বিশ্বকাপ শেষ দানি আলভেস এর : ব্রাজিলের জন্য শাপে বর?

বিশ্বকাপ শেষ দানি আলভেস এর

খবরটা এর মধ্যেই প্রায় সবার জানা হয়ে গিয়েছে। হাঁটুর ইনজুরিতে বিশ্বকাপ খেলা হচ্ছেন ব্রাজিলের রাইটব্যাক দানি আলভেস এর। গত সপ্তাহে ফরাসী কাপের ফাইনালে হাঁটুর ইনজুরিতে পড়েন দানি আলভেস। যদিও তাতে ম্যাচের ফলাফলের সেরকম কোন পরিবর্তন আসেনি। এডিনসন কাভানি ও জিওভান্নি লো সেলসোর গোলে লে হার্বিয়েরকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফরাসী কাপ জিতে নিয়েছে দানি আলভেস এর ক্লাব প্যারিস সেইন্ট জার্মেই।

বিশ্বকাপ শেষ দানি আলভেস এর : ব্রাজিলের জন্য শাপে বর?
ইনজুরিতে পড়ে বিশ্বকাপ শেষ দানি আলভেস এর

তবে চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে দানি আলভেস এর ইনজুরির ঘটনাটা। যতটা না পিএসজি ভক্তদের জন্য, তার থেকে বেশী ব্রাজিল ভক্তদের জন্য। আর হবে নাই বা কেন, এই বিশ্বকাপে ব্রাজিলের মূল একাদশে নেইমার বাদে কারোর জায়গা যদি একদম নিশ্চিত থেকে থাকে সেটা ছিলেন এই দানি আলভেস। আর রাইটব্যাক পজিশনে সেরকম নির্ভরযোগ্য ব্যাকআপও নেই আর ব্রাজিল দলে, থাকলেও ব্রাজিল কোচ তিতে সেভাবে তাদের যাচাই করে দেখেননি।

বিশ্বকাপ শেষ দানি আলভেস এর : ব্রাজিলের জন্য শাপে বর?
তিতের পূর্বপরিকল্পিত একাদশ

দানি আলভেস এর বয়স এর মধ্যেই ৩৫। এখন ৩৫ বছর বয়সে দানি আলভেস ৪-৩-৩ ফর্মেশানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও শারীরিকভাবে চ্যালেঞ্জিং একটা পজিশনে খেলতে পারেন কি না, সে প্রশ্নটা সবসময়েই ছিল। এমনকি এই মৌসুমে পিএসজির হয়েও সেরকম অসাধারণ খেলতে পারেননি দানি আলভেস। দানি আলভেসের পরিবর্ত হিসেবে দলে থাকা বেলজিয়ান রাইটব্যাক থমাস মিউনিয়ের সুযোগ পেলেই নিজের জাত চিনিয়েছেন বারবার। সমস্যা হয়ে গিয়েছে, ব্রাজিল দলে দানি আলভেস এর কোয়ালিটির মত সেরকম তরুণ তারকাও নেই রাইটব্যাক পজিশনে। জালমা সান্তোস, কার্লোস আলবার্তো, নেলিনহো, জোসিমার, জর্জিনহো, কাফু, মাইকন আর দানি আলভেসের মত রাইটব্যাক যুগ যুগ ধরে যে দল উৎপন্ন করেছে, এখন একই যোগ্যতাসম্পন্ন রাইটব্যাক না পাওয়ার কারণে এই ৩৫ বছর বয়সে এসেও আলভেসকেই খেলানোর পরিকল্পনা করেছিলেন তিতে, যদিও এখন সেই পরিকল্পনার পরিবর্তন করাই লাগবে। যেকোন বিশ্বমানের লেফট উইঙ্গারকে এখনো চুপ করিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখলেও মাঝে মাঝে বেশী উপরে উঠে গেলে সময়মত নিচে নেমে ডিফেন্স করার ব্যাপারটা দানি আলভেস এখন আর অত ভালো নাও করতে পারেন, এটা একটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই পজিশনে আলভেসের ব্যাকআপ হবার জন্য এই পর্যন্ত যাদের নাম আলোচনায় আছে তারা হলেন –

