বেলজিয়াম, ক্রোয়েশিয়ার পর এবার সোনালি প্রজন্ম নিয়ে আসছে ডেনমার্ক

বেলজিয়াম, ক্রোয়েশিয়ার পর এবার 'সোনালি প্রজন্ম' নিয়ে আসছে ডেনমার্ক

গত বিশ্বকাপের কথাই ধরুন। দ্বিতীয় রাউন্ডে পেনাল্টির মত ভাগ্যনির্নায়কের চক্রে পড়ে কপাল পুড়েছিল ডেনমার্ক এর। সে রাউন্ডে পেনাল্টি শুটআউটে ডেনমার্ক কে হারানো ক্রোয়েশিয়া বিশ্বকাপের ফাইনাল পর্যন্ত ওঠে। দ্বিতীয় রাউন্ডে ডেনমার্ক এর বিশ্বকাপ যাত্রা থেমে গেলেও, এ কথা বলতেই হয়, বাঘের মত লড়েছিল ড্যানিশরা। বিশেষত দলটির গোলরক্ষক ক্যাসপার স্মাইকেল। যেবার সবাইকে অবাক করে দিয়ে প্রিমিয়ার লিগ জিতল লেস্টার, সেবার লেস্টারের গোলপ্রহরীর দায়িত্বে এই স্মাইকেলই কিন্তু ছিলেন। স্মাইকেলদের মত অভিজ্ঞ যোদ্ধাদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ডেনমার্কের ফুটবল ইতিহাস নতুন করে লেখার ইঙ্গিত দিচ্ছেন একদল তরুণ। ১৯৯২ সালে সবাইকে চমকে দিয়ে ইউরো জেতা ড্যানিশরা সামনের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতাগুলোর মধ্যে কোন একটায় শিরোপা জেতার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে নীরবে-নিভৃতে। মাইকেল লাউড্রপ, ব্রায়ান লাউড্রপ, ক্যাসপারের বাবা পিটার স্মাইকেলের দেখানো পথ ধরে অনেক তরুণই এখন ডেনমার্ক জাতীয় দলে খেলেন এই লক্ষ্য নিয়ে – একদিন না একদিন তারা বিশ্বকাপ বা ইউরোর মত কোন এক সম্মানজনক প্রতিযোগিতায় নিজেদের ক্যারিশমা দেখাতে পারবেন। যেমনটা এবার দেখালো বেলজিয়াম ও ক্রোয়েশিয়ার সোনালি প্রজন্ম।

বেলজিয়াম, ক্রোয়েশিয়ার মত এখন সময় আসছে ডেনমার্ক এর। আসছে ডেনমার্কের সোনালি প্রজন্ম। গতবার ইউরোতে খেলতে না পারা ডেনমার্ক যদি পরের ইউরো জিতেও যায়, আশ্চর্য হবেন না যেন। কিন্তু কিসের উপর ভিত্তি করে এই জোরালো দাবিটা জানাচ্ছি আমি? আসুন, দেখে নেওয়া যাক!

ডেনমার্কের হয়ে প্রত্যেকটা পজিশনে যারা যারা খেলেন, ও পাইপলাইনে যাদের আসার সম্ভাবনা রয়েছে, মোটামুটি খেলোয়াড় হিসেবে তাদের মান বিবেচনা করলেই কিন্তু বলা যেতে পারে, বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম একটা পরাশক্তি হিসেবে উঠে আসছে ডেনমার্ক। আসুন দেখে নেওয়া যাক, সামনের কয়েকটা বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে কাদের ওপর ভরসা রাখতে পারে এই ড্যানিশরা!

