পন্ডিত বাংলাদেশি এবং ক্রিকেটারদের প্রতি তাদের মনোভাব

 

এদের মতে সব বাংলাদেশি ক্রিকেটারকে শচিনের মত নম্র ভদ্র হওয়া লাগবে। নাইলে তারা বেয়াদব অহংকারী , একটু খারাপ খেললেই তখন চক্ষুশূলে পরিণত হয়। এদের কাছে মুশফিকুর এর ক্যাপ্টেন্সি ই ভালো লাগে , কেননা সে নিরীহ নম্র ভদ্র , কিন্তু সাকিব বা তামিমকে ভাল্লাগেনা . কারণ তারা ঘাড়ত্যাড়া। কিন্তু ব্যাপারটা যে অন্যরকম ও হতে পারে বা প্রত্যাকটা মানুষ আলাদা তা বোঝার ঘিলু এদের নাই। নিজের অভিজ্ঞতা থেকেও বলতে পারি যখন খেলাটার প্রতি খুব বেশি passion থাকে বা হারতে না চাওয়ার মানসিকতা থাকে তখন কিছু উল্টাপাল্টা কাজ এমনিতেই হয়ে যায় , আমার এই প্রবলেমটা ছিলো , কখনো হারতে চাইতাম না , জেতার জন্য মরিয়া থাকতাম। তাই ঘাড়ত্যাড়ামি করতাম , মাঠে নামলেই মাথা ঠিক থাকতোনা , এইজন্য আমাদের ব্যাচের প্রিমিয়ার লীগে আমি দুইবার ক্যাপ্টেন থেকে একবার চ্যাম্পিয়ন আরেকবার রানার্সআপ হলেও আমার টিমের কোন সাপোর্টার থাকতোনা। প্রতিটা ম্যাচেই ঘটা করে আমার টিমের বিরুদ্ধে গলা ফাটাতো। Against the all odds আমাদের ম্যাচ জিততে হতো। আমি কাউকে বোঝাতে পারতাম না যে খেলাটার প্রতি আমার আবেগ অন্যরকম বা আমি যেইভাবেই হোক ভালো পারফর্মেন্স চাই টিমের থেকে , সেই সাথে নিজে ভালো করার ও জেদ কাজ করতো। তামিম সাকিব এর ও ব্যাপারটাও তেমন বলে আমার নিজের কাছে মনে হয়। এইজন্য সে ব্যক্তিগত ভাবে খুব নম্র না ভদ্র না একটু এলোমেলো এইগুলা দেখাটা আমার মূর্খতা মনে হয়। হ্যাঁ এইটা ঠিক যে শচীন সাংগা এরা বাড়তি সম্মান পাবেই তাদের বিনয়ের জন্য কিন্তু তাই বলে পন্টিং ওয়ার্ন বা হালের ওয়ার্নারদের তুচ্ছ করবা এমন তো হতে পারেনা। আমার মনে হয় কোহলি ওয়ার্নার ওয়ার্ণ কেয়ার্ন্স বা ফুটবলার ক্যান্টোনা রয় কিন এরা বাংলাদেশে জন্মালে কোনদিন সুপারস্টার হতে পারতোনা , খালি নাক সিটকানি দেখতে হতো। বাংলাদেশ ই বোধহয় এমন এক দেশে যেইখানে পারফর্মেন্স না দেখে আগে দেখা হয় ব্যক্তিগত ভাবে কে কেমন , এমন কি ভারতেও পর্যন্ত কোহলিকে মাথায় তুলে রাখা হয় , আর সেইজন্যই সে চাপহীন ভাবে পারফর্ম করে যাচ্ছে , আর আমাদের গুলাকে শুনতে হয় কটু কথা বা জঘন্য মন্তব্য .

আরেকটা প্রবণতা আছে এই দেশের দর্শকদের . দুয়েক ম্যাচ খারাপ খেললেই তাকে বাদ দিয়ে দাও এমন শোরগোল তোলা। কিন্তু এই মাথামোটাগুলা জানেনা শুরুর দিকের কয়েকটা ম্যাচ দেখে বাদ দিয়ে দিলেই কেন উইলিয়ামসন যার প্রথম ৪-৫ ম্যাচে শূন্যের কোঠায় রান ছিলো সে এখন বিশ্বের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান হতোনা , স্টিভেন স্মিথ শুরুতে লেগি হিসেবে আসছিলো আজ সে টপ ব্যাটসম্যান হতোনা। কোহলি ভিলিয়ার্স এরা সেরা ব্যাটসম্যান হতোনা যদি শুরুর দিকের পারফর্মেন্স দেখা হয়। আমরা খুব ই অধৈর্য্য যে যে যার মত প্লেয়ারদের বাদ দেয়ার জন্য মুন্ডুপাত করতে থাকি। আর একটা গুরুত্বপূর্ন কথাও এরা জানেনা যে আমাদের একটা খামখেয়ালি ক্রিকেট বোর্ড আছে যে এরা বাদ পড়া প্লেয়ারদের তেমন যত্ন নিতে পারেনা , তখন সেইসব প্লেয়াররা হতাশ হয়ে পড়ে , অনেকে হারিয়েও যায়। ফলে পাইপলাইনে ভালো রিপ্লেইসমেন্ট পাওয়া যায়না , তখন যখন ইনফর্ম প্লেয়ারটা হঠাৎ পারফর্ম করা ভুলে যায় তখন তাকে বাদ দেয়ার জন্য উঠেপড়ে লাগি , কিন্তু বুঝিনা তারে বাদ দিয়ে যে আরেকজন নিবো সেই প্লেয়ার ই তো নাই। তামিমের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছিল। তাই আমাদের ধৈর্য্য ধরতে হবে। এবং যারা দলে এসে বাদ পড়ে যেমন লিটন দাস মমিনুল প্রভৃতি এদেরকে জাতীয় দলের প্লেয়ারদের মত সমান গুরুত্ব দিয়ে যত্ন নিতে হবে , প্রপারলি সুপারভাইজ করতে হবে , এ দল বা একাডেমি দল বা হাই পারফরমেন্স ইউনিট জোরালো করতে হবে। বোর্ডের পাশাপাশি আমাদের ও প্লেয়ারদের পাশে থাকতে হবে। মনে রাখতে হবে গঠনমূলক সমালোচনা আর গালিগালাজ এক জিনিস না।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

3 × three =