  • ফাবিনহো : মোনাকোর এই ব্রাজিলিয়ান তারকা ক্যারিয়ারের শুরু রাইটব্যাক হিসেবে করলেও গত দুই মৌসুম ধরে সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার হিসেবে খেলছেন, আর খেলছেন অসাধারণভাবে। সেন্ট্রাল মিডফিল্ডে ব্রাজিলের অন্যান্য খেলোয়াড়দের কারণে সুযোগ না পাওয়া ফাবিনহোকে তিতে চাইলে নিতে পারেন, কিন্তু সেক্ষেত্রে তাকে খেলতে হবে রাইটব্যাক হিসেবে।
  • দানিলো : রিয়াল মাদ্রিদ থেকে এই মৌসুমেই ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দেওয়া দানিলো এখন পেপ গার্দিওলার ব্যাকআপ ফুলব্যাক। মূল একাদশে খেললেও এখন তাকে খেলানো হয় লেফটব্যাক হিসেবে। এফসি পোর্তোতে খেলার সময় ফর্মের তুঙ্গে থাকা এই রাইটব্যাক রিয়াল মাদ্রিদে আসার পর থেকেই চূড়ান্ত ফর্মহীনতায় আছেন। দানি আলভেস সুস্থ থাকলে হয়ত তাঁর রাশিয়া যাওয়া হত না। কিন্তু এখন কি হবে সে কথা বলা যাচ্ছেনা।
  • ফ্যাগনার : দুঙ্গার আমলে ব্রাজিল দলে সুযোগ পাওয়া ফ্যাগনারকে তিতে মাঝে মাঝেই ব্যবহার করেন। তিতের সাবেক দল করিন্থিয়ানসের রাইটব্যাক হবার কারণে ফ্যাগনারকে ডাকতে পারেন তিতে।
  • এডিলসন মেন্ডেজ : দানিলো আর ফ্যাগনারের ব্যর্থতা ও ব্রাজিল দলে ফাবিনহোকে তিতের ডাকতে অনীহা – সবকিছু মিলিয়ে ব্যাকআপ রাইটব্যাকের জায়গাটা চলে যেতে পারে ক্রুজেইরোর অভিজ্ঞ রাইটব্যাক এডিলসন মেন্ডেজের দখলে। তিতে সেরকম আভাসও দিয়ে রেখেছেন একটা।
  • অন্যান্য : অন্যান্য রাইটব্যাকদের মধ্যে দলে জায়গা পাওয়ার ক্ষেত্রে বিবেচনায় আসতে পারেন বায়ার্ন মিউনিখের বর্ষীয়ান রাইটব্যাক রাফিনহা, গ্যালাতাসারাইয়ের রাইটব্যাক মারিয়ানো।

তবে এ কথা জোর দিয়েই বলা যায় দানি আলভেস এর পরিবর্তে ৪-৩-৩ ফর্মেশানে যেই রাইটব্যাক হিসেবে খেলুন না কেন, কেউই দানি আলভেস এর মত প্রভাব বিস্তার করে খেলতে পারবেন না। দানি আলভেস এর ফর্ম পড়তির দিকে হলেও, পড়তি ফর্মের দানি আলভেসই এদের প্রত্যেকের চেয়ে অনেক অনেক ভালো, এ কথা সবারই জানা। তিতের বহু চর্চিত ৪-৩-৩ ফর্মেশানে একটা আদর্শ রাইটব্যাক না থাকলে সে ফর্মেশান অকার্যকর হতে বাধ্য। তবে এখন কি হবে?