  • গোলরক্ষক

দলের অবিসংবাদিত গোলরক্ষক ক্যাসপার স্মাইকেল। ম্যানচেস্টার সিটির সাবেক এই গোলরক্ষক এখন খেলছেন লেস্টার সিটিতে, তাদের প্রিমিয়ার লিগজয়ী মৌসুমে দুর্দান্ত পারফর্ম করে জানিয়ে দিয়েছেন, চাপের মুখে বাবার মতই ভালো পারফর্ম করতে পারেন তিনি। বাবা ক্যাসপার স্মাইকেল ছিলেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কিংবদন্তি, প্রিমিয়ার লিগের সেরা গোলরক্ষক বলা হলেও অত্যুক্তি করা হয়না। তাই বলা যেতে পারে, জেতার ইচ্ছা বা তাড়নাটা ক্যাসপারের রক্তেই আছে। ডেনমার্কের হয়ে সবচেয়ে বেশি মিনিট গোল না খেয়ে থাকার রেকর্ডটা বাবার কাছ থেকেই ছিনিয়ে নিয়েছেন ক্যাসপার। বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার কাছে হেরে গেলেও কয়েকটা দুর্দান্ত সেভ করে ঠিকই নিজের জাত চিনিয়েছেন তিনি।

বেলজিয়াম, ক্রোয়েশিয়ার পর এবার 'সোনালি প্রজন্ম' নিয়ে আসছে ডেনমার্ক

স্মাইকেল ছাড়াও দলে আছেন জোনাস লয়েসল। হাডার্সফিল্ড টাউনের এই গোলরক্ষক ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের অন্যতম কার্যকরী একজন গোলরক্ষক। স্মাইকেলের কিছু হলে এই সাড়ে ছয় ফুটি লয়েসলের কাঁধেই পড়ে ডেনমার্ক কে সামলানোর দায়িত্ব। তরুণ থাকতে মাঝেমাঝেই ভুল করা লয়েসল বয়সের সঙ্গে সঙ্গে পোক্ত হয়েছেন আরও, প্রিমিয়ার লিগের মত প্রতিযোগিতাপূর্ণ লিগে নিজেকে প্রমাণ করে যাচ্ছেন প্রতি সপ্তাহে। অভিজ্ঞ স্মাইকেল আর লয়েসল ছাড়াও দলে রয়েছেন জার্মান ক্লাব আইনট্র্যাখট ফ্রাঙ্কফুর্টে খেলা গোলরক্ষক ফ্রেডেরিখ রোনোউ। এই গোলরক্ষকের প্রতিও আগ্রহ ছিল ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের। প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব ক্রিস্টাল প্যালেস তাকে পরপর দুই দলবদলের বাজারে চাইলেও ড্যানিশ ক্লাব ব্রন্ডবি ছাড়েনি তাকে। তবে এ মৌসুমে রোনোউকে আর দলে ধরে রাখতে পারেনি তারা। বর্তমান জার্মান কাপজয়ী দল আইনট্র্যাখট ফ্রাঙ্কফুর্টে চলে এসেছেন তিনি। বল পায়ে অত্যন্ত দক্ষ এই গোলরক্ষক আধুনিক ‘সুইপার কিপার’ ঘরানার খেলোয়াড়, ওয়ান-টু-ওয়ান পরিস্থিতিতে যেকোন স্ট্রাইকারকে থামানোর ক্ষমতা রাখেন তিনি।

  • সেন্টারব্যাক

সামনের টুর্নামেন্টগুলোতে এই পজিশনে ডেনমার্ক কে সামলানোর জন্য রয়েছেন অ্যান্দ্রেয়াস ক্রিস্টিয়ানসেন, ইয়ানিক ভেস্টারগার্ড, ম্যাথিয়াস জর্গেনসেন, সিমোন কায়ের, জোয়াকিম অ্যান্ডারসেন, র‍্যাসমাস নিসেন, অ্যান্দ্রেয়াস পোলসেন প্রমুখ। দলের অধিনায়ক সিমোন কায়ের সম্পর্কে নতুন কিছু বলার নেই। বাতাসে ভেসে আসা বলগুলো সামলানো ও ম্যান মার্কিংয়ে দুর্দান্ত এই সেন্টারব্যাক ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন, তুর্কি সব দেশের শীর্ষ লিগেই খেলেছেন – পালের্মো, সেভিয়া, রোমা, ভলফসবুর্গ, ফেনেরবাচে ইত্যাদি ক্লাবের হয়ে। ছোটবেলায় মা যখন কায়েরকে লেখাপড়া করতে বলতেন, কায়ের সুন্দরমত বলে দিতেন, আমার লেখাপড়া করার দরকার নেই তো, আমি পেশাদার ফুটবলার হতে যাচ্ছি! সেই আত্মবিশ্বাসী কায়ের এখন ডেনমার্ক রক্ষণভাগের অন্যতম ভরসা।

