প্রতিভাদের নষ্ট না করি

ভাইয়া দুইটা কথা বলি?

এই মুহুর্তে আমি মেহেদি হাসান মিরাজ, মোসাদ্দেক হোসেন এবং সৌম্য সরকার, কাওকেই ন্যাশনাল টিমে চাই না। কারনটা বলি।

মেহেদি ব্যাটিং অলরাউন্ডার। আপনারা যারা আন্ডার ১৯ বা ফার্স্ট ক্লাস ফলো করেন, জানেন যে সে মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান। ব্যাট হাতেই সে বেশি সফল। বোলিং টাও ক্ষুরধার। এখন ন্যাশনাল টিমে মিডল অর্ডারে খেলে রিয়াদ – মুশি – সাকিব। মেহেদির জায়গা হচ্ছে না। তাকে বোলার হিসেবে খেলানো হচ্ছে, ব্যাটিং এ পাঠানো হচ্ছে ৯-১০ নাম্বারে। হাস্যকরভাবে, এমন একটা ইমেজ দাঁড়ায় যাচ্ছে তার যে বিপিএলের মত ধুনফুন লীগেও তাকে ৯-১০ এ ব্যাট হাতে দেখা যাচ্ছে। আপনারা যারা ক্রিকেট ফলো করেন, জানবেন যে একজন ব্যাটসম্যান এর জন্য ব্যাটিং অর্ডার কতটা গুরুত্বপূর্ণ। মেহেদি আমাদের সোনার ডিম পাড়া হাঁস। আমরা তাকে নষ্ট করে ফেলছি না তো?

সেইম মোসাদ্দেক হোসেনের ব্যাপারেও। তাকে টপ অর্ডার – মিডল অর্ডার থেকে ডিমোশন দিয়ে পাঠিয়ে দিচ্ছি লোয়ার মিডল অর্ডারে। ব্যাটিং স্টাইলই চেইঞ্জ করে ফেলতে হচ্ছে তার। নষ্ট করে ফেলছি না তো আমরা তাকে?

কথা হচ্ছে, এই জায়গার প্লেয়ার কারা? যাদের জায়গায় তাদেরকে নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে? ফিনিশার ট্যাগ আছে তার গায়ে। পরিক্ষিত একটা নাম। নাসির হোসেন। তার কি আর কিছুই দেওয়ার নাই?

ওকে, লেটস সি। বিপিএল হোক নির্বাচক – পাপন – হাথুরার গালে একটি চটকানা।

সৌম্য সরকার। ঠু আর্লি কিনা, বলার আগে চিন্তা করা যাক, তার দীর্ঘদিনের এই অফ ফর্ম কেন? একজন ওপেনারকে ৩-৪-৭ হ্যান জায়গা নেই যেখানে নামানো হয়নি। তারপর থেকে সে অফ। শাহরিয়ার নাফীস – কায়েস (টিমে আবার এসেছে সে) তাদের কি কিছুই দেওয়ার নেই?

দেখাই যাচ্ছে। বিপিএল হোক আস্তা চটকানা।

হারিয়ে যাওয়া একটা নাম বলা যাক – মমিনুল হক, টেস্ট প্লেয়ার ট্যাগ লেগে আছে তার গায়ে। টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান কে আমরা ওডিআইতে ৭ এ নামালাম, ফ্লপ খেলো, টিমের বাইরে। মারবেন না প্লিজ, আরেকটা নাম বলি, শুভাগত হোম। ২০১১ তে তার ডেব্যু যদ্দুর মনে পড়ে, মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান হিসেবে। তার ব্যাটিং এখনো চোখে লেগে আছে আমার। এরপর শুরু হলো তাকে নিয়ে টানাহ্যাঁচড়া। একবার শুনি সে বোলার আবার শুনি ব্যাটসম্যান। আইডেন্টিটি ক্রাইসিসে ভুগতে ভুগতে তার বর্তমান পরিচয় কি সে নিজেই এখন আর বলতে পারবে না। আরেকটা নাম বলতে বলতে বেচে গেছি, সাব্বির রহমান। টি২০ ট্যাগ খেয়ে ওডিআইতে নামতো ৭ তে, ক্লিক করে নাই। থ্যাংকস গড, তার প্রিয় পজিশন টপ অর্ডারে, ৩ এর জায়গাটা তাকে দেওয়া গিয়েছে।

প্লেয়ার নষ্ট করায় বিসিবির জুড়ি নেই।

পেসারদের কথা যদি বলি, কম নাম শুনিনি গত কয়েক বছরে। শুভাশিস রায় টিমে এসেছিলো ২০১১ তে। এক ম্যাচ না খেলিয়েই বাদ, আবার এলো সে এতদিনে। আবুল হাসান রাজু, কামরুল ইসলাম রাব্বি, গত বছর টিমে ছিলো সে, এক ম্যাচও খেলতে পারেনাই, বাদ। আবু হায়দার রনি। কয় ম্যাচ সুযোগ পেয়েছিলো তারা? কোন ম্যাচ না দেখেই যদি বাদ দিবে, নিয়েছিলো কেন স্কোয়াডে?

কেন? শফিউল ইসলাম, রুবেল হোসেন, আল আমিন এদের কি আর কিছুই দেওয়ার নেই?

মোস্তাফিজ – তাসকিন বাচ্চা ছেলে। টি২০, ওডিআই, শর্টার ভার্শনের জন্য ফিট তারা। এখনই তাদের টেস্টে দেখতে চাইনা আমি। ফর গড সেইক, তারা আসবে। আরেকটু সময় তো দেই? এভাবে কেটেকেটে ডিম খুঁজতে গিয়ে মাশরাফিকে হারাচ্ছিলাম আমরা অলমোস্ট। সে ওয়ান পিস ফাইটার বলেই তাকে পেয়েছি আবার। সবার থেকে সেইমটা কিভাবে আশা করবেন? সবকিছুরই তো একটা সীমা থাকে। তারাও তো মানুষ, তাদের এনার্জিরও!

জুনিয়রদের নষ্ট হতে দেখতে চাইনা আমি। এরা প্রত্যেকটা সোনার ডিম পাড়া হাস বিশ্বাস করেন। এরা আসবে টিমে। সময়টা তো হোক আগে?

কচিকাঁচার আসর বসিয়ে শর্টরানে সাফল্য পাওয়া যায়, লং রানে আখেরে ধরাই খেতে হবে।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

one × three =