সবার কথা জানি না, তবে আমার মতে ব্রাজিল দলে দানি আলভেস এর না থাকাটা একরকম শাপে বরই হয়েছে ব্রাজিলের জন্য। এবং সেটার সুফল তিতে পেতে পারেন যদি তিনি তাঁর ফর্মেশান থেকে একটু সরে আসেন।

২০০২ বিশ্বকাপের কথা মনে পড়ে? শেষবার যেবার ব্রাজিল বিশ্বকাপ জিতলো। টুর্নামেন্ট শুরু কিছু আগে ট্রেনিং এ গোলরক্ষক হিসেবে খেলতে গিয়ে কাঁধের হাড় নড়িয়ে ফেললেন ব্রাজিলের মূল ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার এমারসন। কোচ স্কলারির পরিকল্পনা ছিল ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডে এমারসনকে রেখে সামনে জুনিনহো পলিস্তা আর রোনালদিনহোকে খেলাবেন তিনি। কিন্তু বিধি বাম। এমারসনের ইনজুরির জন্য পরিকল্পনা বদল করতে হল তাঁকে। এমারসনের জায়গায় দলে আসলেন আর্সেনালে জিলবার্তো সিলভা, আর জুনিনহোর সাথে অদল-বদল করে খেলতে থাকলেন তুলনামূলকভাবে রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার ক্লেবারসন। দুইদিকে দুই অসাধারণ ফুলব্যাক/উইংব্যাক কাফু আর রবার্তো কার্লোসকে নিয়ে ৫-৩-২ বা ৩-৫-২/৩-৪-৩ ফর্মেশানে ব্রাজিলকে খেলাতে লাগলেন লুই ফেলিপে স্কলারি। ট্যাকটিকসটা খুবই সাধারণ – একজন গোলরক্ষকের সামনে তিনজন সেন্টারব্যাক থাকবে, দুইজন উইংব্যাক সমানে উপর-নিচে ওঠানামা করতে থাকবে। মাঝে দুইজন রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার জিলবার্তো আর ক্লেবারসন থাকবে। দুই রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার আর তিনজন সেন্টারব্যাকের জন্য ব্রাজিলের রক্ষণের জন্য আর চিন্তা করতে হবে না উপরে থাকা রোনালদো-রিভালদো-রোনালদিনহো ত্রয়ীর। তারা উপরে নিশ্চিন্তে নিজেদের জাদু দেখাতে পারবেন। এই পরিকল্পনাতেই ব্রাজিল সেবার জেতে বিশ্বকাপ।

বিশ্বকাপ শেষ দানি আলভেস এর : ব্রাজিলের জন্য শাপে বর?
২০০২ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ফর্মেশন

এবার এক ঝলকে ২০০২ সাল থেকে নিজের চিন্তাটাকে বাস্তবে নিয়ে আসুন। তিতের বহুলচর্চিত ৪-৩-৩ ফর্মেশানে দুই ফুলব্যাক থাকার কথা দানি আলভেস আর মার্সেলোর। মার্সেলোর ব্যাপারে কিছু বলার নেই, লেফটব্যাক হলেও ক্লাব বা জাতীয় দল উভয় জায়গাতেই অতি আক্রমণাত্মক খেলতে পছন্দ করেন তিনি, সবসময় একরকম উপরেই উঠে থাকেন, ফলে মাঝে মাঝে রক্ষণকাজে সমস্যার সৃষ্টি হয়। আর যে কথাটা একটু আগেই বললাম, দানি আলভেস থাকলেও তাঁর সমস্যাটাও একই হত। দুজনই প্রচুর আক্রমণ করতে পছন্দ করেন।

তো, এখন যেহেতু দানি আলভেস নেই, এবং মার্সেলো যেহেতু আক্রমণ করতেই পছন্দ করেন, সেহেতু তিতে যদি ৪-৩-৩ ফর্মেশানে না খেলিয়ে ২০০২ এর মত ব্রাজিল দলকে ৩-৪-৩ ফর্মেশানে খেলানো শুরু করেন, তাহলে কিরকম হয়?