বেলজিয়াম, ক্রোয়েশিয়ার পর এবার সোনালি প্রজন্ম নিয়ে আসছে ডেনমার্ক
আন্দ্রেয়াস ক্রিস্টিয়ানসেন

কায়েরের দেখানো পথ ধরে একাধিক তরুণ সেন্টারব্যাক উঠে এসেছে ডেনমার্কে। অ্যান্দ্রেয়াস ক্রিস্টিয়ানসেনের কথাই ধরুন। চেলসির এই সেন্টারব্যাক এর মধ্যেই বিশ্বের অন্যতম প্রতিভাবান সেন্টারব্যাক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে ফেলেছেন। চেলসির সাবেক কোচ আন্তোনিও কন্তে ক্রিস্টিয়ানসেনের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে একবার বলেছিলেন, পরবর্তী ১০-১২ বছরের জন্য চেলসিকে সেন্ট্রাল ডিফেন্সের জন্য চিন্তা করতে হবেনা, কেননা ক্রিস্টিয়ানসেন আছেন। সাবেক ড্যানিশ কোচ আগে হেরেইদে তো ক্রিস্টিয়ানসেনকে নতুন বেকেনবাওয়ারই বলে আখ্যা দিয়ে দিয়েছিলেন! দলের প্রয়োজনে এই ক্রিস্টিয়ানসেন আবার রাইটব্যাক হিসেবেও খেলতে পারেন। ডেনমার্কে প্রচুর সেন্টারব্যাক থাকার কারণে জাতীয় দলে রাইটব্যাক হিসেবেও খেলেছেন তিনি এর আগে। দলে আছেন ইয়ানিক ভেস্টারগার্ড ও ম্যাথিয়াস জর্গেনসেনের মত সেন্টারব্যাক, যারা প্রতি সপ্তাহে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে নিজের জাত চেনাচ্ছেন যথাক্রমে সাউদাম্পটন ও হাডার্সফিল্ড টাউনের হয়ে খেলেন। দুই পায়ে খেলতে সমান দক্ষ ভেস্টারগার্ডকে সাউদাম্পটন নিয়ে এসেছে গত মৌসুমে, ভার্জিল ভ্যান ডাইক যখন সাউদাম্পটন ছেড়ে লিভারপুল গেলেন, তারপর। তার মানে ভ্যান ডাইকের অভাব পূরণ করার বিশাল দায়িত্ব পালন করার জন্য সাউদাম্পটন এই ভেস্টারগার্ডকেই যোগ্য বলে মনে করেছে! সাম্পদোরিয়ার তরুণ সেন্টারব্যাক জোয়াকিম অ্যান্ডারসেনকে বলা হচ্ছে ‘নতুন মিলান স্ক্রিনিয়ার’ (মিলান স্ক্রিনিয়ার হলেন একজন স্লোভাকিয়ান সেন্টারব্যাক, যিনি সাম্পদোরিয়ার হয়ে ভালো পারফর্ম করে গত মৌসুমে নাম লিখিয়েছেন ইন্টার মিলানে, ইতালিয়ান লিগের বর্তমান সময়ে অন্যতম সেরা সেন্টারব্যাক মানা হয় তাঁকে) – অ্যান্ডারসেনকে দলে নেওয়ার ব্যাপারে আগ্রহ দেখিয়ে যাচ্ছে জুভেন্টাস ও চেলসির মত ক্লাবগুলো। আয়াক্সের মত ক্লাবে আলো ছড়াচ্ছেন র‍্যাসমাস নিসেন। আয়াক্সের মত দল কোন প্রতিভার পেছনে ৫.৫ মিলিয়ন ইউরোর মত খরচ করলে চোখ কচলাতেই হয়। এমনটাই হয়েছে র‍্যাসমাস নিসেনের ক্ষেত্রে। সেন্টারব্যাক হয়ে এ পর্যন্ত আয়াক্সে ১৬ ম্যাচ খেলে ৭ গোল করেছেন তিনি, ভাবা যায়? বলা যেতে পারে রক্ষণভাগের মাঝে ড্যানিশদের প্রতিভার কোন অভাবই নেই!

