বিশ্বকাপ ২০১৮ : টিম প্রিভিউ – পর্তুগাল

বিশ্বকাপ ২০১৮ : টিম প্রিভিউ - পর্তুগাল

বিশ্বকাপ ২০১৮ কে সামনে রেখে পর্তুগাল কোচ ফার্নান্দো সান্তোস ঘোষণা করেছেন ২৩ সদস্যের দল। ২০১৬ সালের ইউরোজয়ী পর্তুগাল দলের সদস্যদের মধ্যে অনেকেই বাদ গেছেন এই বিশ্বকাপের স্কোয়াড থেকে। ইউরো ২০১৬ এর ফাইনাল খেলা উইঙ্গার নানি ও সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার রেনাতো স্যানচেস কে যেমন নেওয়াই হয়নি পর্তুগাল স্কোয়াডে। বাদ গেছেন ইউরো ফাইনালে গোল দিয়ে দলকে জেতানো স্ট্রাইকার এডারও। বাদ গেছেন পর্তুগাল দলের আরও কিছু পরিচিত মুখ। তাদের জায়গায় দলে জায়গা করে নিয়েছেন বেশ কিছু নতুন মুখ। স্পেইন, ইরান ও মরক্কো হল বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘বি’ তে পর্তুগাল এর গ্রুপসঙ্গী। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক সর্বশেষ ইউরোজয়ী পর্তুগাল বিশ্বকাপের জন্য কিরকম স্কোয়াড বানালো!

গোলরক্ষক

  • রুই প্যাট্রিসিও (স্পোর্টিং লিসবন)
  • বেতো (গজতেপে)
  • অ্যান্থনি লোপেস (অলিম্পিক লিওঁ)

ডিফেন্ডার

  • সেড্রিক সোয়ারেস (সাউদাম্পটন)
  • মারিও রুই (নাপোলি)
  • রিকার্ডো পেরেইরা (এফসি পোর্তো)
  • পেপে (বেসিকতাস)
  • হোসে ফন্তে (দালিয়ান ইয়াফাং)
  • ব্রুনো আলভেস (রেঞ্জার্স)
  • রাফায়েল গেরেইরো (বরুশিয়া ডর্টমুন্ড)
  • রুবেন দিয়াজ (বেনফিকা)

মিডফিল্ডার

  • উইলিয়াম কারভালহো (স্পোর্টিং লিসবন)
  • আদ্রিয়েন সিলভা (লেস্টার সিটি)
  • হোয়াও মারিও (ওয়েস্ট হ্যাম ইউনাইটেড)
  • হোয়াও মটিনহো (মোনাকো)
  • ম্যানুয়েল ফার্নান্দেজ (লোকোমোটিভ মস্কো)
  • ব্রুনো ফার্নান্দেজ (স্পোর্টিং লিসবন)
  • বার্নার্ডো সিলভা (ম্যানচেস্টার সিটি)

স্ট্রাইকার

  • ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো (রিয়াল মাদ্রিদ)
  • গনক্যালো গুয়েদেস (ভ্যালেন্সিয়া)
  • জেলসন মার্টিনস (স্পোর্টিং লিসবন)
  • রিকার্ডো কুয়ারেজমা (বেসিকতাস)
  • আন্দ্রে সিলভা (এসি মিলান)

সুযোগ পেলেন না যারা

  • নানি (উইঙ্গার, লাজিও)
  • নেলসন সেমেদো (রাইটব্যাক, বার্সেলোনা)
  • ফাবিও কোয়েন্ত্রাও (লেফটব্যাক, স্পোর্টিং লিসবন)
  • রিকার্ডো কারভালহো (শাংহাই এসআইপিজি)
  • এডার (স্ট্রাইকার, লোকোমোটিভ মস্কো)
  • রেনাতো স্যানচেস (সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার, সোয়ানসি সিটি)
  • আন্দ্রে গোমেস (সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার, বার্সেলোনা)
  • ভিয়েইরিনহা (উইঙ্গার, পিএওকে)
  • দানিলো পেরেইরা (ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার, এফসি পোর্তো)
  • রাফা সিলভা (উইঙ্গার, বেনফিকা)
  • রুবেন নেভেস (সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার, উলভারহ্যাম্পটন ওয়ান্ডারার্স)
  • হোয়াও ক্যানসেলো (রাইটব্যাক, ইন্টার মিলান)
  • রনি লোপেস (অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার, মোনাকো)
  • লুইস নেতো (সেন্টারব্যাক, ফেনেরবাচে)

