তিন ডিফেন্ডারের যুগে চেলসি

আমি কন্তের ম্যানেজিং দেখে আসতেছি ২০১০ থেকে । বারি থেকে সিয়েনায় আসলো যখন, সিরি বি তে । সিয়েনাতে ঐ মৌসুমে পুরো সময় ৪-২-৪ ফর্মেশনে খেলাতো সে ।

পরিবর্তন আসে ২০১১ সালে য়ুভেন্তুসে আসার পর । দলে ৫ জন ১ম সারির সেন্টারব্যাক আর চমৎকার মিড দেখে প্রথমে ৩-৪-৩ ফর্মেশনে খেলানো শুরু করেন । কয়েক ম্যাচে গোল শূণ্য ড্র এর পর, ফর্মেশন পরিবর্তন করতে বাধ্য হন । ব্যাসিক ডিফেন্সিভ ফর্মেশন ঠিক রেখে, সামনের একজন ফরোয়ার্ডকে আরেকজন বক্স টু বক্স মিড দিয়ে রিপ্লেস করেন ( মিলোস ক্রাসিচ কে পল পগবা দিয়ে ) । ফলাফল হাতে নাতে । য়ুভের বাকি সময় আর হালের ইতালিতে সেই ৩-৫-২ ব্যবহার করেই সাফল্য পান ।

14671183_1204212106288433_2856374702578055118_n

চেলসিতে আসার পরে, আমি ভেবেছিলাম কন্তে তাঁর স্বভাব মতোই ৩-৫-২ ( ছবি ১ ) তে খেলাবেন । কারণ ঐ ফর্মেশনের জন্যে দলে পর্যাপ্ত খেলোয়াড় ছিলো । কিন্তু প্রিমিয়ার লীগের আক্রমণাত্মক ফুটবলের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে তিনি তাঁর একদম প্রথম দিকের ফর্মেশন, ৪-২-৪ (একটু টুইক হয়ে ৪-৩-৩) ব্যাবহার শুরু করেন । কিছু ফলাফল নিজেদের অনুকুলে আসলেও, হাই প্রেসিং দল ( আর্সেনাল ও লিভারপুল ) এর সাথে বেশ ভালোভাবেই পর্যুদস্ত হন । ৪-৩-৩ বা ৪-২-৪ দুই ফর্মেশনেই আপনার দলের দুই সেন্টারব্যাককে হতে হবে অনেক বেশি কন্সিস্টেন্ট । কিন্তু গ্যারি কাহিল, ডেভিড লুইজ আর ব্রানিস্লাভ ইভানোভিচ সেই মানের খেলা না দেখানোয়, আর্সেনালের কাছে লজ্জায় ডুবতে হয় ।

14670764_1204212119621765_1507911865231817678_n

ঐ ম্যাচেরই দ্বিতীয়ার্ধে ব্যাসিক ৩ ম্যান ডিফেন্স ফর্মুলায় ফিরে যেতে বাধ্য হন । লুইজ কে বল প্লেয়িং সেন্টার ব্যাক রেখে অ্যাযপিলিকুয়েটাকে সুইপার আর কাহিল কে স্টপার এর রোল দেন । উইংব্যাকে ভিক্টর মোসেস আর মার্কোস আলোন্সো । এই ফর্মেশনে শুরুর দিকে ব্যাসিক ৩-৫-২ এই খেলান তিনি ( হাল সিটির ম্যাচ, ছবি ২ ) । কিন্তু এতেও, সামনের থার্ডে বল ধরে রাখতে সমস্যা হয় , কারণ চেলসির দুই বক্স টু বক্স মিড এর মাঝে ম্যাতিচ কিছুটা স্লো ।

14731393_1204212109621766_534945448786439532_n

এই সমস্যার সমাধানেই তিনি ৩-৫-২ ফর্মেশনে একটু পরিবর্তন আনেন । ম্যাতিচ – কান্তে কে সম্পূর্ণ মাঝ মাঠে স্বাধীনতা দিয়ে পেদ্রো কে আরেকটু উপরে তুলে এনে ৩-৪-৩ ( ছবি ৩ ) ফর্মেশনে চলে আসেন ।

এতে করে প্রাথমিক সমস্যা, ফাইনাল থার্ডে বল নিজেদের পায়ে রাখার পরিমাণ বেড়ে যায় । একি সাথে ৩ জন খেলোয়াড় সামনে থাকায়, কাউন্টারেও জোড় পাওয়া যায় । আর এই ফর্মেশনের সাফল্য এসেছে শুধুমাত্র ২ জন মেইন মানুষের জন্যে , কান্তে-ম্যাতিচ জোড়া । নিজেদের মাঝে বোঝা পড়া করে একজন সামনে, একজন পিছনে এইভাবে খেলার কারণে, মিড থেকে সামনের তিন জন যেমন বল পাচ্ছে, ডিফেন্সের তিনজন ও সামনে সবসময় একজন গার্ড পাচ্ছে । আবার কখনো কখনো যেকোন একজন ফুলব্যাক ( আলোন্সো / মোসেস, বেশিরভাগ সময়ই আলোন্সো ) কে পিছনে রেখে দুইজনই আক্রমণে সাহায্য করছে ।

এই ফর্মেশনের আরেকটা সুবিধা হলো, এই ফর্মেশনে যেমন দাঁত কামড়ে ডিফেন্স করা যায়, তেমনি যখন তখন কাউন্টারে আক্রমণেও যাওয়া যায় । প্রয়োজনে ৩-৫-২ তে এসে পজেশনাল ফুটবল ও খেলা যায় । সামনে হ্যাযার্ড আর কস্তা ফ্রি রোল পাওয়াতে কি করতে পারছে, সেটা তো দেখাই যাচ্ছে ।

এখন দেখার বিষয়, এই ফর্মেশনে সাফল্য আসে কতোদূর । ম্যান সিটি / টটেনহ্যাম এর মতোন দল গুলোর সাথেও কি কন্তে এই ফর্মেশনই ব্যবহার করবে ?? নাকেই পেদ্রোর বদলে অস্কার / উইলিয়ান কে খেলিয়ে ব্যাসিক ৩-৫-২ তে ফিরে যাবেন, মধ্যমাঠের কন্ট্রোল রাখতে ? একটা বিষয়ে আমি মোটামুটি নিশ্চিত, ৩ ম্যান ডিফেন্স আর সহজে পরিবর্তিত হচ্ছেনা ।

অপেক্ষায় থাকলাম আবারো অ্যামেইজড হবার জন্য, কন্তের ট্যাকটিকসে ।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

1 × four =