  • ফুলব্যাক

এই বিশ্বকাপে ডেনমার্কের রাইটব্যাক হিসেবে খেলেছিলেন হেনরিক ডালসগার্ড। স্ট্রাইকার হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করা এই ডিফেন্ডার পরে নিজেকে ডেনমার্কের প্রথম পছন্দের রাইটব্যাক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ডিফেন্সের আরেক দিকে আবার প্রতিভার অভাব নেই ডেনমার্কের। আছেন এই বিশ্বকাপ খেলা ডিফেন্ডার জোনাস নুদসেন, আছেন লাজিওতে খেলা লেফটব্যাক রিজা দুরমিসি। ড্যানিশ ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে দামী টিনএজার হিসেবে বরুশিয়া মনশেনগ্ল্যাডবাখে নাম লিখিয়েছেন অ্যান্দ্রেয়া পোলসেন নামের তরুণ এক লেফটব্যাক। ভ্যালেন্সিয়ার অভিজ্ঞ উইংব্যাক ড্যানিয়েল ওয়াসও গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারেন দলের। দলের সবচেয়ে সব্যসাচী খেলোয়াড় বলা যেতে পারে এই ড্যানিয়েল ওয়াসকে। যেকোন পজিশনে খেলতে পারেন তিনি, কি রাইটব্যাক, কি লেফটব্যাক, কি সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার, কি অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার, কি রাইট উইংব্যাক!

  • সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার

বর্তমান সময়ে ড্যানিশদের সবচেয়ে প্রতিভাবান সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার থমাস ডেলেনি, যিনি গত মৌসুমে জার্মান ক্লাব ওয়ের্ডার ব্রেমেনে প্রতিভার ঝলক দেখিয়ে এই মৌসুমে নাম লিখিয়েছেন বরুশিয়া ডর্টমুন্ডে। প্রাণশক্তিতে ভরপুর এই মিডফিল্ডারকে কাটিয়ে বল নিয়ে যাওয়া বেশ যন্ত্রণার কাজ। ডেলেনির জন্য এই মৌসুমে ডর্টমুন্ডের মূল একাদশে জায়গা পাচ্ছেন না প্রতিভাবান জার্মান মিডফিল্ডার জুলিয়ান ভাইগেল। ডেলেনি ছাড়াও দলে আছেন হাডার্সফিল্ড টাউনে খেলা ফিলিপ বিলিং, আছেন সাউদাম্পটনে খেলা বায়ার্ন মিউনিখের সাবেক খেলোয়াড় পিয়েরে-এমিল হোবিয়ার্গ। ফিলিপ বিলিং এমনিতেই প্রিমিয়ার লিগে খেলা সবচেয়ে লম্বা মিডফিল্ডার, ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারের কাজটাও করতে পারেন বেশ ভালো। ওদিকে পেপ গার্দিওলার মত গুরুকে বায়ার্নে পাওয়া হোবিয়ার্গ এখন সাউদাম্পটনের মিডফিল্ডের অন্যতম প্রধান অংশ। স্প্যানিশ লিগে সেল্টা ভিগোর হয়ে মাঠ মাতাচ্ছেন ২০১৭ সালে ড্যানিশ লিগের সবচেয়ে প্রতিভাবান খেলোয়াড় হিসেবে নির্বাচিত হওয়া ম্যাথিয়াস জেনসেন। ফরাসি লিগে বোর্দোর হয়ে নিয়মিত খেলা লুকাস লেরাগেরও সামনের টুর্নামেন্টগুলোতে সুযোগ পেয়েও যেতে পারেন।