বাছাইপর্বে ১০ ম্যাচের মধ্যে ৯ ম্যাচ জেতা ও এক ম্যাচ হারা পর্তুগাল এর বাছাইপর্ব প্রতিদ্বন্দ্বীরা ছিল বেশ সহজ। সুইজারল্যান্ড, ফারো আইল্যান্ড, হাঙ্গেরি, অ্যান্ডোরা, ও লাটভিয়াকে নিয়ে গড়া এই গ্রুপ থেকে পর্তুগাল সহজেই জায়গা করে নেয় বিশ্বকাপে। সাধারণত ৪-৪-২ ফর্মেশনে দলকে খেলাতে পছন্দ করা কোচ ফার্নান্দো সান্তোস পরিস্থিতি অনুযায়ী দলকে ৪-৩-৩, ৪-২-৩-১, ৪-৪-১-১ ইত্যাদি ফর্মেশনেও খেলান। এ কথা বলে রাখা ভালো যে, পর্তুগাল দলে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো কিন্তু উইঙ্গার না, বরং পুরোদস্তুর স্ট্রাইকার হিসেবেই খেলেন। পর্তুগাল দলে নিয়মিত স্ট্রাইকার হিসেবে খেলার জন্যই কি না, এখন রিয়াল মাদ্রিদেও রোনালদো স্ট্রাইকার হিসেবেই খেলেন।

বিশ্বকাপ ২০১৮ : টিম প্রিভিউ - পর্তুগাল

তো যাই হোক, পর্তুগাল স্কোয়াডে গোলরক্ষক হিসেবে দলে নেওয়া হয়েছে স্পোর্টিং লিসবনের অধিনায়ক রুই প্যাট্রিসিও, গজতেপের বেতো ও অলিম্পিক লিওঁর অ্যান্থনি লোপেস কে। কোন ধরণের সন্দেহ ছাড়াই বিশ্বকাপের মূল একাদশে গোলরক্ষক হিসেবে থাকবেন রুই প্যাট্রিসিও। দলে সেন্টারব্যাক হিসেবে রয়েছেন সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ ডিফেন্ডার, বর্তমানে বেসিকতাসে খেলা পেপে, আছেন সাবেক সাউদাম্পটন ও ওয়েস্টহ্যাম সেন্টারব্যাক, বর্তমানে চাইনিজ ক্লাব দালিয়ান লিফাং এ খেলা সেন্টারব্যাক হোসে ফন্তে, আছেন রেঞ্জার্সে খেলা বর্ষীয়ান সেন্টারব্যাক ব্রুনো আলভেস। চতুর্থ সেন্টারব্যাক হিসেবে দলে নেওয়া হয়েছে বেনফিকার চমক – রুবেন দিয়াজকে। মূল সেন্টারব্যাক জুটি হিসেবে দলে থাকবেন পেপে ও ফন্তে, সাথে ব্যাকআপ হিসেবে বাকী দুইজন। রুবেন দিয়াজকে জায়গা দিতে গিয়ে দলে জায়গা হারিয়েছেন ফেনেরবাচের সেন্টারব্যাক লুইস নেতো।

