তীরে এসে তরী ডোবা বন্ধ হোক

জিততে জিততে হেরে গিয়ে বাংলাদেশ প্রমাণ করলো ক্রিকেট গৌরবময় অনিশ্চয়তার খেলা। আর অসাধারনভাবে ফিরে এসে ইংল্যান্ড বুঝিয়ে দিলো, বদলে গেছে তারা! তবে তীরে এসে আমাদের তরীটা মনে হয় ডুবত না যদি আমরা একজন ফিনিসার কে দলে নিতাম মসাররফ রুবেলের মতো সেকেলে খেলোয়াড়কে না নিয়ে। ইংল্যান্ড আর আমাদের ইনিংসের তুলনা করে দেখলে বোঝা যাবে, শুধু তুলির শেষ আঁচড়ের অভাবেই আমরা হেরেছি। নাহলে ইমরুল কায়েসের অমন অসাধারণ সেঞ্চুরি আর সাকিবের পাল্টা আক্রমণের পর লাল সবুজের কপালে হার থাকেনা।

ফিল্ডিং টা হয়েছে পাড়ার দলের মতো এবং সেখানেও গর্বভরে (!) আমরা মসাররফ রুবেল কে দাড়িয়ে থাকতে দেখবো ক্যাচ মিস করেও ৩২ দাঁত বের করা হাসি দিয়ে। সাব্বির রহমান কে তিন নম্বরে তুলে আনা সঠিক সিদ্ধান্ত হয়েছে, যেমন হয়েছে সৌম্যকে বসিয়ে কায়েস কে খেলানো। কায়েস আমাদের নতুন ধরনের ব্যাটিং দেখান, চার ছক্কা না হলেও এক দুই করে নিয়ে খেলতে থাকেন এবং প্রচণ্ড গরমে ক্রাম্প হবার পরও দুর্দান্ত সাহস দেখিয়ে দেশের পক্ষে লড়াই চালাতে থাকেন। রিয়াদ মুশফিক ইংলিশদের পাতা ফাঁদে পা দেবার পর বিশ্বসেরা সব্যসাচী কায়েস কে নিয়ে ম্যাচ ঘুরিয়ে দিচ্ছিলেন দারুণ দক্ষতায়, পাল্টা আক্রমণে ইংলিশদের দিশেহারা করে। তবে মাংসপেশিতে টান পড়ার পর সাকিব আর পরের বলেই মসাদ্দেক ফিরে যাবার পরেরটা শুধুই হতাশার গল্প।

একজন দক্ষ, অভিজ্ঞ ফিনিশারের অভাবে সাকিব কায়েস ট্র্যাজিক হিরো! কিন্তু আমার প্রশ্ন হচ্ছে, মসাররফ রুবেল কে কেন এমন জায়গায় খেলানো হল, যেখানে আফগান সিরিজে তার ব্যাটিং কৌতুকের জন্ম দিয়েছিলো! এই যুগে সব দিকেই ঠেকানোর যোগ্যতা না থাকলে তাকে দলে নেওয়া উচিত না, খুব বেশি স্পেশাল কেউ যদি না হয়। আমার মতে, মসাররফ তেমন স্পেশাল কেউ না, তিনি আই সি এল ফেরত একজন বয়স্ক স্পিনার! পানি টানার দায়িত্বে থাকা নাসির আর মসাররফের মধ্যে দায়িত্বের অদল বদল করে দিলে জয়টা মনে হয় ধরা দেবে, ইনশাআল্লাহ!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

four × three =