থ্যাঙ্ক ইউ ডালমিয়া

স্পষ্টত মনে আছে বাপি একসময় বলতো, ‘ডালমিয়া না থাকলে শুধু বাঙালি হবার কারণেই সৌরভের জাতীয় দলে বেশিদিন খেলা হতো না, ক্যাপ্টেন্সি দূরের কথা’। এই কথাটা কতটুকু বাস্তবসম্মত তা বিচার করিনি কখনো তবে এটা নিশ্চিত ডালমিয়ার ‘হাত’ না থাকলে ২৬ জুন, ২০০০ এ আমাদের টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়া হতো না। ১০ই নভেম্বরে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে সাদা জার্সিতে নাঈমুর রহমান দুর্জয়ের কয়েন উপরে ছোড়া হতো না। আরও, আরও অপেক্ষা করা লাগতো। কেনিয়া তখন সমানে সমানে লড়ছে আমাদের সাথে। আমরা এখনও যেখানে পৌছাতে পারিনি কেনিয়া সেই বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে পর্যন্ত পৌছে গেছিলো ২০০৩ এ। অথচ ওয়ানডে পারফর্মেন্স বিবেচনায় টেস্ট স্ট্যাটাস পেয়ে গেলাম আমরা। কেনিয়া অবকাঠামোর কারণেই হোক, ক্রিকেটে কম জনপ্রিয়তা, অর্থস্বল্পতা বা সমর্থকহীনতায় হোক আর মাথা তুলে দাঁড়াতেই পারেনি। ডালমিয়া এতখানি দূরদর্শী ছিলেন।
জগমোহন ডালমিয়া নতুন মেয়াদে বিসিসিআই এর প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবার পর ক্রিকেটে একটু সুবাতাস বইছিলো। ক্রিকেটের বিশ্বায়নকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো, ১৬ দল থেকে ১০ দলে বিশ্বকাপকে বন্দি করা, ক্রিকেটের আভিজাত্যকে টি টুয়েন্টির গ্ল্যামারে ছুড়ে ফেলা শ্রীনিবাসনের একটা সমুচিত জবাব দেখার যখন অপেক্ষা করছিলাম, তখনই ডালমিয়া চলে গেলেন। বাংলাদেশ একজন বন্ধু হারালো। কিন্তু ক্রিকেট হারালো বিশ্বায়ন। অনন্তলোকে ভালো থাকুন, ডালমিয়া। দেশের এহেন পরিস্থিতিতেও আমরা যে ইট ক্রিকেট-ড্রিঙ্ক ক্রিকেট-লিভ ক্রিকেট করে বেঁচে থাকি সেখানে আপনার অবদানটুকু অস্বীকার করি না। থ্যাঙ্ক ইউ।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

3 × four =