তবে জুবায়েররা অবিক্রীতই থাক!

এই অভাগা দেশটার অর্থ-বান ও ক্ষমতাবান মানুষগুলা যে কি পরিমাণ হীণ-মন্য ও দেশের স্বার্থের ব্যাপারে উদাসীন, তা আরেকবার প্রমাণ হয়ে গেলো আজকের বিপিএলের নিলামে জুবায়ের হোসেনের অবিক্রিত থাকাটার মধ্যে দিয়ে। তার অপরাধ হলো সে গন্ডা গন্ডা বামহাতি স্পিনারের ভীড়ে একজন প্রথা-বিরোধি লেগ-স্পিনার, তাকে দলে রাখলে রিস্ক থাকে কারণ সে মাঝে মাঝে অনেক রান দেয়। অথচ আমাদের টেস্ট ঘরনায় প্রতিপক্ষের ২০ উইকেট ফেলতে একজন প্রথা-বিরোধীই দরকার, আর জুবায়েরের ভেতর সেই পটেনশিয়াল আছে, তার দরকার একটু সাপোর্ট, কনফিডেন্টের বুস্ট! যেটা সে পাইতো যদি তাকে কোন টিম ভালো দামে কিনে নিতো, তার সাথে এমন আচরণ করতো- তুমি আমাদের দেশের সম্পদ, তোমাকে আমরা দিবো সর্বোচ্চ সুবিধা যাতে তুমি আরো ভালো হয়ে উঠতে পারো। তখন সে নিজের ভেতরে এমন একটা শক্তি পাইতো, উৎসাহ পাইতো তার বলিং অটোমেটিক আরো একুরেট হইয়া যাইতো।
.
তার বদলে কি হলো? সে আবিষ্কার করলো, সে অপাঙ্কতেয়, সে অবিক্রিত, তাকে কেও চায় না। তার মনের অবস্থাটা এখন কি কেউ কল্পনা করতে পারছেন? এভাবে একটা মানুষের পটেনশিয়ালিটি পা দিয়ে মাড়িয়ে ফেলা হলো। নিজেদের ব্যাবসার স্বার্থ দেখলো সবাই, বিগ পিকচারে দেশের স্বার্থটা কেউ দেখলো না। কেউ স্পন্সর করলো না। অথচ অন্য যে কোন দেশে গতানুগতিকের বাইরে প্রতিভাবানদের স্পেশাল কেয়ার নেয়া হয়। এদেশের অথরিটি, ক্ষমতায় যারা বসে আছে তাদের কারো ভিতরে এই টাইপের মন মানসিকতা একবিন্দু আছে কিনা সন্দেহ হয়।
.
এদিকে জুবায়েরের অবিক্রিত থাকার পাশাপাশি বিক্রি হয়েছে বহুত অচেনা পাইক্কা ও অন্যান্য দেশের বিদেশী খেলোয়ার। হীণমন্যতারা নিকৃষ্ট উদাহরণ আর কি হতে পারে? দেশের প্রতিভাবান খেলোয়াররা পাত্তা পায়না, বিদেশী হাগুও সুস্বাদু লাগে। আর তাদের কি দোষ দিবো। এদেশের আম পাব্লিকের ভেতরে যে কি পাক প্রীতি সেটা তো তারাও জানে। যখন খবর এসেছিলো “পাকিস্তান বিপিএলে খেলোয়ার না পাঠানোর হুমকি দিসে” তখন সেই খবরের নিচে যারা পোস্ট করসিলো “পাইক্কা ছাগলদের কোন দরকার নাই!!” সেগুলার রিপ্লাইয়ে গালাগালি দেখেই বুঝা গেসিলো এদেশের আমজনতার পাকিদের প্রতি কি ভাই-ভাই ভালোবাসা!! যারা টিম কিনে, তারা তো বুঝে, লেঞ্জা কোন দিকে টানলে ব্যাবসা ভালো হবে!
.
ভালো, জুবায়েরার অবিক্রিতই থাক। পাইক্কা ছাগু-বেয়াদপ-ফিক্সারদের দিয়াই বিপিএল চলুক। এদেশের মানুষ এইসব ঠুনকো বিনোদন নিক। তাদের ডাক্রিদির গ্ল্যামার দেখতে দেখতে স্বমেহন করাটা খুব দরকার। টেস্টে শেন-ওয়ার্নের মত কোন যাদুকরি বোলারের মত হাসতে হাসতে প্রতিপক্ষকে গুড়িয়ে দেবার দৃশ্যটা দেখার সুন্দর স্বপ্নটা ছাগুদের গুয়ের গন্ধে ভেঙ্গে যাক। কি আসে যায়? টাকাই তো আসল ম্যান, তাইনা?

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

17 − 1 =