প্রত্যাশার পাখি উড়ুক সাধ্যের সাথে তাল মিলিয়ে

বিশ্বকাপের আগে অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় দুটো দলের সাথে দুটো ম্যাচ হারল আমাদের বাংলাদেশ দল । দ্বিতীয়টায় প্রতিপক্ষে তবুও মাইকেল ক্লার্ক ছিলেন আর প্রথমটায় ছিলেন না তেমন কেউই । তবে হারা ম্যাচে বাংলাদেশ দিনের শেষে আসলে কী পেল সেটাও কম গুরুত্বপূর্ন নয় । দুটি ম্যাচ থেকে বাংলাদেশ দল যা তা পেল তা হলো “ওয়ার্নিং কল” । জিম্বাবুয়ে সিরিজের পর থেকে সমগ্র বাংলাদেশ ক্রিকেট যে সাফল্যের ঘোরের মধ্যে ছিলো তা থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসার ওয়ার্নিং কল পেল সারা জাতি । প্রত্যাশার পাখিটা উড়ুক তাই সাধ্যের সাথে তাল মিলিয়ে ।

জিম্বাবুয়ে সিরিজের পয়র উড়ন্ত ছিলো প্রত্যাশার পারদ
জিম্বাবুয়ে সিরিজের পর উড়ন্ত ছিলো প্রত্যাশার পারদ

আমাদের দেশের ক্রিকেটে সমর্থক, ক্রিকেটের কর্তা ব্যক্তি এমন কী ক্ষেত্র বিশেষে আমাদের ক্রিকেটারেরাও প্রচন্ড আবেগতাড়িত । সে আবেগ থেকে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করবে এই অপ্রত্যাশিত পরাজয়গুলি । কঠোর বাস্তববাদীরা অবশ্যই বুঝবেন, নিজেদের চেনা কন্ডিশনে একটি হতোদ্যাম জিম্বাবুয়েকে হারানো আর অস্ট্রেলিয়ায় দূরদেশে গিয়ে দুই কঠিন স্বাগতিক প্রতিপক্ষসহ (অস্ট্রেলিয়া আর নিউজিল্যান্ড) এক গ্রুপে গিয়ে রাতারাতি কিছু করে ফেলাকে এক সুতোয় মিলিয়ে ফেলাটা আকাশ কুসুম কল্পনা ছাড়া আর কিছুই নয় ।
প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের কাছে হারে ৫ উইকেটে ।এই একাদশে কোন ইন্টারন্যাশনাল প্লেয়ার ছিলো না । বাংলাদেশ খেলায় নি তামিম ইকবাল আর আলামিনকে । প্রথমে ব্যাট করা বাংলাদেশ দলের ইনিংসের চুম্বক অংশ ছিলো মমিনুলের অর্ধশতক । ৬৫ বলে ৫২ রান করে স্বেচ্ছা অবসরে যান চারটি টেস্ট শতকের মালিক এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান । মাহমুদুল্লাহ আর সাব্বিরের দুটি ত্রিশোর্ধ্ব ইনিংস ছিলো । তবে এই সব ইনিংসের চাইতে প্রত্যাশাবাদীদের কাছে বড় হয়ে উঠবে বাংলাদেশের ইনিংসের মাঝে হুড়মুড় করে ভেঙে পড়া । ২০০ রানে ৪ উইকেটে থাকা বাংলাদেশ যখন শেষের ওভারে দ্রুত রান তুলে ক্যাঙ্গারুর দেশে তাদের সূচনাটা রাঙিয়ে দেবার স্বপ্ন দেখছে ভালো কিছু দিয়ে , বাংলাদেশকে পেয়ে বসে পুরাতন সেই রোগে । ২০০-৪ থেকে ২৩১-১০!