ব্রাজিলের সেন্টারব্যাক জুটি হিসেবে বর্তমানে তিতে ভরসা রাখছেন পিএসজির মার্ক্যুইনহোস আর ইন্টার মিলানের মিরান্ডার উপর। এদের মধ্যে সেরকম কেউই বর্তমান সময়ে শ্রেষ্ঠতম সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার নন, তবে তিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে দেখিয়েছেন তাদের নিয়ে যদি দলগতভাবে কাজ করা যায় তবে মিরান্ডা-মার্ক্যুইনহোস একসাথে একটা অসাধারণ ডিফেন্সিভ জুটি গড়তে পারেন।  মিরান্ডা বিশ্বের সেরা সেন্টারব্যাক নন, এখনো প্রতিপক্ষ দলের চূড়ান্ত প্রেসিং এর বিরুদ্ধে ভালোভাবে পাস দিয়ে বল নিজের ডিবক্স থেকে একা বের করে আনতে পারেন না। আর মার্ক্যুইনহোস নিজের দিনে অসাধারণ এক সেন্টারব্যাক হলেও এখনো সেটপিসে তাঁর অদক্ষতা চোখে পড়ার মত। তিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ঘুরেফিরে বিভিন্ন জুটি খেলিয়ে তবুও এই মিরান্ডা-মার্ক্যুইনহোস জুটিতে এসে স্থির হয়েছেন, তাই বলা যেতে পারে এটাই এখন ব্রাজিল দলের মূল সেন্টারব্যাক জুটি। মিরান্ডার বয়স প্রায় ৩৩, তিনি যত কার্যকরীই খেলুন না কেন তাঁর ক্লাব ইন্টার মিলান এই মৌসুমেই আরেকটা ভালো সেন্টারব্যাক নিয়ে এসেছে – স্টেফান ডে ভ্রাই। স্বাভাবিক, ৩৩ বছর বয়সে অতটা চাপ নিয়ে খেলা সম্ভব হয়না। আর তাই বিশ্বকাপে যদি মিরান্ডা বা মার্ক্যুইনহোসের কোন ভুলের মাশুল ব্রাজিলকে দিতে হয়, অস্বাভাবিক কিছু মনে হবেনা। তিতে কি চাইলেই এই দুইজনের মধ্যে আরেকজন সেন্টারব্যাক ঢুকিয়ে ডিফেন্সের গঠনটাকে আরেকটু শক্ত করতে পারেন না?

ব্রাজিল দলে এর মধ্যেই বেশ কজন প্রতিভাবান সেন্টারব্যাক আছেন। গত বিশ্বকাপের অধিনায়ক থিয়াগো সিলভা এখন অত ভালো না খেললেও কাজ চালানো ডিফেন্স অবশ্যই করতে পারেন, আর পাশে আরও দুজন সেন্টারব্যাক থাকলে তাঁর খারাপ খেলাও আরও দুজন পুষিয়ে নিতে পারবেন মিলেমিশে। তাছাড়া অন্যান্য সেন্টারব্যাকদের মধ্যে রয়েছেন রড্রিগো কাইও, জেমারসন, জিল, নালদো, জেরোমেল ইত্যাদি। ৩-৪-৩ ফর্মেশানে তৃতীয় সেন্টারব্যাক হিসেবে তিতে যাকে মূল একাদশে ঢোকাতে পারেন, যাদের মধ্যে থেকে একজনকে পছন্দ করতে পারেন তারা হল –

