পোস্ট ক্লাসিকো কথন

এল ক্লাসিকো নিয়ে কিছু কথা –

কালকের ম্যাচ দেখে মনে হচ্ছিল মরিনহো আমলের মাদ্রিদের খেলা দেখছি। এত এগ্রেসিভ ক্যান রে ভাই? মাঠে মারতে না পেরে ভাতে মারতে চায় নাকি? খেলা দেখে মনে হইছিল ম্যাচ জেতার চাইতে নেইমার বা সুয়ারেজকে মাস দুয়েকের জন্য মাঠের বাইরে পাঠাতে পারলেই কেল্লাফতে। রামোস শুরু থেকেই এগ্রেসিভ, স্বদেশী দানিলো পর্যন্ত নেইমারের উপর চড়াও হয়ে গেল। আর রোনালদোর হাত পা ইদানীং বেশি চলতেছে, বিশেষ করে ক্লাসিকোতে আল্ভেজের উপর হাত বা পায়ের নিয়মিত ব্যবহার করে যাচ্ছে। কালকে যেমন কনুই মেরে মাথা ফাটিয়ে দিছিল প্রায়, অথচ রেফারির কোন নজর নাই সেদিকে। অন্যদিকে ইস্কো যা করল তা পুরো ডিসগ্রেস, কোচ কি এগুলা শিখায়? লাথিটা আরেকটু মারাত্বক হইলেই নেইমার ২-৩ মাসের জন্য মাঠের বাইরে চলে যেতে পারত। নেহাত বার্সার প্লেয়াররা এসব নিয়ে খুব একটা মাতামাতি করে নাই, নাহলে মরিনহো আমলের ক্লাসিকো গুলোর মত হাতাহাতি শুরু হয়ে যেত।

তবে ম্যাচ পারফরম্যান্সে নেইমার, সুয়ারেজ, সার্জি রবার্তো, ইনিয়েস্তা, বুস্কেটসের পারফরম্যান্স চোখে পরার মত ছিল। বিশেষ করে ইনিয়েস্তার ম্যাজিকগুলো চোখ ধাধানো ছিল, সাথে সে যে বিগ ম্যাচ প্লেয়ার তা আবার প্রমাণ করে দিল। এই ইনিয়েস্তার স্ট্যাট নিয়ে মাদ্রিদিস্তারা হাসাহাসি করত, সব মনে আছে।

নেইমার আর সুয়ারেজ ছিল নেক্সট বেস্ট পারফর্মার। বিশেষ করে নেইমারের ড্রিবলিং, পেস, স্কিল ও চান্স ক্রিয়েশনে ,মাদ্রিদের ডিফেন্স বেশি নাস্তানাবুদ হয়েছিল। সুয়ারেজের ঠান্ডা মাথার ফিনিশিং বেশি কাজে লাগছে, দুইটা গোলেই তার মত কুল ফিনিশ খুব কম স্ট্রাইকার করতে পারে।

সার্জি রবার্তো একটা পিস, কি দরকার পগবা বা কোটিনহো বা গুন্ডোগানের। রবার্তো যে আজকে ক্লাসিকোর একাদশে জায়গা করে নিল সেটা পুরো নিজের যোগ্যতায়, কারো ফেভারে নয়। সো তাকে দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখতে চাইলে ও আরেকটা থিয়াগো আলকান্তারা তৈরি করতে না চাইলে মিডফিল্ডার কেনার আগ্রহ ছাড়তে হবে।

ব্রাভোর কথা আর কি বলব, পুরাই সুপার ম্যান। তার অসম্ভব সেভগুলা চোখে লেগে থাকবে অনেকদিন।

মুনিরের প্রতি অন্যদের মনোভাব কেমন জানি না, তবে আজকে সকালে ঘুম থেকে উঠার পরও ওরে ইচ্ছামত গাইলাইছি। অর জন্য পিকের বার্নাব্যুবাসীদের হাই ফাইভ দেখানো গেল না। তবে এনরিকে যেহেতু ওর উপর ভরসা রাখছে ওর প্রতি হোপলেস হওা আমাদের উচিত না। এই এনরিকে কিন্তু ভরসা রেখে রেখে রাফিনহা ও সার্জি রবার্তোকে বের করে আনছে। হয়ত মুনিরই হবে আমাদের নেক্সট বিগ থিং।

একটা ক্লাসিকো জয়ের আনন্দ বড়জোর তিনদিন, কিন্তু সিজনে কিছু জিতলে সেটার আনন্দ বারো মাস। তাই ক্লাসিকো জয়ে খুশি হলেও অতিমাত্রায় উল্লসিত নয়। গতবারও মাদ্রিদ ক্লাসিকোতে বার্সাকে বিধ্বস্থ করেছিল, কিন্তু সিজন শেষে ট্রফিলেস। বার্সার ক্ষেত্রেও তাই হতে পারে, অতএব মাটিতে পা রাখাই শ্রেয়।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

two × two =