পারবেন রোনালদো?

কালের গর্ভে হারিয়ে গেছে আস্ত একটি যুগ । স্মৃতির পাতায় ঠাঁই নিয়েছে নানান অনুভূতি ।
গত এক যুগে নিয়মিত প্রাতঃ-সাঁঝে রচিত হয়েছে তার বহু শ্রেষ্ঠত্বের কাব্য ।
ছিপছিপে গড়নের সেদিনের সেই সদ্য কৈশর পেরুনো ছেলেটি এখন পুরোদস্তুর পরিণত সুঠামী ।
সেদিন তার শীর্ণ কাঁধ শেষাংশের সুযোগই পায়নি মাতৃভূমিকে শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পড়াতে । গ্রীকরা রুপকথার জন্ম দিয়ে সেবার কাঁদিয়েছিল ।
এরপরে শ্রেষ্ঠত্বের ধারাবাহিক কাব্যে লিখা হয়েছে ঠিকই । কিন্তু এক যুগ পূর্বের সেই শেষাংশের প্রারম্ভে আর পা রাখা হয়নি । অবশেষে সে দাবী মিটেছে, সুযোগ এসেছে শেষাংশের ।
শেষাংশের সেই প্রারম্ভ অদ্য রজনীতেই ।
স্বপ্ন পূরণের একদম কাছাকাছি ফুটবল রুপকথার বরপুত্র ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ।
বিজ্ঞজন আর ফুটবল বোদ্ধাদের সমীকরণকে ভুল প্রমাণ করে তার দেশ, তার দল এখন ইতিহাস রচনার দ্বারপ্রান্তে ।
তবে এই দ্বার কিন্তু মোটেই মসৃণ কাঠামোর নয় ।
রোনালদোর ইতিহাস গড়ার সামনের বাঁধাটি ফরাসি দূর্গ ।
যে দূর্গ বলয় ভেদ করতে পারেনি স্বয়ং জগত্‍ শ্রেষ্ঠ জার্মানরাও ।
ইতিহাস আর পরিসংখ্যানও বলছে পর্তুগীজরা বারবারই ব্যর্থ ফরাসী দূর্গ জয়ে ।
জিদান-প্লাতিনিদের পরবর্তী প্রজন্ম নিজেদের দূর্গ থেকে ইউরোপের মুকুট বেরিয়ে যেতে দেবে কি এত সহজেই ।
লরিস, এভরা, পগবা, মাতুইদি, পায়েট আর গ্রিজম্যানরা চলতি ইউরো যুদ্ধে তাদের দূর্গ সামলেছে পরম বীরক্রমে ।
সেনাপতি গ্রিজম্যানের পায়ে যেন নেপোলিয়নের রণ মেধা ।
পর্তুগীজরা তাই হয়ত স্বপ্নটাকে ফানুশে উড়াতে চাইবেনা এখনই । তাদের ত্রাণকর্তা খোদ রোনালদোই বলেছেন ‘আজকের ম্যাচে ফ্রান্স ফেভারিট, তবে জিতবো আমরা’ ।
তবে জিতবো আমরা !
হ্যাঁ, এই দৃঢ় বাণীতেই হয়ত সাহসী হয়ে ফানুশে হাত দিবে পর্তুগীজ ও রোনালদো ভক্তরা ।
এই বলিষ্ঠ কন্ঠই যে এতদিন, এত বছর তাদের স্বপ্ন দেখিয়ে এসেছে । স্বপ্নের সফল ইতি রুপায়ন করেছে ।
গ্রুপ পর্বে খর্বদের বিপক্ষে ধুঁকতে থাকা রোনালদোর দলটিই বিদায় করেছে ডিফেণ্ডিং চ্যাম্পদের হারিয়ে আসা ক্রোয়াটদের ।
জার্মানদের ঠেকিয়ে কিংবা সুইসদের ঠকিয়ে আসা পোলিশরাও তো ঠেকেছে এই পর্তুগীজ বিরতিহীন চলন্তিকায় ।
যুগের নয়া রুপকথার দল ওয়েলসরও স্বপ্ন রুপরথ থেমেছে ক্রিশ্চিগালেই ।
তাই দুঃসাহসী হয়ে স্বপ্ন দেখাটা নিশ্চই অন্যায় হবেনা পর্তুগীজদের ।
বিশ্ব ফুটবলের কিংবদন্তী গুরু জনাব অ্যালেক্স ফার্গুসন তো বলেই দিয়েছেন ‘রোনালদোর ফাইনাল খেলার অভ্যাস আছে এবং সে জানে কিভাবে জিততে হয়’ ।
মোটেও ভুল বলেননি রোনালদোর এই ফুটবল পিতা ।
দুটি আলাদা দলের হয়ে ক্লাব ফুটবলে তিনবার ইউরোপের শ্রেষ্ঠত্বের মহানায়ক তো এই রোনালদোই ছিলেন ।
স্বপ্নের দ্বারপ্রান্তে এসে আজ কি ভাবছেন রোনালদো ? গ্রীকদের রুপকথায় তার সেই অশ্রু ঝড়ানো ২০০৪ কি এবার তাকে হাসাতে পারবে ?
নাকি এক যুগ পূর্বের সেই হাহাকার ফরাসীদের দ্বারা আরও তীব্রতর হবে ।
আজ নিশ্চই কাঁদতে চাইবেন পর্তুগীজ যুবরাজ । তবে সে কান্না সুখের কান্না, সে কান্না এক কাব্য রচনার কান্না ।
সে কান্নার জল দিয়েই হয়ত আজ লিখিত হবে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো দস সান্তোস এ্যাভেইরোর এক বিরল অমরত্ব ।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

17 − eleven =