ফিফা পুসকাস অ্যাওয়ার্ড : দৃষ্টিনন্দন গোলের স্মারক

ফিফা পুসকাস অ্যাওয়ার্ড : দৃষ্টিনন্দন গোলের স্মারক

আব্দুল্লাহ আল নোমান –

  • ফিফা পুসকাস অ্যাওয়ার্ড

পুসকাস অ্যাওয়ার্ড নামে এই অ্যাওয়ার্ড টা অামরা সবাই চিনি। যারা চিনিনা তাদের জন্য পুসকাস অ্যাওয়ার্ড এর সংজ্ঞা হল বছরের বেস্ট গোল এর অ্যাওয়ার্ড টা হল পুসকাস অ্যাওয়ার্ড।
ফিফা ব্যালন এর মত এটাও ফিফা কর্তৃক ভোটাভুটির মাধ্যমে দেয়া হয়। ২০০৯ সালের অক্টোবর ২০ তারিখ এই অ্যাওয়ার্ড চালু হয়।ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম লিজেন্ড ফেরেঙ্ক পুসকাস এর স্মরণে এই অ্যাওয়ার্ড টা প্রতিবছর প্রদান করা হয়। ফেরেঙ্ক পুসকাস ছিলেন একজন হাঙ্গেরিয়ান। গত শতাব্দীর ৫০ এবং ৬০ এর দশকে মাদ্রিদ এর সোনালী যুগ এর এবং হাঙ্গেরির বিশ্ব ফুটবল শাসন এর যুগ এর সারথি এই পুসকাস। অান্তর্জাতিক ক্যারিয়ার এ দেশের হয়ে ৮৪ গোল অাছে মাত্র ৮৫ ম্যাচ এ এবং টোটাল ক্যারিয়ার এ ৫১২ গোল করছেন ৫২৮ ম্যাচ এ। ফুটবল ইতিহাসে এরকম গোল রেশিও খুব বিরল বলা যায়। তারি স্মরণে এই অ্যাওয়ার্ড টি চালু করা হয়। এই অ্যাওয়ার্ড চালু প্রসঙ্গে তৎক্ষালীন ফিফা প্রেসিডেন্ট সেপ ব্লাটার:- “এটা খুব ই গুরুত্বপূর্ণ যে তাদের স্মরণে রাখা, যারা অামাদের ফুটবল ইতিহাসকে শ্রেষ্ঠ করেছে। পুসকাস একজন শুধু ভাল প্লেয়ার নন তিনি একজন ভাল মানুষও। ফিফা খুব খুশি তার স্মরণে এই অ্যাওয়ার্ড টা উৎসর্গ করতে পেরে”

