দ্য ম্যান হু নেভার ব্যাকড ডাউন

কল্পনা করুন আপনি একজন ফুটবলার, খেলেন স্ট্রাইকার হিসেবে, ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগের মত প্রতিযোগিতাপূর্ণ একটা লিগে। চূড়ান্ত নিওমোনিয়া ধরা দিল আপনার এইসময়ে। ফলাফল, মাঠের বাইরে আপনি। কোনরকমে নিউমোনিয়া থেকে মুক্ত হয়ে যেই আবার মাঠে নামতে যাবেন, নিজেকে ঝালিয়ে নেওয়ার জন্য রিজার্ভ স্কোয়াডের সাথে খেলতে গিয়ে প্রতিপক্ষের কড়া ট্যাকলে ধুম করে ভেঙ্গে বসলেন দু-দুটো পা! এই অবস্থায় আপনার কনফিডেন্স লেভেলটা কতটুকু নিচে নামতে পারে বলে আপনি মনে করেন? বা আদৌ কনফিডেন্স বলে কিছু আপনার মধ্যে অবশিষ্ট থাকবে কি?

যদি থাকে, তাহলে আপনার আর অ্যান্ডিউ অ্যালেক্সান্ডার কোলের মধ্যে কোন পার্থক্য আছে বলে মনে হয়না।

ঠিক এইধরণের সময়ের মধ্যে দিয়েই কাটিয়েছেন অ্যান্ডি কোল ক্যারিয়ারের একটা অংশ। চুপচাপ নিজের কাজ গোল করা ও করানো করে নিভৃতে, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে জিতাতে সাহায্য করেছেন অনেক অনেক ট্রফি। তাই বলে ইউনাইটেডে তিনি যে তথাকথিত ‘নিউমেরো উনো’ সুপারস্টার ছিলেন তা কিন্তু না। নিয়মিত স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের কাছে নিজের দাম প্রমাণ করতে হয়েছে, নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করতে হয়েছে। তাঁর আসার পরেও ফার্গুসন শুধুমাত্র তাঁর উপর ভরসা না করতে পেরে দলে এনেছিলেন ইংলিশ স্ট্রাইকার টেডি শেরিংহ্যামকে, যেই শেরিংহ্যামের সাথে কোলের দা-কুমড়ো সম্পর্ক তৎকালীন ব্রিটিশ ট্যাবলয়েডগুলোর বিক্রি বাড়ানোর বিশাল এক উপকরণ ছিল। বারংবার কোলকে বেচে দিয়ে আরেক ইংলিশ কিংবদন্তী অ্যালান শিয়ারারকে দলে টানতে চেয়েছেন ফার্গুসন, পারেননি, আর আগে থেকে ক্লাবের অবিসংবাদিত রাজা এরিক ক্যান্টোনা ত ছিলেনই। পরে ফার্গুসন এনেছেন ডুইট ইয়র্ক ও ওলে গানার সোলসকায়েরের মত প্রবাদপ্রতিম স্ট্রাইকারকে।

14642721_1297669000265804_148277350_n

তাও কোল আশা হারাননি। ইউনাইটেডের কিংবদন্তী হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলেছেন আস্তে আস্তে। অ্যালান শিয়ারারের (২৬০) পর ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতার (১৮৭) আসনটা ত আর এমনিতেই পোক্ত হয়নি! তাও পেনাল্টির হিসাব বাদ দিলে শিয়ারারের থেকে কোলই (শিয়ারারের ৫৬, কোলের ১) ভালো স্ট্রাইকার ছিলেন, অন্তত পরিসংখ্যান কিন্তু তাই-ই বলে! সার্জিও অ্যাগুয়েরো, দিমিতার বারবাতভ, অ্যালান শিয়ারার, জার্মেইন ডেফোদের আগে কোলই কিন্তু প্রিমিয়ার লিগের দর্শকদের দেখিয়েছিলেন কিভাবে এক ম্যাচে ৫ গোল করা যায়!

পরে রুড ভ্যান নিস্টলরয়ের আসার পর ইউনাইটেড ছাড়তে হয় কোলকে। যোগ দেন ব্ল্যাকবার্নে। তবে ইউনাইটেড হোক, নিউক্যাসল হোক, কিংবা ক্যারিয়ার সায়াহ্নে ম্যানচেস্টার সিটি হোক, আদর্শ স্ট্রাইকিং পার্টনারের সংজ্ঞাটা পরিপূর্ণতা কিন্তু পেয়েছে ফুটবল ইতিহাসে একজন অ্যান্ডি কোল ছিলেন বলেই। নিউক্যাসল ইউনাইটেডে থাকার সময় পিটার বেয়ার্ডসলি, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে থাকার সময় ডুইট ইয়র্ক ও টেডি শেরিংহ্যাম, কিংবা সিটিতে থাকার সময় দারিয়াস ভেসেল – সবার সাথেই জুটি বেঁধে খেলা পছন্দ করতেন তিনি ; যার প্রতিফলন ঘটেছে অ্যাসিস্ট তালিকাতেও। রায়ান গিগস ও ডেনিস বার্গক্যাম্পের পর এই অ্যান্ডি কোলের অ্যাসিস্টই কিন্তু সবচাইতে বেশী প্রিমিয়ার লিগে, জানেন সেটা?

আজ এই নিভৃতচারী কিংবদন্তীর জন্মদিন। দশজন ইউনাইটেড সমর্থককে জিজ্ঞাসা করুন, তাদের প্রিয় ইউনাইটেড খেলোয়াড় হিসেবে প্রায় দশজনই বলবে হয় এরিক ক্যান্টোনা, নয় ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো-ওয়েইন রুনি-রুড ভ্যান নিস্টলরয়-পল স্কোলস-রায়ান গিগস-স্যার ববি চার্লটন-জর্জ বেস্ট এদের নাম। কতজন অ্যান্ডি কোলের কথা মনে রেখেছেন?

শুভ জন্মদিন কোল!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

nineteen + 3 =