দেশের খেলোয়াড়দের পেছনে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা

এই মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ আজকে ওয়ানডে টিমে থাকত না। গত শ্রীলঙ্কা সফর এখনও সুদুর অতীত নয়। টেস্ট একাদশ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল, ফর্মের কারণে সেটা যৌক্তিকও ছিল। কিন্তু সেটিই শেষ নয়, তাকে দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছিলো। মানে ওয়ানডে স্কোয়াড থেকেই বাদ!

তুমুল সমালোচনা হয়েছিল, এই দেশের সংবাদ মাধ্যমে। রিয়াদকে দেশে পাঠানোর কথা শ্রীলঙ্কায় যেদিন বললেন ম্যানেজার, দেশে রীতিমত ঝড় বয়ে গিয়েছিল। সেদিনই বোর্ড প্রধানের সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নে জর্জরিত করা হয়েছিল। সংবাদ মাধ্যমের অবস্থান দেখে রাতারাতি পাল্টে গিয়েছিল অবস্থান। শাক দিয়ে মাছ ঢাকার মত নানা যুক্তির চেষ্টা ছিল। তবে কাজের কাজটি হয়েছিল। রিয়াদ ওয়ানডেতে টিকে গিয়েছিলেন।

সেই রিয়াদ আয়ারল্যান্ডে গিয়ে প্রথম ম্যাচে বিপর্যয়ে হাল ধরলেন। পরের ম্যাচে দল হারলেও ফিফটি করলেন। শেষ ম্যাচে দলকে জেতালেন।

সৌম্য সরকারের ব্যাড প্যাচ বেশ দীর্ঘ হয়েছিল। যদিও ম্যাচের হিসেবে খুব বেশি নয়। মাত্র সাতটি ওয়ানডে ফিফটি বিহীন ছিলেন। টেস্ট তো তখনও সেভাবে খেলছিলেন না। তবে টি-টোয়েন্টি ফর্ম বাজে ছিল। সঙ্গে ঢাকা লিগ, বিপিএল মিলিয়ে মনে হচ্ছিলো সৌম্য কত-কতদিন রান পাচেছন না!

পুরো সময়টাতেই সৌম্যর পাশে ছিল বেশির ভাগ সংবাদ মাধ্যম। হ্যাঁ, বাজে শটের সমালোচনা হয়েছে, খারাপ খেললে সেসব লেখা হয়েছে। কিন্তু দল থেকে বাদ দেওয়া বা ছুঁড়ে ফেলার দাবী উঠেছে কমই। কারণ, আমরা সবাই জনতাম সৌম্য মাচ উইনার। জানতাম, সৌম্য ওয়ান অফ আ কাইন্ড। জানতাম সৌম্যকে একটু আলাদা ট্রিট করতে হবে। বিশেষ প্রতিভার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা।

অন্য অনেকের ক্ষেত্রে হয়ত ঘরোয়া ক্রিকেটে পাঠিয়ে ফর্মে আনার প্রক্রিয়া অনুসরণ করা যায়। কিন্তু সৌম্যর ঘরানার ব্যাটসম্যানদের আন্তজাতিক ক্রিকেটেই ফর্মে ফেরা জরুরী। কারণ বাদ দিলে এই ধরণের ব্যাটসম্যানদের আত্মবিশ্বাস একদম ধসে যায়। কিন্তু আত্মবিশ্বাস, নিজের সামর্থ্যে আস্থাই এই ঘরানার ব্যাটসম্যানদের সবচেয়ে বড় সম্পদ। যদি নিজের সামর্থ্যে সংশয় ঢুকে যায়, নিজের খেলাটা বদলে যায়, তাহলে তারা অর্ডিনারি হয়ে পড়ে। যদি সামর্থ্যে আস্থা থাকে, তাহলে তারা অসাধারণ। যেদিন খেলবে, প্রতিপক্ষকে ধসিয়ে দেবে। খেলার ধরণের কারণেই তারা স্পেশাল।

যেটা বলছিলাম, চারপাশের প্রবল সমালোচনার সময়ও বেশির ভাগ সময় সৌম্যকে সমর্থন দিয়ে গেছে মিডিয়া। পাশে থেকেছে। অপেক্ষায় থেকেছে। সৌম্য প্রতিদান দিতে শুরু করেছেন।

অবশ্যই এখনও এমন কোনো হাতী-ঘোড়া করে ফেলেননি দুজনের কেউই। আরও অনেক কিছু প্রমাণের বাকি। আরও অনেক কিছু দেখানোর বাকি। খেলাটা ক্রিকেট, যে কোনো কিছুই হতে পারে। ফর্ম ভালো থেকে বাজে হতে সময় লাগে না। সামনেই দুজনের বাজে সময় আসতে পারে। তবে এখন অন্তত বলা যায়, তাদের পাশে দাঁড়ানোটা ভুল ছিল না।

বাংলাদেশের বেশির ভাগ সংবাদ মাধ্যমই বেশির ভাগ সময় ক্রিকেট ও ক্রিকেটারদের পাশে থেকেছে। ক্রিকেটারদের সঙ্গে আমাদের দারুণ সম্পর্কেও সেটিরই প্রতিফলন। বাংলাদেশের ক্রিকেট এগিয়ে যাওয়ার পেছনে সংবাদ মাধ্যমের অবদানও কৃতজ্ঞচিত্তেই বলে থাকেন ক্রিকেট সংশ্লিষ্টরা। অন্য দেশের সংবাদকর্মীরা সেসব দেখে অবাক হন।

তবে এই লেখার মূল কথা যেটি, স্পেসিফিক কোনো প্লেয়ারকে নিয়ে এই দেশের সংবাদ মাধ্যম যখন সোচ্চার হয়েছে, পাশে থেকেছে, সমর্থন দিয়েছে, বেশির ভাগ সময়ই সেটি ছিল একদম সঠিক। সেটি ১৯৯৯ বিশ্বকাপে মিনহাজুল আবেদীন নান্নু হোক বা অভিষেক টেস্টের আগে হাবিবুল বাশার…এই সময়ে রিয়াদ হোক বা সৌম্য…!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

two × one =