রাইটব্যাক হিসেবে দলে রাখা হয়েছে সাউদাম্পটনের সেড্রিক সোয়ারেস আর পোর্তোর রিকার্ডো পেরেইরাকে। এদের দুইজনকে জায়গা দিতে গিয়ে দলে জায়গা হারিয়েছেন বার্সেলোনার রাইটব্যাক নেলসন সেমেদো ও ইন্টার মিলানের রাইটব্যাক হোয়াও ক্যানসেলো। পুরো মৌসুম ইন্টার মিলানের হয়ে দুর্দান্ত খেলার ফল পেলেননা ক্যানসেলো, বরং তাঁর জায়গায় নিজের আস্থার খেলোয়াড় সেড্রিককেই দলে নিয়েছেন সান্তোস। মূল একাদশেই খেলবেন এই সেড্রিকই। লেফটব্যাক হিসেবে দলে জায়গা করে নিয়েছেন বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের রাফায়েল গেরেইরো ও নাপোলির মারিও রুই। এদের দুইজনকে জায়গা দিতে গিয়ে দলে জায়গা হারিয়েছেন স্পোর্টিং লিসবন এর বর্ষীয়ান লেফটব্যাক ফাবিও কোয়েন্ত্রাও, বেনফিকার এলিসেউ, গেটাফের আন্তুনেস, রিয়াল সোসিয়েদাদের কেভিন রড্রিগেস। যদিও ফাবিও কোয়েন্ত্রাও দল ঘোষণা দেওয়ার আগেই দলের স্বার্থকে বড় করে দেখে বলেছিলেন তিনি বিশ্বকাপ খেলার মত অবস্থায় নেই। গেরেইরো আর মারিও রুইয়ের মধ্যে মূল দলে খেলার টিকিট পাবেন রাফায়েল গেরেইরো।

বিশ্বকাপ ২০১৮ : টিম প্রিভিউ - পর্তুগাল

৪-৪-২ ফর্মেশনে সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার থাকেন দুজন, আর ৪-৩-৩ এ খেলালে তিনজন। ২৩ সদয়ের এই দলে সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার হিসেবে নেওয়া হয়েছে মোনাকোর হোয়াও মটিনহো, স্পোর্টিং লিসবনের উইলিয়াম কারভালহো, ওয়েস্টহ্যামের হোয়াও মারিও ও লোকোমোটিভ মস্কোর ম্যানুয়েল ফার্নান্দেজ, লেস্টার সিটির আদ্রিয়েন সিলভা ও স্পোর্টিং লিসবনের ব্রুনো ফার্নান্দেজকে। সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার দুইজন নেওয়া হোক বা তিনজন, মূল একাদশে জায়গা মোটামুটি নিশ্চিত মোনাকোর হোয়াও মটিনহো, স্পোর্টিং লিসবনের উইলিয়াম কারভালহো ও ওয়েস্ট হ্যামের হোয়াও মারিওর। হোয়াও মারিও আবার ৪-৪-২ ফর্মেশনে লেফট মিডফিল্ডার হিসেবেও খেলেন প্রায়ই, ফলে সেন্ট্রাল মিড বা লেফট মিড, যেকোন জায়গাতেই মূল একাদশে হোয়াও মারিওকে দেখা যাবে। ওয়াইড মিডফিল্ডার হিসেবে দলে নেওয়া হয়েছে ম্যানচেস্টার সিটির বার্নার্ডো সিলভা, ভ্যালেন্সিয়ার গনক্যালো গুয়েদেস, স্পোর্টিং লিসবনের জেলসন মার্টিনস ও বেসিকতাসের রিকার্ড কুয়ারেজমাকে। ৪-৪-২ ফর্মেশানে হোয়াও মারিওকে লেফট মিডফিল্ডার হিসেবে খেলানো হয়ে ডানদিকে খেলবেন বার্নার্ডো সিলভা ও রিকার্ডো কুয়ারেজমার মধ্যে যেকোন একজন। আর হোয়াও মারিও না খেললে দলে চলে আসতে পারেন জেলসন মার্টিনস।

৪-৪-২ ফর্মেশানে খেলানো হলে পর্তুগাল দলে দুই স্ট্রাইকার হিসেবে খেলবেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও এসি মিলানের তরুণ পর্তুগিজ স্ট্রাইকার আন্দ্রে সিলভা। দলে আর কোন প্রথাগত টার্গেটম্যান নেই।

সবার অনুমানকে ভুল প্রমাণ করে ইউরো ২০১৬ তে বিজয় কেতন ওড়ানো ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো বাহিনী কি পারবে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের সীমানা ইউরোপ থেকে পুরো বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে? আপনার কি মনে হয়? জানিয়ে দিন আমাদের!

স্কোয়াড প্রিভিউ দেখুন আরও –

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

one × 5 =