তীর্থের গল্প; প্রতিবন্ধকতা নয় প্রতিভায় পরিচয়

ICRC ফিসিক্যালি চেল্যাঞ্জড আন্তর্জাতিক টি-২০ টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ দল প্রথম ম্যাচে ইংল্যান্ড দলের মুখোমুখি হয় এবং ইংল্যান্ড দলকে ১৪ রানে হারায়।

এই ম্যাচে ১০ বলে ১৭ রানের পাশাপাশি ১২ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হন তীর্থ। এবার বলব আমার চোখে দেখা এই তীর্থের গল্প।

11933469_531884130294830_3032800704207096585_n

নেত্রকোণা জেলা শহরের সাতপাই এলাকায় জন্ম ও বেড়ে ওঠা। অনেক ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেটে হাতেখরি যা আস্তে আস্তে নেশায় রূপ নেয়। ছোটবেলা থেকেই এলাকার ভাল ভাল ক্রিকেটারদের সাথে খেলেছে সে। আমার ফুফাতো ভাইদের ম্যাচ দেখতে গিয়েছিলাম নেত্রকোণা জেলা ক্রিকেট স্ট্যাডিয়ামে, সেখানেই আমি তাকে প্রথম খেলতে দেখেছি। খেলা দেখতে যাওয়ার একটা বিশেষ কারন টা হল, খেলাটা ছিল আমাদের পাড়ার (নিউটাউন) বড় ভাইদের সাথে। পাড়ার বড় ভাই বনাম কাজিন বড় ভাই ম্যাচ। তো, ঐ ম্যচে বয়সে বড় বড় সব খেলোয়ারের মাঝে একটা কম বয়সী ছেলে খেলছে নাম তীর্থ। প্রথমে ভেবেছিলাম পাড়ার টিমে এক দুই টা ছোটভাই খেলতেই পারে। প্লেয়ারের অভাব হয়ত। কিন্তু কিছুক্ষন পর আমার ধারণা পাল্টে গেল। যেমন তার ব্যাটিং, তেমনি বোলিং, আবার দেখি ফিল্ডিং এর পাশাপাশি উইকেট কিপিং ও করে। অসাধারন এক ল্যাফটি ব্যাটসম্যান, ল্যাফটি স্পিনে অসাধারন সব টার্ন। এক কথায় অসাধারন এক অলরাঊন্ডিং প্রতিভা। দুঃখের বিষয় তার এই অসাধারন অলরাউন্ডিং পারফরমেন্সের কাছে আমাদের পাড়া হেরে যায়। দুঃখ টা প্রশমিত করার জন্য নিজেকে সান্তনা দিলাম, পাড়া হেরে গেছে তো কি হয়েছে, আমার কাজিন দের টিম তো জিতেছে।

এখন হয়ত আপানারা বলতে পারেন এ তো একটি সাধারন প্রতিভার গল্প, এখানে ফিসিক্যাল ডিসেবিলিটির কি আছে! হে, তীর্থ আট-দশটা ছেলের মতই। দেখতেও মাশ-আল্লাহ ভাল। সমস্যা শুধু একটাই, জন্ম থেকেই ওর বাঁ হাতের ৫ টা আঙুল আর ডান হাতের শুধু বুড়ো আঙুল ছাড়া হাত পায়ের একটা আঙুলও নেই। হে, এটাই আমাকে সবচেয়ে বিষ্মিত করেছে। আঙুল ছাড়া একটা ছেলে এত ভাল পারফর্মেন্স করে কি করে! নিখুঁত ব্যাটিং, বোলিং এবং ফিল্ডিং। আমি জোর গলায় বলতে পারি সে অনেক সাধারন প্রতিভাধরের চেয়েও অনেক ভাল খেলে।

তীর্থ, তোকে নিয়ে এখন গর্ব করবে পুরো জাতি। এভাবেই দেশের নাম উজ্জ্বল করে যা। ডিসেবিলিটি যেখানে ইনইফেক্টিভ, সেখানে চ্যালেঞ্জ আবার কি!!! চেলেঞ্জ একটাই, যে অবস্থাই থাকি দেশ ও জাতির মাথা যেন উঁচু রাখতে পারি। পুরো টিমের জন্য রইলো শুভ কামনা।

পরিশেষে বলতে চাই, আমার পাড়া হেরে গেছে বলে হাসাহাসি করবেন না। আমার পাড়ারও একটি ছেলে ইতিমধ্যে তার প্রতিভার প্রমাণ দিয়েছে এবং দিয়ে যাচ্ছে। তার নাম পিণাক ঘোষ, অ-১৯ জাতীয় দলের ওপেনার। গল্পটা আজ তীর্থ পর্যন্তই থাক, পিনাক কে নিয়ে আরেকদিন হাজির হব।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

2 × 5 =