বস্তি থেকে টিনশেড

ফেসবুক প্রথম যখন চালানো শুরু করি আর এখন যে অবস্থা যাচ্ছে ফেসবুকে- দুটো সময়ের মধ্যে একটা বড় পার্থক্যের জায়গা হলো ফেসবুক পেইজের রিচের পরিমাণ । সে সময়টাতে ফেসবুকের পেইজের অনেক রিচ হত । ১০০০ লাইকের পেইজেও গড়ে পোস্টে ১০০-১৫০ লাইক পড়ত । আর মাঝে একটা সময় থেকে মানুষ আস্তে আস্তে ফেসবুক জিনিসটাকে বিজ্ঞাপনের কাজে বেশ ভালোভাবে ব্যবহার করতে থাকে । ফেসবুকের অথরিটিও চান্স বুঝে পেইজের রিচ কমিয়ে দেয় । কমাতে কমাতে একদম প্রায় আগের তুলনায় ১০% এ কমিয়ে আনে । ফেসবুক রিচ আর লাইক নিয়ে জুকারবার্গ সাহেবও বিজনেস শুরু করলেন ।

আর প্রথমদিককার সে সময়টার আরেকটা কথা খুব মনে পড়ে । ন্যাশনাল ফুটবল টীমের (ন্যাশনাল টীম মানে হইলো ব্রাজিল আর আর্জেন্টিনা) ফ্যানপেইজ গুলো বেশ ভালো রকমের পপুলার ছিলো । নিউজফিডে কমবেশি ঐসব পেইজের ছবি আর পোস্টই ঘোরাফেরা করত । নাহ ! ঐসব পেইজের রিচ আর পপুলারিটি কমায় আমার কষ্টের কথা বলতে লেখাটা শুরু করি নাই । সেই সব পেইজের কন্টেন্টের একটা মূল অংশ কি ছিলো জানেন ? ব্রাজিলের ফ্যান পেইজে মেসির ফটোশপে বিকৃত করা জঘন্যসব ছবি আর আর্জেন্টিনার ফ্যানপেইজের মালমশলা ছিলো রিকার্ডো কাকা আর নেইমারের অদ্ভুতভাবে বিকৃত করা জঘন্য রুচিবোধের পরিচয় দেওয়া অনেক অনেক ছবি । ধরেন , কতগুলায় লিওনেল মেসির ছবিতে লিপস্টিক দিয়ে ফটোশপ মারানো ছবি আবার কতগুলায় কাকাকে শাড়ি পরা মহিলার মুখ কেটে কাকার মুন্ডু কেটে লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে ।

আর তার চাইতে আরো বড় ট্র্যাজেডি কি আপনার জানা আছে ? আরো বড় ট্র্যাজেডি হলো পেইজের কন্টেন্টের মধ্যে এই ফটোশপের শাড়ি বা লিপস্টিক মার্কা ছবিগুলোই পাবলিক খেত বেশি !
ফুটবলটা আমরা একটু বেশিই বুঝি কিনা !

আমি জানি । আমি কি জানি ? আমি জানি, আমার লেখার এই পর্যন্ত পড়ে কারো কারো ব্যাড ওল্ড ডেইজের কথা মনে পড়ে যাচ্ছে । আর যারা যারা সেই দিনের চিত্র দেখে নাই, আমাকে হালকা করে চাঁপাবাজ আর সুশীল ব্যাটা বলে গালি দিয়ে লেখার বাকিটুকু পড়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে । তাদের বলছি, ফেসবুকের এই বস্তিযুগটা ছিলো ! আসলেই ছিলো ! ব্যাড ওল্ড ডেইজ কথাটা বলার কারণটা হলো, ব্রাজিল আর আর্জেন্টিনার সাপোর্টটা বাংলাদেশে অনেকটাই আবেগভিত্তিক সাপোর্ট । আর এই আবেগ নিয়ে কেউ এইরকম রুচিবহির্ভূত নিম্নশ্রেণির চাইতেও নিম্নশ্রেণির মজা করা কারোই ভালো তো লাগার কথাই না ! স্বাভাবিকও লাগার কথা না ! আজ কোন বলা কওয়া ছাড়া আগের এই কথাগুলো মনে পড়ার আসল কারণটা হলো, চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনাল ! হ্যাঁ ! চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনাল !

বড় বড় স্পোর্টসগ্রুপগুলোতে বেশ রবসব দেখছি ম্যাচটা নিয়ে । যারা পারছে ম্যাচ নিয়ে কথা বলছে , যারা ম্যাচ নিয়ে কথা বলতে পারছে না , চুপচাপ উত্তেজনার তাপ নিচ্ছে । এবং হ্যাঁ … ইউসিএলের উত্তেজনাটা আসলেই ইউসিএলের উত্তেজনা হয়ে গেছে । তাদের ফুটবলটা সেই পুরোনো “মেসি বস” ” নেইমার বস” দুটো দুটো শব্দে আটকে যায় নি । দেখতে ভালো লাগছে । সেই লোকগুলো আসলেই জানতে চায় , আগামী এক বছরের জন্য কোন ক্লাবটি ইউরোপের সেরা ক্লাবের খেতাবটা পেতে যাচ্ছে … তবে ঠিক এই জায়গায় এসে আমাকে বলতেই হবে, নেইমারের বার্সা সাইনিং বার্সাকে দীর্ঘমেয়াদে কী দিবে এখনো জানি না । তবে এটা জানি , বাংলাদেশের বস্তি রুচিবোধের ফ্যানবেইজটাকে অন্তত টিনশেড লেভেলে আনা গেছে ।

তবে হ্যাঁ ! এখনো বাংলাদেশের সবচাইতে জনপ্রিয় বার্সা ফ্যানপেইজের মেমের ভাষা আর ক্যাপশনগুলো দেখলে একটা বিজ্ঞাপনের ট্যাগলাইনই ঘুরেফিরে মাথায় আসে, “লুকানো যায় না ভেতরটা !”
শেষমেষ, সবাইকে ইউসিএল ফাইনাল দেখার আমন্ত্রণ !

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

6 + five =