বেলজিয়াম, ক্রোয়েশিয়ার পর এবার সোনালি প্রজন্ম নিয়ে আসছে ডেনমার্ক
থমাস ডেলেনি

তবে ডেনমার্ক দলের সবচেয়ে তারকাটা কিন্তু এই মিডফিল্ডেই খেলেন। ক্রিস্টিয়ান এরিকসেন। আয়াক্সের হয়ে প্রতিভার বিচ্ছুরণ ঘটানো এরিকসেন ২০১৩ সালে টটেনহামে এসে এখন প্রিমিয়ার লিগের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে ফেলেছেন। তাঁকে দলে নেওয়ার ব্যাপারে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনার মত ক্লাবগুলো। ২০১০ বিশ্বকাপের সবচেয়ে কমবয়সী এই খেলোয়াড়ের গোল করিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা নজর কাড়ার মত। ডেনমার্কে তো এর মধ্যেই মানুষজন আলোচনা করা শুরু করে দিয়েছে মাইকেল লাউড্রপের চেয়েও কি ক্রিস্টিয়ান এরিকসেন বেশী ভালো কি না, সে ব্যাপারে। এবারের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে একাই ১১ গোল করে জানিয়ে দিয়েছেন, লাউড্রপকে ছুঁতে তিনি প্রস্তুত। আর সে ক্ষেত্রে অনেক বড় সাহায্য করতে পারে ডেনমার্কের হয়ে একটি বৈশ্বিক শিরোপা জয়। যেটা লাউড্রপ করেছিলেন – ১৯৯২ ইউরোতে।

বেলজিয়াম, ক্রোয়েশিয়ার পর এবার সোনালি প্রজন্ম নিয়ে আসছে ডেনমার্ক
ক্রিস্টিয়ান এরিকসেন
  • উইঙ্গার

নতুন ডেনমার্কের উইং দায়িত্ব সামলাতে পারেন বেশ কয়েকজন – সেল্টা ভিগোর উইঙ্গার পিওনে সিসতো, বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের ইয়াকুব ব্রুন লারসেন, কোপেনেহেগেনের ভিক্টর ফিশার এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য। স্প্যানিশ লিগের খেলা যারা নিয়মিত দেখেন, তারা পিওনে সিসতো সম্পর্কে বলতে পারবেন ভালো। রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনার ফুলব্যাকদের প্রায়ই ‘ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি’ অবস্থা হয় এই সিসতোকে সামলাতে গিয়ে। পানামার বিপক্ষে এক ম্যাচে বুটের ফিতা না বেঁধেই গোল করেছিলেন তিনি! ইয়াকুব ব্রুন লারসেন এখন ডর্টমুন্ড কোচ লুসিয়েন ফাভরের অন্যতম পছন্দের একজন খেলোয়াড়, এতটাই ভালো খেলছেন তিনি, যে আমেরিকান তারকা ক্রিস্টিয়ান পুলিসিকের মত খেলোয়াড় মূল একাদশে জায়গা পান না মাঝেমাঝে, এই লারসেনের জন্য। আর ভিক্টর ফিশারের প্রতিভা নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। আয়াক্সের হয়ে প্রতিভার ঝলক দেখানো এই উইঙ্গার মিডলসব্রো ও মেইঞ্জের হয়ে তেমন কিছু না করতে পেরে এখন নিজের দেশের ক্লাব কোপেনহেগেনের হয়ে আবারও আলো ছড়াচ্ছেন। নতুন দিনের ডেনমার্কের অন্যতম বড় অস্ত্র হতে পারেন তিনিও।

