দরকার কি বিদেশী কোচের?

উল্লাসে আজ মাতলো রে দেশ, নাচে গ্যালারী,
দেখুক সারা দুনিয়াটা, আমরাও পারি!

বাপ্পি লাহিড়ীর কণ্ঠে এই দুটি লাইন শুনলে মনের মধ্যে কি অদ্ভুত এক শিহরণ খেলে যায়, সেটা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়! চিরকালিন বিশ্বের কোন এক কোনেও যদি লাল সবুজের কারো জয় দেখি, তাহলে গর্বে মন ভরে যায়! চিনুক বিশ্ব, নতুন এক বাংলাদেশকে, যে সমান তালে সবার সাথে লড়তে জানে, হারার আগে হারে না, এমনটাই আমরা সব সময় স্বপ্ন দেখেছি। এবার ক্রিকেট দলের পর ফুটবল পায়ে মেয়েরা আমাদের গর্বের ক্ষণ এনে দিয়েছে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়ে এএফসি অনূর্ধ্ব ১৬ মহিলা ফুটবলের চূড়ান্ত পর্বে উঠে।

২০১৪ সালেও এই আসর বসেছিল ঢাকায়। আমি তখন ব্যাংককে। আরব আমিরাতকে ৬-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছিলো সেবার বাংলাদেশ। সকালে গ্র্যান্ড প্রেসিডেন্ট হোটেলে আমার রুমের টিভি চালু করে দেখলাম হৃদয়ে বাংলাদেশ স্লোগান নিয়ে চ্যানেল আই! আর সেখানে এই খবরটি দেখে এত খুশি লেগেছিল যে বলার মতো না। আমার দেশের মাথা উচু দেখলেই আমার খুশি লাগে। তা সেবার ইরানের কাছে অল্পের জন্য হেরে স্বপ্নভঙ্গ হলেও সেই ইরানকে দিয়েই এবার শুরু। দুর্দান্ত গতি, স্কিল, লড়াইয়ের ইচ্ছা আর বল নিজেদের দখলে রাখার চেষ্টা, হার না মানা মানসিকতা আর একসাথে ওঠা নামা করে এরা যেন বিশ্বকে টোটাল ফুটবলের বাংলাদেশী সংস্করণ দেখাল। বিশ্ব অবাক হয়ে তাকিয়ে দেখল চেষ্টায় কি না হয়! একে একে চীনা তাইপে সহ সবাই উড়ে গেলো। চ্যাম্পিয়ন নাচ দিয়ে উদযাপন আমাদের এই স্বর্ণকিশোরী দেরকেই মানায়। এরা দেখিয়ে দিয়েছে একটা সুখী পরিবার হয়ে, একতাবদ্ধ হয়ে কিভাবে খেলতে হয়।

সমান কৃতিত্ব প্রাপ্য কোচ গোলাম রব্বানির আর তার সহকারীদের। শুনলাম বিদেশী কোচ আনার তোড়জোড় চলছে। একটা অনুরোধ করবো জনাব সালাউদ্দিন? ত্রিশ হাজার ডলার মাসিক বেতনে তো পুরুষদের কোচ দিয়েছেন, দলটা কি করছে? শুধু দেশের মান সম্মান ডোবানো ছাড়া? প্লিজ, এই মেয়েদের ছোট থেকে গড়ে তোলা রব্বানির হাতেই থাক না চূড়ান্ত পর্বেও কোচের দায়িত্ব! উনি তো এতদিন কাজ করে ওদের বাবার মতোই হয়ে গেছেন অনেকটা। দরকার কি বিদেশী কোচের?

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

13 − seven =