডন ম্যাককুলাম । কিন্তু মনের এক কোণে কি একটু হলেও জমে থাকে নি প্রতিশোধের আগুন ? ২০০৭, ২০১১- টানা দুই বিশ্বকাপে ফাইনাল খেলেছে শ্রীলঙ্কা । আর ফাইনাল খেলার পথে তারা প্রতিবারই স্বপ্নভঙ্গ করেছে নিউজিল্যান্ডের। আর দুটোবারই মাঠে থেকে নিদারুন তিক্ততা ভোগ করতে হয়েছে ম্যাককুলামকে । নিজেদের দেশে প্রথম ম্যাচেই শ্রীলংকাকে পেয়ে জ্বালাটা ভালোভাবেই জুড়াল কিউইরা । লঙ্কানদের উড়িয়ে দিল ৯৮ রানের বড় মার্জিনে ।

সারাদিনই ছিল ব্ল্যাকক্যাপসদের এই উচ্ছ্বাস
সারাদিনই ছিল ব্ল্যাকক্যাপসদের এই উচ্ছ্বাস

স্বাগতিকের চাপটা কিউইদের উপর আরো জাঁকিয়ে দেবার জন্যেই কিনা, টসে জিতে নিউজিল্যান্ডকে ব্যাটিং করতে পাঠালেন এঞ্জেলো ম্যাথুস । ৭০ এর ঘর পেরোতে পারলেন না কোন কিউই ব্যাটার । ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রান কোরি এন্ডারসনের ৭৫ ! তাতেও কিউইদের ৫০ ওভার শেষে সংগ্রহ কত জানেন ? ৩৩১ ! আর ৫০ ওভারে শ্রীলঙ্কা ম্যাককুলামের দলের উইকেট ফেলতে পারল মোটে ৬ টা । অস্ট্রেলিয়ার মত গ্লেন ম্যাক্সওয়েল বা দক্ষিণ আফ্রিকার মত ডি ভিলিয়ার্স হয়তো বিশ্বকাপের সহ আয়োজক নিউজিল্যান্ডের নেই , কিন্তু সমষ্টিগত দলীয় শক্তিটা তাদের কারো চাইতেযে কম নেই সে বার্তাটা যেন প্রথমেই দিতে চাইল কিউইরা । ম্যাককুলাম আর গাপটিলের ৯৫ বলে ১১১ রানের উদ্বোধনী জুটির পরে রানের গতিটা আর সেভাবে বাড়ে নি । তবে একদম থেমেও যায় নি নিউজিল্যান্ড । মাঝে ফিফটি পেয়ে যান নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের ভবিষ্যত বলে আখ্যা পাওয়া কেইন উইলিয়ামসন । ২০০ পেরোনোর ঠিক আগে জীবন মেন্ডিসের জোড়া আঘাতে কেইন আর টেলর আউট হয়ে গেলে শেষের ক্লাইমেক্সটার দ্বায়িত্ব চলে যায় প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে আসা কোরি এন্ডারসনের কাছে ।

ফিল্ডিংয়েও বাজে দিন এশিয়ার সিংহদের
ফিল্ডিংয়েও বাজে দিন এশিয়ার সিংহদের

পেরেছেন কোরি ! অজি বংশোদ্ভুত লুকে রনকিকে নিয়ে ৬ষ্ঠ উইকেট জুটিতে তুললেন ৩৭ বলে ৭৩ রান আর তাতে তার নিজের অবদান ৪৩ রান । ইনিংসের শেষ বলে আউট হবার সময় কোরির নামের পাশে ৪৬ বলে ৭৫ রানের ইনিংস ! তাতে ৮ চার আর ২ ছক্কা ! টি টোয়েন্টির জমানায় সবচাইতে ভ্যালুয়েবল বোলার মালিঙ্গার নামের পাশে ইনিংসের শেষে স্কোরবোর্ডে ফিগারটা ছিলো এমন ১০-০-৮৪-০ !

খুনে মেজাজে কোরি
খুনে মেজাজে কোরি

৩৩২ রানের লক্ষ্য । সূচনাটা ভালো রকমের সাবধানি লঙ্কানদের । ভেট্টোরি যখন ৬৭ রানের জুটিটা সফট ডিসমিসালে দিলশানকে আউট করে ভেঙে দেন , ওপাশটায় বেশ জমাট ও থিতু লাগছে থিরিমান্নেকে । ১২৪ থেকে ১২৯- এই ৫ রানের ফাঁকে আউট হয়ে যান শ্রীলংকার তিন মূল ব্যাটসম্যান থিরিমান্নে, সাঙ্গা ও জয়া । মূলত ৩৯ রান করা সাঙ্গাকারা দলের ১২৯ এ আউট হয়ে গেলে লঙ্কার ম্যাচটা ওখানেই শেষ।

সাঙ্গার বিদায়ে শেষ লঙ্কানদের আশা
সাঙ্গার বিদায়ে শেষ লঙ্কানদের আশা

এঞ্জেলো ম্যাথুস লোয়ার অর্ডার নিয়ে ৪৬ রানের একটা ইনিংস খেললেও তা যে ৩৩১ রানের টার্গেট পেরোনোর জন্যে পর্যাপ্ত ছিলো না , তা বুঝতে বাকি থাকার কথা নয় কারো । ২৩৩ রানে শেষ হয়ে যায় গেল দুইবারের রানার আপ শ্রীলংকার ইনিংস । শ্রীলংকার এই বিশাল পরাজয়ের অন্তর্নিহিত গুরুত্বটা অনেক । বিশেষ করে , বাংলাদেশ, পাকিস্তান আর ভারতের জন্যে । এই ম্যাচ দিয়ে রাখল একটা ভয়ের বার্তা , “বিশ্বকাপটা সহজ হতে যাচ্ছে না কোন এশিয়ান দলের জন্যেই ।”

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

16 − one =