  • রড্রিগো কাইও : ব্রাজিল দলের অন্যতম সেরা তরুণ এই সেন্টারব্যাক অলিম্পিকজয়ী ব্রাজিল দলে মার্ক্যুইনহোসের সাথে জুটি বেঁধেছিলেন, হারিয়ে না গেলে ২০২২ বিশ্বকাপে অবশ্যই ব্রাজিলের মূল সেন্টারব্যাক তিনিই হবেন। দুর্দান্ত ট্যাকল করতে সক্ষম এই সেন্টারব্যাক অবশ্য এই মৌসুমে সাও পাওলোর হয়ে অতটা ভালো খেলছেন না।
  • জেমারসন : মোনাকোর তরুণ এই সেন্টারব্যাককেও তিতে রেখেছেন তাঁর পছন্দের তালিকায়। গত মৌসুমে যখন ফরাসী লিগে মোনাকো ইতিহাস গড়েছিল তখন এই জেমারসন ছিলেন বেশ গুরুত্বপূর্ণ একজন খেলোয়াড়। ছয়ফুটি হবার কারণে সেটপিসে হেড করার ব্যাপারেও দক্ষতা আছে তাঁর। খেলার স্টাইলের সাথে তরুণ ডেভিড লুইজের বেশ মিল রয়েছে।
  • ফেলিপে অগুস্তো : তিতে যখন করিন্থিয়ানসে ছিলেন, ফেলিপে তখন যোগ্য শিষ্য ছিলেন তাঁর। ব্রাজিলের বর্তমানে মূল পছন্দের তিনজন সেন্টারব্যাক মার্ক্যুইনহোস, মিরান্ডা আর আর থিয়াগো সিলভা প্রত্যেকেই সেটপিস ডিফেন্ড করার ক্ষেত্রে বেশ দুর্বল, তাই চতুর্থ সেন্টারব্যাক হিসেবে তিতে চাইলে লম্বা কোন সেন্টারব্যাককে দলে নিতে পারেন যে সহজেই সেটপিস থেকে উড়ে আসা আক্রমণ সহজেই নস্যাৎ করতে পারেন। সেক্ষেত্রে ফেলিপে হতে পারেন একটা ভালো সংযোজন।
  • জিল : করিন্থিয়ান্সে তিতের থাকাকালীন সময়ের আরেক নির্ভরযোগ্য সেন্টারব্যাক। এর মধ্যে ব্রাজিলের জার্সি গায়ে ১০ ম্যাচ খেলে ফেলা এই ডিফেন্ডার অতটা আহামরি কেউ নন।
  • নালদো : সাড়ে ছয়ফুটি এই ডিফেন্ডার শালকের হয়ে এই মৌসুমে বেশ ভালো খেলছেন, আর সেটপিস আক্রমণ সামলানোর ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকরী হবার কারণে তিতের নজরে বেশ ভালোভাবেই আছেন তিনি।
  • জেরোমেল : গ্রেমিওর এই সেন্টারব্যাক কোপা লিবার্তোদোরেসে বেশ ভালো খেলেছেন, সেটপিস আটকানোর ক্ষেত্রে আরেক ভালো ডিফেন্ডার তিনি, কারণ তাঁর উচ্চতা ৬ ফুট ৩ ইঞ্চি।
  • ডেভিড লুইজ : এককালে বিশ্বের সবচাইতে দামী এই সেন্টারব্যাকের সেই সুদিন আর নেই। ২০১৮ বিশ্বকাপে জায়গা পাওয়ার সম্ভাবনা এই চেলসি সেন্টারব্যাকের একরকম নেই বললেই চলে।

এদের মধ্যে যেকোন একজনকে তৃতীয় সেন্টারব্যাক হিসেবে মূল একাদশে ঢুকিয়ে মার্সেলোকে লেফটব্যাক থেকে লেফট উইংব্যাক হবার স্বাধীনতা কি দিতে পারেন না তিতে?

এবার দেখা যাক ৩-৪-৩ ফর্মেশানে রাইট উইংব্যাক পজিশনটার কথায়। যেখানে সুস্থ থাকলে হয়তো দানি আলভেসই খেলতে পারতেন। এ জায়গায় খেলার জন্য তিতের পছন্দেরই একজন খেলোয়াড় আছেন। তিনি হলেন উইলিয়ান।

সাধারণত উইংব্যাক হিসেবে কারা খেলেন? দানি আলভেস বা কাফুর মত আক্রমণাত্মক ফুলব্যাক, নাহয় উইলিয়ান বা ভিক্টর মোজেস বা অ্যাশলি ইয়াং এর মত রক্ষণাত্মক উইঙ্গার। উইলিয়ান পড়েন দ্বিতীয় ক্যাটাগরিতে। শুদ্ধ বাংলায় ‘কামলা’ বলতে যা বোঝায়, উইলিয়ান ঠিক সেটাই। প্রচণ্ড খাটাখাটনি করে একপ্রান্ত আগলে রাখতে পারবেন। দৌড়ে গিয়ে উপরে উঠে আক্রমণও যেমন করতে পারবেন নেইমার বা কউতিনহোর সাথে, নিচে নেমে দলের রক্ষোনকেও সামলাতে পারবেন ভালোভাবে। আর সবচেয়ে ভালো কথা হল তিনি তিতের পছন্দের খেলোয়াড়ও বটে। তাহলে তাঁকে রাইট উইংব্যাক হিসেবে খেলাতে সমস্যা কিসের?

