ঢা.বি. আন্তঃবিভাগ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট – ফিন্যান্সের কথকতা

সেই আশির দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আন্তঃবিভাগ ক্রিকেট টুর্নামেন্টজয়ী ফিন্যান্স ডিপার্টমেন্ট প্রায় প্রত্যেক বছরই সম্ভাব্য শিরোপাজয়ী দল হিসেবে আবির্ভূত হলেও, কখনই শেষপর্যন্ত ভাগ্যের শিকে ছেঁড়েনি। গতবার দ্বিতীয় রাউন্ডেই দুর্ভাগ্যজনকভাবে ফ্যাকাল্টি অফ বিজনেস স্টাডিজের আরেক জায়ান্ট, মার্কেটিং বিভাগের কাছে ৪ উইকেটে হেরে গিয়ে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয় তারা। এবারও প্রত্যেকবারের মতই দুর্দান্ত এক দলই গড়েছে ফিন্যান্স ডিপার্টমেন্ট, অভিজ্ঞ পুরনো যোদ্ধা ও নতুন প্রতিভার মিশেলে গড়া দলটি বরাবরের অত এইবারেও শিরোপার স্বপ্ন দেখতে তাই পিছপা হচ্ছে না।

ওপেনিংয়ে আছেন নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান ও দলের অধিনায়ক আমীর হামজা চৌধুরী। অভিজ্ঞ যোদ্ধার সাথে তরুণ মস্তিষ্কের মিশেল ঘটানোর জন্যই বোধহয় তাঁর ওপেনিং সঙ্গী হচ্ছেন ১৯ তম ব্যাচের আদনান আল রাহীন। ওয়ান ডাউন ব্যাটসম্যান হিসেবে নামছেন বিভাগীয় ক্রিকেট দলের বহু বছরের আরেক পরীক্ষিত সৈনিক, বর্তমানে ফিন্যান্স বিভাগের কৃতি শিক্ষক জনাব আব্দুল্লাহ আল মামুন। চার নম্বরে নামছেন ফাহিমুল হক, যিনি কিনা দুর্দান্ত ব্যাটসম্যান হবার পাশাপাশি অনেক কার্যকরী লেগ স্পিনারও। মিডল অর্ডারে ফাহিমের সাথে সঙ্গ দেওয়ার জন্য আছেন ১৮তম ব্যাচের আসিফ আল মাহমুদ। ফাহিমের লেগ স্পিনের সাথে আসিফের অফ স্পিন ফিন্যান্সের বোলিংয়ে এনেছে যথেষ্ট বৈচিত্র্য। সাথে ব্যাটসম্যান হিসেবে আরও আছেন তন্ময় দেবনাথ, শাফিন হোসেন ও উইকেটরক্ষক সারওয়ার হাবীব প্রিন্স। স্লগ ওভারগুলোয় শাফিন-প্রিন্সের পাশাপাশি পেস বোলিং অলরাউন্ডার জুনাঈদ জনির বেধড়ক মার যেকোন চরম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ থেকে ফিন্যান্স ডিপার্টমেন্টকে বিজয়ীর বেশে বের করে নিয়ে আসার সামর্থ্য রাখে যেকোন দিন। স্পিনের পাশাপাশি পেস বোলিংয়েও অধিনায়ক আমীর হামজা চৌধুরীর আছে যথেষ্ট বিকল্প – ইমরান, খন্দকার গালিব ও জুনাঈদ জনি। প্রত্যেক পেসারেরই রয়েছে যেকোন মুহূর্তে ম্যাচ বের করে নিয়ে আসার ক্ষমতা।

প্রথম ম্যাচে উর্দু বিভাগকে হেসেখেলে হারিয়ে নিজেদের শক্তিমত্তার প্রমাণ এর মধ্যেই দিয়েছে ফিন্যান্স ডিপার্টমেন্ট। প্রথমে ব্যাট করে এই ম্যাচে ২০ ওভারে ১৭০ রান তোলে তারা। দুই ওপেনার হামজা ৩৮ ও আদনানের ৪০ রানের পুঁজির উপর ভিত্তি করে উর্দু বিভাগের নখদন্তহীন বোলারদের উপর ছোটখাট একটি ঝড় চালিয়ে দেন আব্দুল্লাহ আল মামুন, দর্শনীয় দুই ছক্কায় ২১ রান করেন তিনি। শেষদিকে ব্যাট করতে নেমে প্রিন্সের ২০+ রানের ইনিংসটাও ছিল যথেষ্ট কার্যকরী। উর্দু পরে ব্যাট করতে নেমে সেরকম কোন লড়াই-ই করতে পারেনি। পেসার জনি (৩ উইকেট), ইমরান (২ উইকেট), গালিব (১ উইকেট) এর পাশাপাশি দুই স্পিনার ফাহিম (৩ উইকেট) ও আসিফ (১ উইকেট) মোটামুটি ভাগাভাগি করেই সবগুলো উইকেট নিয়ে উর্দু বিভাগের ইনিংসকে ধসিয়ে দেন। দুটো দর্শনীয় ক্যাচ ধরে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে ভূমিকা রাখেন আসিফ আল মাহমুদ ও শাফিন হোসেন।

ফিন্যান্স বিভাগের পরবর্তী ম্যাচ ২ ডিসেম্বর, সমাজবিজ্ঞান (সোশিওলোজি) বিভাগের সাথে।

এবারের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আন্তঃবিভাগ ক্রিকেটে ফিন্যান্সের আশা-ভরসা যাদের হাতে :

১. আব্দুল্লাহ আল মামুন (ব্যাটসম্যান)
২. আমীর হামজা চৌধুরী (ব্যাটসম্যান/অধিনায়ক)
৩. আদনান আল রাহীন (ব্যাটসম্যান)
৪. আসিফ আল মাহমুদ (অলরাউন্ডার)
৫. শাফিন হোসেন (ব্যাটসম্যান)
৬. তন্ময় দেবনাথ (ব্যাটসম্যান)
৭. জুনাঈদ জনি (অলরাউন্ডার)
৮. সারওয়ার হাবীব প্রিন্স (উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান)
৯. খন্দকার গালিব (বোলার)
১০. সাইফ (অলরাউন্ডার)
১১. নাসিমুল হক নাসিম
১২. ফাহিমুল হক (অলরাউন্ডার)
১৩. ইমরান শাহেদ (বোলার)

ম্যানেজার : সংকেত ব্যাপারী

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

twelve − 9 =