প্রতিদ্বন্দ্বিতা ভুলে গিয়ে একতার গান

৮৭ মিনিট, ইনিয়েস্তা ক্রস ফেলল চেকদের ডি বক্সে। ক্রস গিয়ে পৌছাল পিকের মাথায় ও পিকের হেডে গোল…… পাশেই ছিল সার্জিও রামোস। পিকের পিছে পিছে গিয়ে কাধে চড়ে বসল। মূহুর্তের মধ্যে হাজার হাজার ফুটবল ফ্যানের চোয়াল ঝুলে পরল, এরকম কিছু দেখতে হবে ব্যাপারটাই ছিল অভাবনীয়।

ব্যাপারটা কিছুটা বিস্ময়ের। স্প্যানিশ ফুটবলের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করে আসছে স্পেনের এই দুই সেন্টারব্যাক, কিন্তু ঝামেলা এখানে নয় কারণ স্পেনের সাম্প্রতিক সাফল্য এই দুই প্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাবের প্লেয়ারদের কাধে কাধ মিলিয়ে লড়াই করার মাধ্যমেই এসেছে। সমস্যা অন্য জায়গাই, বছর দুয়েক ধরে পিকে ক্রমাগত খুচিয়ে আসছিল মাদ্রিদকে। এত খোঁচাখুঁচি সহ্য করতে না পেরে মাদ্রিদের যে কয়জন প্লেয়ার প্রত্যুত্তর দিত তাদের মধ্যে একজন রামোস। তাদের তিক্ততা ভয় ধরিয়ে দিছিল স্পেন টিমে না এটা প্রভাবিত করে। একদিকে তাদের দুইজনকে ডিফেন্সে জুটি বাধতে হবে, কিন্তু রসায়ন না হলে সেই ২০১৪ বিশ্বকাপের মত দুঃস্বপ্ন আবার ফিরে আসতে পারে। কিন্তু তাদের আশংকা অমূলক প্রমাণিত করে দিতে এগিয়ে আসল স্বয়ং ক্যাপ্টেন সার্জিও রামোস। অতীতে এই কাজের গুরুভার ছিল ক্যাসিয়াস ও জাভির উপর। বার্সা-মাদ্রিদের হিটনেস যাতে জাতীয় দলে না পরে তা দেখার দায়িত্ব নিয়েছিল এই দুই লিজেন্ড। এখন রামোসকে দেখে মনে হচ্ছে সেই দায়িত্ব নিতে সেও প্রস্তুত। তাই পিকের গোলের পর ক্লাবের রাইভালরি মনে না রেখে নিঃসংকোচে কাধে চেপে বসেছেন রামোস। আবার পিকের পক্ষ থেকেও এসেছে পজেটিভ রেস্পন্স। ঐ ছবিটাই ফেসবুকে দিয়ে পিকে নিশ্চিন্ত করেছেন সবাইকে এই বলে যে চিন্তার কোন কারণ নেই, তারা এখন একটা টিম ও একই লক্ষ্যে খেলছে।

এই জিনিসটাই চাইছিল স্পেন ফ্যানরা। বিশেষ করে বার্সা-মাদ্রিদ রাইভালরি যে পর্যায়ে চলে গিয়েছিল গত ২ সিজনে তা জাতীয় দলে খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে এই আশংকা ছিল তাদের। চিন্তা ছিল আরো একটা ব্যাপারে। স্পেনের ফ্যানরা যেভাবে পিকেকে দুয়ো দিচ্ছিল তাতে তার জাতীয় দলের প্রতি কমিটমেন্ট কতটা থাকবে তা নিয়েও সন্দেহ ছিল। কিন্তু এতসব আশংকা সব ভুল প্রমাণ করে দিয়ে তারাই প্রমাণ দিল ক্লাবের হয়ে যাই হোক, জাতীয় দলের হয়ে তারা একতাবদ্ধ হয়ে একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যের পানে ছুটছে। সেই লক্ষ্য কি তা মনে করিয়ে দিতে হবে না নিশ্চয়।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

18 − 14 =