কেমন হবে নেইমারহীন ব্রাজিল?

 

কলম্বিয়া কাণ্ডের পর নিষিদ্ধ হয়েছেন চার ম্যাচের জন্য, ফলে কোপা আমেরিকাতে আর খেলা হচ্ছেনা তাঁর। কোপা অভিযান এখন ব্রাজিলকে সম্পন্ন করতে হবে তাদের মূল যোদ্ধাকে ছাড়াই। কিভাবে সম্পন্ন করবে ব্রাজিল, সেটা একটা বড় প্রশ্নবোধক চিহ্নই বটে।

নেইমারের না থাকা ব্রাজিল দলের জন্য যে কি অপূরণীয় ক্ষতি সেটা আর না বললেও চলছে। শেষ যে ম্যাচে নেইমার ব্রাজিলের হয়ে খেলতে পারেননি ব্রাজিলকে হজম করতে হয়েছিল সাত-সাতটা গোল। ঠিক ধরেছেন, বিশ্বকাপে জার্মানির বিরুদ্ধে সেই অভিশপ্ত সেমিফাইনাল। নেদারল্যান্ডের সাথে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচেও খেয়েছিল ব্রাজিল তিনটা গোল। ফলে যে দুই ম্যাচ নেইমার খেলেননি, ব্রাজিল হজম করেছে দশ গোল আর দিয়েছে মাত্র এক গোল! ভালো ঝামেলাতেই পড়তে যাচ্ছে ব্রাজিল।

আরেক মিনেইরাজো যেন না হয়...
আরেক মিনেইরাজো যেন না হয়…

তাও, নেইমার নেই বলে ত আর খেলা থেমে থাকতে পারে না। ব্রাজিল কোচ কার্লোস দুঙ্গাকে অবশ্যই বের করতে হবে নতুন ফর্মূলা, নতুন টনিক – কোপা জয়ের জন্য। এমনিতেই দুই ম্যাচের একটাতে ড্র করতে করতে নেইমার-জাদুতে জিতা আর আরেক ম্যাচে সরাসরি হেরে যাওয়াতে ব্রাজিল ধুঁকছে। এখন নেইমারহীন ব্রাজিলের ছক কষতে হবে কোচ দুঙ্গাকে।

দেখা যাক, কিরকম হতে পারে নেইমারহীন ব্রাজিলের মূল একাদশ!

ব্রাজিলের প্রথম দুই ম্যাচের স্কোয়াড পর্যালোচনা করতে দেখা যায় দুই ম্যাচেই কোচ দুঙ্গা ৪-২-৩-১ ফর্মেশানকে প্রাধাণ্য দিয়েছেন। যে ফর্মেশানে নেইমারের জায়গা হয়েছিল অ্যাটাকিং মিড বা ‘hole’ এ। দুই ম্যাচেই নেইমারের পিছনে ডিফেন্সিভ শিল্ড দিয়ে গেছেন ফার্নান্ডিনিও আর এলিয়াস। দুই উইঙ্গে ছিলেন উইলিয়ান আর ফ্রেড। রোটেশান হয়েছে সেন্টার ফরোয়ার্ডের ক্ষেত্রে, প্রথম ম্যাচে খেলেছেন ডিয়েগো তারদেইয়ি, দ্বিতীয় ম্যাচে রবার্টো ফিরমিনো। এখন নেইমার না থাকাতে অ্যাটাকিং মিড রোলেই নতুন কাউকে দেখা যাবে।

পেরুর বিরুদ্ধে ব্রাজিল
পেরুর বিরুদ্ধে ব্রাজিল
কলম্বিয়ার বিপক্ষে ব্রাজিল
কলম্বিয়ার বিপক্ষে ব্রাজিল

নেইমার না থাকাতে নেইমারের জায়গায় দলে ঢোকার মত খেলোয়াড় আছেন বলতে গেলে ফিলিপ ক্যুটিনিও, রবার্টো ফিরমিনো, ডিয়েগো তারদেইয়ি, ডগলাস কস্টা, এভারটন রিবেইরো ও রবিনিও।

