দ্য নেইম ইজ খান, তামিম ইকবাল খান!

hkhf

আচ্ছা, তামিম ইকবালকে আমরা প্রথমবারের মত আমাদের ‘বিগ শট’ ভাবতে শুরু করি কবে, মনে আছে? হ্যা, ভারতের বিপক্ষে ওই বিখ্যাত ম্যাচটার পর থেকে। এরপর থেকেই বিধ্বংসী ওপেনার বলতে আমরা জানতাম একটামাত্র নাম, তামিম ইকবাল।

কিন্তু আসলেই কি ইনিংসটা বিধ্বংসী ছিল?

অন্তত স্কোরকার্ড কিন্তু সেরকম কিছু বলে না। ৫৩ বলে ৫১ রান, স্ট্রাইকরেট ৯৬.২২। খুব বিধ্বংসী কিছু বলে মনে হচ্ছে কি? অবশ্যই না। কিন্তু যারা ম্যাচটা দেখেছিলেন, তাঁরা জানেন ওই ইনিংসের মাহাত্ম্য।

ওই ম্যাচের আগে তামিম ইকবাল খেলেছেন মাত্র তিনটা ম্যাচ। মাত্র তিনটা ম্যাচ খেলা দলের তরুণতম ব্যাটসম্যান ইনিংসের প্রথম বলটা ফেস করছে, শুনতে সেটা যতটা থ্রিলিং, বাস্তবে সেটা ঠিক ততটাই কঠিন। অথচ তামিম নামের তরুণ সেই ছেলেটা বিন্দুমাত্র ভয় না পেয়ে প্রথম বল থেকেই আক্রমণাত্মক সব শট খেলতে শুরু করেছিল। কি প্রচন্ড উচ্চাভিলাষ, কি ভয়াবহ আত্মবিশ্বাস সেইসব শটে! কিন্তু এইসব কেতাবি কথাবার্তায় কি সেই ইনিংস ব্যাখ্যা করা সম্ভব?

জহির খান তখন ভারত, তর্কসাপেক্ষে সমগ্র ক্রিকেটবিশ্বেরই অন্যতম সেরা পেসার। আগের বলেই সম্পূর্ণভাবে পরাস্ত করেছেন মাত্র তিনটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা অনভিজ্ঞ এক বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানকে। তৎকালীন অন্য যেকোনো ব্যাটসম্যান এইরকম মুহূর্তে বোলারকে সমীহ করেই খেলার কথা চিন্তা করতেন। জহির খানও নিশ্চয়ই চিন্তা করছিলেন ওভাবেই।

কিন্তু কিসের কি! পরের বলেই ডান্সিং ডাউন দ্য উইকেটে দুই কদম এগিয়ে এসে সপাটে ব্যাট চালালো সেই টগবগে তরুণ ব্যাটসম্যান, বল সোজা গ্যালারিতে গিয়ে পড়লো। মাঠের বিশাল বড় স্ক্রিনে ধরা পড়লো হতবুদ্ধি বোলার এবং ক্যাপ্টেনের মুখ। বাংলাদেশের ক্রিকেটের এখনও অন্যতম বড় বিজ্ঞাপন এই শট। এই শটের মাধ্যমেই প্রথমবারের মতো ক্রিকেটবিশ্ব জেনেছিল একজন ‘তামিম ইকবাল’-এর কথা, যে একটামাত্র শটে বাংলাদেশের ওপেনিং জুটির সংজ্ঞা পাল্টে দিয়েছিল। তামিম ইকবালের ওই একটামাত্র শটই বিপক্ষদলের খেলোয়াড়দের মনোবল ভেঙে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল। অনেক বড় বড় ব্যাটসম্যান ১৩-১৪ বছরের ক্যারিয়ারে অনেক বড় বড় ইনিংস খেলেও যেটা করে দেখাতে পারেননি, তামিম সেটাই করে দেখাতে পেরেছিলেন ওই ম্যাচে।

এইবার তামিমের মুখ থেকে শোনা একটা কথাঃ

“১৮০-এর ঘর থেকে তিন ছক্কায় দুইশ’…এখন ভাবলে কেমন লাগে?”

“ভাবলে বা ভিডিও যখন দেখি, ভয় লাগে…কি করেছি এসব! ৯০ ভাগ ব্যাটসম্যানই হয়তো ওটা করবে না। কিন্তু ওই সময় ওটাই ঠিক মনে হয়েছে আমার। আর লেগ স্পিনারটা যখন বল করছিল, বাতাস ছিল আমার অনুকূলে। জানতাম একটু মিস হিট হলেও বাতাসে ভেসে চলে যাবে বল।
আর ১৯৫ থেকে ছক্কায় ডাবল সেঞ্চুরি করার শট ছিল ‘সেট আপ।’ আগের দু বলে শট খেলিনি আমি, বোলারকে টেনে এনেছি ওখানে বল করতে যাতে তুলে মারতে পারি।”

আর তাই তামিম এখনো পর্যন্ত বাংলাদেশের সবচেয়ে বিধ্বংসী ব্যাটসম্যান। আর সেটা ব্যাখ্যা করার জন্য কোনো স্ট্যাটিস্টিকস দরকার পড়ে না। কারণ, কোনো একটা সময়ে পড়েছিলাম,“Sometimes it’s not about what you do. It’s rather about how you do.”

কেন বললাম এত এত কথা? জানি না, সবসময় সবকিছুর কারণ থাকা লাগে না। স্রেফ বলে যেতে হয়।

Tamim

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

17 + seven =