প্রথম বছরই এই এওয়ার্ড জিতে নেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড এর হয়ে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। প্রতি বছর ১০ জন করে নমিনেশন পায় এবং সেখান থেকে ভোট এর মাধ্যমে বেস্ট একজন পুসকাস অ্যাওয়ার্ড জিতে। এই অ্যাওয়ার্ড জিতাটা অনেক সম্মানের।
দেখে নিই এখন পর্যন্ত সব এডিশনে বিজয়ীরা কারা:-
★২০০৯ সালে এই এওয়ার্ড জিতেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। তার ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড এর হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে পোর্তোর বিপক্ষে করা গোলটা ১৭.৬৮ শতাংশ ভোট এ বিজয় লাভ করে।
★২০১০ সালে হামিত আল্টিনটপ জিতে নেন তুর্কির হয়ে।
ইউরো কোয়ালিফায়িং ম্যাচ এ কাজিকাস্তান এর বিরুদ্ধে তার করা গোল ৪০.৫৫% ভোট এ বিজয়ী হয়।
★২০১১ সালে এই বহুল সম্মানের এওয়ার্ড টা নিজ হাতে তুলেন নেইমার। সান্তোসের হয়ে এই অ্যাওয়ার্ড টা জিতেন তিনি। (উল্লেখ্য এবার সংগত কারনে ভোট এর শতকরা প্রকাশিত হয়নি)
★২০১২ সালে মিরোস্লাভ স্টক ফেনেরবাচে এর হয়ে ৭৮% ভোট পেয়ে এই অ্যাওয়ার্ড টা জিতেন।
★২০১৩ সালে সবার প্রিয় ইব্রাহিমোভিচ ৪৮.৭% ভোটে বিজয়ী হয়ে পুসকাস অ্যাওয়ার্ড পান। ইংল্যান্ড এর বিরুদ্ধে করা গোল টি পেয়েছিল মনোনয়ন।
★২০১৪ সালে ওয়ার্ল্ড কাপ এ হামেস রদ্রিগেজের করা অসাধারণ গোলটি এই অ্যাওয়ার্ড পায়। উরুগুয়ের বিরুদ্ধে করা এই গোলটি সে জয় লাভ করে ৪২% ভোট পেয়ে।
★২০১৫ সালে লীরা ৪৬.৭% ভোটে পুসকাস অ্যাওয়ার্ড জিতে।
★২০১৬ সালে মোহাম্মদ ফায়েজ সুব্রি ৫৯.৪৬% ভোটে পুসকাস অ্যাওয়ার্ড জিতেন।
★সর্বশেষ ২০১৭ সালে অার্সেনাল এর হয়ে ক্রিস্টাল প্যালেসের বিপক্ষে করা গোলটির জন্য অলিভিয়ের জিরু ৩৬.১৭% ভোটে বিজয়ী হয়।

★দেশ হিসেবে এই অ্যাওয়ার্ড পাওয়া দেশ গুলো হল:-
*ব্রাজিল – ২ বার
*পর্তুগাল, তুর্কি, স্লোভকিয়া, সুইডেন, কলম্বিয়া, মালয়েশিয়া, ফ্রান্স – ১ বার।

উপরের তথ্যাবলী থেকে অামরা দেখতেছি যে এই অ্যাওয়ার্ড টা কখনো কেও ২ বার অর্জন করেননি। নিত্যনতুন নান্দনিক গোল করা মেসি-রন-নেইমার-ইব্রারা এই অ্যাওয়ার্ড এ মনোনীত হয়েছেন। তবে মেসি বাদে অ্যাওয়ার্ড পাওয়ার সৌভাগ্য টা সবারই হয়েছে। ৫ বার মনোনয়ন পেয়েও এই অ্যাওয়ার্ড জিতা হয়নি লিও মেসির। তার সমান বার মনোনয়ন পেয়েছেন নেইমার ও। তবে নেইমার এরই মধ্যে এই অ্যাওয়ার্ড নিজের ঝুলিতে নিয়েছেন। ৩য় সর্বোচ্চ ইব্রাহিমোভিচও ৩ বার মনোনয়ন পেয়েছেন এই অ্যাওয়ার্ড এ।

রোনালদোর সামনে নতুন রেকর্ড করার সুযোগ। অাগেই বলছি এই অ্যাওয়ার্ড ২ বার কেও জিতেনি।কিন্তু রন এর জুভেন্টাস এর বিপক্ষে করা বাই সাইকেল কিক টির ২০১৮ সালের পুসকাস অ্যাওয়ার্ড পাওয়ার সম্ভবনা প্রবল। তবে রয়ে গেছে ওয়ার্ল্ড কাপ। বিশ্ব দেখবে নতুন নতুন নান্দনিক গোল। হয়তোবা ২০১৪ এর মত অাবারো বিশ্বকাপে করা কোন গোল ই জিতে নিবেন এ পুরষ্কার।
দেখা যাক কি হয়। অাশা করি মেসি ও তার কোন নান্দনিক গোল এই অ্যাওয়ার্ড জিতবেন।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

nine − nine =