নেইমারের ব্যানঃ আরেকটি লজ্জার উপহার?

নেইমার। এক জন ইয়ুথ সেনসেশন থেকে হয়েছেন পৃথিবীর অন্যতম সেরা খেলোয়ার। এই কাঁচা বয়সে তিনি ব্রাজিলের ২০ কোটি মানুষের আশা ভরসার প্রতীক।

29CAC9DA00000578-0-image-a-1_1434752109184

কিন্তুু সেই আশা ভরসার প্রতীকই নিজের মাথা ঠিক না রাখতে পেরে কলম্বিয়া কাণ্ডের পর চার ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছেন।

নেইমারের না থাকা ব্রাজিল দলের জন্য যে কি পরিমাণ অপূরণীয় ক্ষতির ব্যাপার সেটা আর না বললেও চলে। শেষ যে ম্যাচে নেইমার ব্রাজিলের হয়ে খেলতে পারেননি ব্রাজিলকে হজম করতে হয়েছিল সাত-সাতটা গোল। জি ঠিক ধরেছেন, বিশ্বকাপে জার্মানির বিরুদ্ধে সেই অভিশপ্ত সেমিফাইনাল। এমনকি নেদারল্যান্ডের সাথে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচেও খেয়েছিল ব্রাজিল তিনটা গোল। ফলে যে দুই ম্যাচ নেইমার খেলেননি, ব্রাজিল হজম করেছে দশ গোল আর দিয়েছে মাত্র এক গোল! ফলে বর্তমান ব্রাজিল দল কি পরিমাণ নেইমারের উপর নির্ভরশীল তা পূর্বের ফলাফল থেকেই প্রতীয়মান।

প্রথমে গত বিশ্বকাপের প্রসঙ্গ আনি। ম্যানেজার ছিলেন স্কলারি। ইয়েস, তিনি ব্রাজিলকে একটি বিশ্বকাপ জিতিয়েছেন। কিন্তু টেকটিশিয়ান হিসেবে তিনি যে খুবই লিমিটেড সেটা তাঁর চেলসি ম্যানেজার থাকাকালীন সময়ে বুঝা গিয়েছিল। এবার সেটা ২য় বারের মত সেটা ভালো মত বুঝা যায় জার্মানির সাথের ম্যাচে। নেইমারের অনুপস্থিতে তিনি দলে আনেন বার্নারডকে। লেফট উইঙ্গে অলস বার্নারড ও অতিরিক্ত এটাকিং মারসেলোর উপস্থিতি। ব্যস, আর জার্মানিকে পায় কে?! নিজেদের রাইট ফ্লেঙ্ক দিয়ে একের পর এক আক্রমণে কোনঠাসা করে ফেলে ব্রাজিলকে। পুরো বিশ্বকাপে নেইমার ছিলেন পুরো দলের লিঙ্ক ম্যান। সেই নেইমারের অনুপস্থিতিতে ব্রাজিল দলে কোহেশন পুরো উধাও হয়ে যায়। শুধু ৬ জন ডিফেন্ডিং, আর শুধু ৪ জন এটাকে, তাঁদের মধ্যে লিঙ্ক কেউ গড়ে তুলতে পারেননি।

আরেক মিনেইরাজো যেন না হয়...
আরেক মিনেইরাজো যেন না হয়…

এবারের ম্যানেজার দুঙ্গা। টেকটিকালি বেটার হলেও তাঁর প্ল্যান ‘বি’ এর অনুপস্থিতি নিয়ে অনেক ব্রাজিল ফ্যানের মাঝেই কমপ্লেন আছে। পর পর ১০টি ফ্রেন্ডলি ম্যাচ জিতে এই সমালোচকদের মুখ পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে পারতেন দুঙ্গা ব্রাজিলকে কোপা আমেরিকা জিতিয়ে।

এবারের ব্রাজিল ও যে নেইমারের উপর কোন অংশে কম নির্ভরশীল নয় তা কোপা আমেরিকার ২ ম্যাচ থেকেই বুঝা যাচ্ছে। প্রথম ম্যাচে দুর্বল পেরুর বিপক্ষে কষ্টারজিত জয় নিয়ে ফেরে ব্রাজিল নেইমার ম্যাজিকে। প্রথমে দুর্দান্ত এক হেডার, আর এরপর তাঁর অসাধারণ এক পাসের থেকে ডগ্লাস কস্তার গোলে ৩ পয়েন্ট অর্জন করে ব্রাজিল।

নেইমার ইফেক্ট আঁচ করে কলম্বিয়া ম্যানেজার পেকারম্যান ২য় ম্যাচে নেইমারের পিছে লেলিয়ে দেন কার্লোস সানচেজকে। অসাধারণ এক পারফর্মেন্স দেখিয়ে পুরো ম্যাচে নেইমারের মত খেলোয়ারকে অনেকটাই নিষ্ক্রিয় রাখেন তিনি।

ফলাফল দুঙ্গার ব্রাজিলের প্রথম পরাজয়।

নেইমারও হয়ত নিজের স্বভাবসুলভ খেলা প্রকাশ না করতে পেরে রেগে গিয়েছিলেন। ম্যাচ শেষে হাস্যকর ভাবে বিপক্ষের খেলোয়ারের মাথার দিকে বলে কিক, তারপর দোষ শিকার না করে উল্টো কলম্বিয়ার খেলোয়ারদের সাথে ঝগড়া, পরিশেষে রেড কার্ড খাবার পর টানেলে রেফারিকে গালি দেওয়া, এসব তাঁর নিজের ফ্রাসট্রেশনের কথা অনেক অংশেই তুলে ধরে।

29B9C4D800000578-3130172-image-m-2_1434648121169

নেইমারবিহীন ব্রাজিল কি পারবে পুরনো ঘটনার পুনরাব্ৃত্তি না করতে? নাকি দক্ষিণ আমেরিকার একমাত্র দল যারা এখনো বিশ্বকাপ খেলেনি, সেই ভেনেজুয়েলার সাথে পরাজিত হবার বিরাট লজ্জা বরণ করবে?

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

2 × 2 =