স্বাভাবিকভাবেই এককালে নতুন পেলে বলে খ্যাত রবিনিওর সে সুদিন আর নেই, দুঙ্গা যে তাঁকে স্টার্টার হিসেবে খেলাবেননা এটা একরকম নিশ্চিতই। এরপর আসেন দিয়েগো তারদেইয়ি। দুঙ্গার ব্রাজিলে যার রোল মোটামুটি অলস টার্গেটম্যানের। কিছুদিন আগে ব্রাজিল দলে ফ্রেডের (এই ব্রাজিল দলে ফ্রেড না, বিশ্বকাপের লর্ড ফ্রেড) যা ছিল। তাই হিসাবে তারদেইয়িকে আগে থেকেই বাদ দেওয়া যায়। দুঙ্গার ব্রাজিলে নেইমার মূলত খেলে এসেছেন ফ্রি রোলে। বাঁধাধরা ছাড়া। ডিফেন্সিভ দায়িত্ব বলতে গেলে পালনই করতে হয়নি, মনোযোগ দিয়ে গেছেন শুধুই আক্রমণে। ডিফেন্সিভ মিড থেকে বল নিয়ে এসেছেন, ইচ্ছামত আনপ্রেডিক্টেবল হয়ে আক্রমণে গেছেন। ব্রাজিল দলে এরকম আনপ্রেডিক্টেবল হবার ক্ষমতাটা রাখেন আমার মতে দুইজন।

রবার্তো ফিরমিনো আর ফিলিপ ক্যুটিনিও।

এর মধ্যেই এক ম্যাচ স্টার্ট করা রবার্তো ফিরমিনো বুঝিয়ে দিয়েছেন কোচ দুঙ্গার সুনজর তাঁর উপর আছে। যদিও শেষ ম্যাচে শিশুতোষ একটা ভুল করে ব্রাজিলকে এগিয়ে দিয়ে পারেননি, তাও সামনে ফিরমিনো আর পিছে ক্যুটিনিও খেললে, মোটামুটি ম্যাচ বের করার ক্ষমতা কারোর থাকলে এই দুইজনেরই আছে। গত মৌসুমে লিভারপুলকে টানার কাজটা মোটামুটি এই ক্যুটিনিও আর স্টার্লিং মিলেমিশেই করেছেন। এমনিতেও কোপার সপ্তাহ খানেক আগে কৌতিনহো নেইমারের জায়গায় নেমে দারুন এক গোল করে বুঝিয়ে দিয়েছেন তার মধ্যে একাই দুই দলের মধ্যে পার্থক্যটা গড়ে দেবার ক্ষমতাটা আছে যেটা ডগলাস কস্তা বা রিবেইরোর কাছে আশা করাটা বোকামি বা উচ্চাশা।

কিন্তু খেলোয়াড় হিসেবে ডিফেন্সিভ মিডে খেলা দুঙ্গার ডিফেন্সিভ মাইন্ডেড খেলোয়াড়দের প্রতি সুনজর আজকে নতুন না। কিন্তু তাই বলে নেইমারের জায়গায় ডগলাস কস্টা না ডিয়েগো তারদেইয়িকে খেলালে মিনেইরাজোর মত আরেক আক্ষেপগাথা লেখা হলেও আশ্চর্যের কিছু থাকবেনা। জার্মানির বিপক্ষে সেই ম্যাচে স্ট্রাইকার ফ্রেড পায়ে আদৌ বল পেয়েছিলেন কিনা সেটা এখনো যথেষ্ট গবেষণার বিষয়।

1277428_America_FC_CE

৪-২-৩-১ ফর্মেশানে তাই hole এ খেলার মত যোগ্য কেউ থেকে থাকলে সেটা ফিলিপ ক্যুটিনিওই। আর সামনে রবার্তো ফিরমিনো।

দেখা যাক নেইমারহীন ব্রাজিল কতদূর এগোতে পারে!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

eight − 7 =