বেলজিয়াম, ক্রোয়েশিয়ার পর এবার সোনালি প্রজন্ম নিয়ে আসছে ডেনমার্ক
ইয়াকুব ব্রুন লারসেন
  • স্ট্রাইকার

প্রচুর প্রতিভাবান তরুণ ডেনমার্কের মূল স্ট্রাইকার হওয়ার জন্য লড়ছে। এদের মধ্যে রয়েছে আয়াক্সের ক্যাসপার ডলবার্গ, ফেইনুর্দের নিকোলাই জর্গেনসেন, বোর্দোর মার্টিন ব্রাথওয়াইট, লাইপজিগের ইউসুফ পোলসেন, আটালান্টার আন্দ্রেয়াস কর্নেলিয়াস, কোপেনহেগেনের রবার্ট স্কোভ, গেঙ্কের মার্কাস ইঙ্গভার্টসেন প্রমুখ। দুই-এক বছর ধরেই ডলবার্গ আয়াক্সের হয়ে আলো ছড়াচ্ছেন। দুই মৌসুম আগে আয়াক্সকে ইউরোপা লিগের ফাইনালে তোলার ব্যাপারে তাঁর হাত ছিল অনেক। ব্রাথওয়াইট আর জর্গেনসেন – দুজনই মূল স্ট্রাইকার হওয়ার পাশাপাশি উইংয়েও খেলতে পারেন। লাইপজিগের স্ট্রাইকার ইউসুফ পোলসেন এর মধ্যেই ডেনমার্কের হয়ে নিজেকে চেনাচ্ছেন, বিশ্বকাপে গোল করেছেন পেরুর বিপক্ষে। বেলজিয়ান লিগে ওদিকে গোলের বন্যা ছোটাচ্ছেন মার্কাস ইঙ্গভার্টসেন।

বেলজিয়াম, ক্রোয়েশিয়ার পর এবার সোনালি প্রজন্ম নিয়ে আসছে ডেনমার্ক
ক্যাসপার ডলবার্গ

এসব খেলোয়াড়গুলো নিজেদের প্রতিভার পরতি সুবিচার করতে পারলে, বলা যায় সামনের টুর্নামেন্টগুলোতে চোখধাঁধানো ফুটবল উপহার দিতে যাচ্ছে ডেনমার্ক। আসুন দেখে নেওয়া যাক ডেনমার্কের সম্ভাব্য মূল একাদশ কি হতে পারে সামনের টুর্নামেন্টগুলোতে –

  • খেলোয়াড়দের শক্তি অনুযায়ী সম্ভাব্য ছক : ৪-৩-৩
  • গোলরক্ষক : ক্যাসপার স্মাইকেল
  • রাইটব্যাক : অ্যান্দ্রেয়াস ক্রিস্টিয়ানসেন
  • সেন্টারব্যাক : ইয়ানিক ভেস্টারগার্ড, জোয়াকিম অ্যান্ডারসেন
  • লেফটব্যাক : ড্যানিয়েল ওয়াস
  • ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার : পিয়েরে এমিল হোবিয়ার্গ
  • সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার : থমাস ডেলেনি, ক্রিস্টিয়ান এরিকসেন
  • উইঙ্গার : পিওনে সিসতো, ইয়াকুব ব্রুন লারসেন
  • মূল স্ট্রাইকার : ইউসুফ পোলসেন

বেলজিয়াম, ক্রোয়েশিয়ার পর এবার 'সোনালি প্রজন্ম' নিয়ে আসছে ডেনমার্ক

তরুণ প্রচুর খেলোয়াড় এভাবে উঠে আসছেন ডেনমার্কে। একবার তাদের মধ্যকার রসায়নটা ঠিকঠাক জমে গেলে, সামনের ইউরো বা বিশ্বকাপে ডেনমার্ক যে নিজেদের একটা বৈশ্বিক পরাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে না, তাঁর গ্যারান্টি কি?

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

2 + 7 =