বিশ্বকাপ শেষ দানি আলভেস এর : ব্রাজিলের জন্য শাপে বর?
উইলিয়ান – হতে পারেন ব্রাজিলের তুরুপের তাস

৪-৩-৩ ফর্মেশানে ব্রাজিলের মিডফিল্ডে খেলার কথা ক্যাসেমিরো, পাওলিনিও ও রেনাতো অগাস্তোর। এই তিনজনের মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ মানের হলেন রেনাতো অগাস্তো। রাইট উইংব্যাকে উইলিয়ানকে নামানো হলে এই তিনজনের মধ্যে একজনকে মূল একাদশ থেকে বাদ দিতে হবে যাতে বাকী দুজন একদম মাঝে খেলতে পারেন। রেনাতো অগুস্তোর জায়গায় উইলিয়ানকে তাই আনাই যায়।

আর উপরের ফরোয়ার্ড লাইন যেমন থাকার সেরকমই থাকলো – নেইমার, গ্যাব্রিয়েল হেসুস ও ফিলিপ্পে কউতিনহো।

বিশ্বকাপ শেষ দানি আলভেস এর : ব্রাজিলের জন্য শাপে বর?
পরিবর্তিত মূল একাদশ যেরকম হতে পারে

৪-৩-৩ ফর্মেশান থেকে দানি আলভেসের না থাকার কারণে ৩-৪-৩ ফর্মেশানে চলে যাওয়ার ফলে তাই ব্রাজিলের যা যা সুবিধা হতে পারে, একনজরে –

  • মিরান্ডার বয়স বাড়ছে, আর মিরান্ডা-মার্ক্যুইনহোস কেউই নিখুঁত সেন্টারব্যাক নন। তাই দুইজন সেন্টারব্যাক না খেলিয়ে তিনজন সেন্টারব্যাক খেলাতে পারলে তারা একে অপরের ভুলগুলো শোধরাতে পারবেন। যেমনটা ২০০২ সালে লুসিও, রকি জুনিওর ও এডমিলসন করেছিলেন। রকি জুনিওর অতি সাধারণ একজন ডিফেন্ডার হওয়া সত্বেও পাশে লুসিও ও এডমিলসন থাকার কারণে বেশ কাজ চালানো খেলা দিয়ে গিয়েছিলেন সেবার
  • মার্সেলো নিজের স্বভাবজাত আক্রমণাত্মক খেলা খেলতে পারবেন। রক্ষণের চিন্তাটা তুলনামূলকভাবে কম করতে পারবেন। উপরে নেইমারের সাথে বোঝাপড়াটা হবে আরও ভালো
  • মূল একাদশ থেকে অতি সাধারণ মানের রেনাতো অগুস্তো বিদায় হবে
  • মার্সেলো ও উইলিয়ান ক্রমাগতভাবে দুই পাশে ওঠানামা করার ফলে ফিলিপ্পে কউতিনহো ও নেইমার সুযোগ বুঝে ডিবক্সে ঢুকে যেতে পারবেন, যেরকমটা কাফু ও কার্লোস থাকার কারণে পেরেছিলেন রোনালদো-রিভালদো ও রোনালদিনহো। আর নেইমার ও কউতিনহো দুইজনই প্রথাগত উইঙ্গারের দায়িত্ব পালন করার চাইতে প্লেমেকারের দায়িত্ব পালন করতেই সবচেয়ে বেশী আগ্রহী
  • তিনজন সেন্টারব্যাকের সাথে দুই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার পাওলিনিও ও ক্যাসেমিরো দলের রক্ষণভাগের খেয়াল রাখতে পারবেন আরও ভালো
  • রড্রিগো কাইওর মত প্রতিভাবান খেলোয়াড়ের সদ্ব্যবহার হবে

এ সবটুকুই আমার চিন্তা। বাকীটা তিতের হাতে। তাঁর হাতেই নির্ভর করছে আমরা কিরকম দেখবো ২০১৮ বিশ্বকাপের ব্রাজিলকে!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

five × five =