প্রথম ম্যাচে মমিনুলের ফিফটি আশা দেখালেও মিডল অর্ডারের ব্যর্থতায় ভেস্তে যায় সব
প্রথম ম্যাচে মমিনুলের ফিফটি আশা দেখালেও মিডল অর্ডারের ব্যর্থতায় ভেস্তে যায় সব

২৩১ রানে অলআউট হওয়া বাংলাদেশও কিছু পেতে পারত ম্যাচ থেকে । অন্তত ম্যাচের সূচনা তা-ই বলে । ১৯ রানে ২ উইকেট হারিয়ে দিশেহারা ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশ তারপরেই এক বড় জুটিতে ম্যাচ কেড়ে নেয় বাংলাদেশের হাত থেকে ।
বোলিংয়েও বাংলাদেশ পেয়েছে অশনিসংকেত । ৭ ওভারে ৫৬ রান দেওয়া তাইজুলের বোলিং ফিগারটিই বাংলাদেশের ক্রিকেটের মনোযোগী ছাত্রদের বুঝিয়ে দেওয়ার কথা বাংলাদেশকে সাফল্য পেতে হলে যেতে হবে বহুদূর । বাংলাদেশের স্লো উইকেটের চিরন্তন শক্তিমত্তা ওখানে কাজ করার সম্ভাবনা যে খুবই কম, তারও প্রমাণ পেল টাইগার বাহিনী । নিজেদের শক্তিমত্তাকে ঐ কন্ডিশনে কীভাবে কাজে লাগানো যায় তার কোন না কোন উপায় বের করতে হবে ।

দ্বিতীয় ম্যাচ ধারে ভারে আগের ম্যাচের চাইতেও একটু হলেও এগিয়ে ছিলো কারণ এদিন ইনজুরি কাটিয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষেই প্রস্তুতি ম্যাচ দিয়েই ফেরেন অজি অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক । বাংলাদেশের হয়ে সামান্য চোটে সরে যান মাশরাফি । বসিয়ে রাখা হয় তাসকিন আহমেদকেও । প্রতিপক্ষ বদলায়, বদলায় না বাংলাদেশ । তাসের ঘরের মত ব্যাটিং লাইনআপ আগের ম্যাচে চরিত্র দেখায় মিডল অর্ডারে , আর আজ দেখায় টপ অর্ডারে । টসে জিতে ব্যাটিং করে বাংলাদেশ । তবে স্কোরবোর্ডে ৬০ রান তোলার আগেই নেই প্রথম ৫ জন । ৫৭/৫ !

২য় ম্যাচে মাইকেল ক্লার্কের ফিরলেন অস্ট্রেলিয়া একাদশের সাথে
২য় ম্যাচে মাইকেল ক্লার্কের ফিরলেন অস্ট্রেলিয়া একাদশের সাথে

আবারও মাহমুদুল্লাহ আর সাব্বিরের দুটো ত্রিশোর্ধ্ব ইনিংস আর নাসিরের ফিফটি । সবমিলিয়ে ফলাফল ? আগের দিনের ২৩১-ও পেরোতে পারল না বাংলাদেশ । এদিন বাংলাদেশ থামে ১৯৩ রানে । ম্যাচ মূলত ওখানেই শেষ হয়েছেও তাই । মাইকেল ক্লার্কের ৩৬ আর এশটন টার্নারের অপরাজিত ৭১ রানে নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের টানা ২য় পরাজয় । পরাজয়ের ব্যবধানটা আগের দিনের চাইতে বড় । আগের দিনের ব্যবধান ৫ উইকেটের আর আজকের ৬ উইকেট । এদিন বাংলাদেশের হয়ে বল করেন নি দলের মূল অস্ত্র সাকিব আল হাসান ।

বাংলাদেশের পরবর্তী প্রস্তুতি ম্যাচ পাকিস্তানের সাথে । ৯ ফেব্রুয়ারি ।
বাংলাদেশের হাতে সময় ৪ দিন । তবে এ ৪ দিনে বাংলাদেশকে সমাধান করতে হবে অনেক ছোট ছোট কঠিন প্রশ্নের। ক্রিকেটপ্রেমীদের তাই চোখ থাকবে পাকিস্তানের সাথে ম্যাচের দিকে ।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

11 − nine =