ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডের রাজা যিনি

২০০৩ সালের কথা;রিয়াল মাদ্রিদে তখন “গ্যালাক্টিকোস” এর যুগ চলছে। সেই তারার মেলায় নতুন সংযোজন হয়ে আসলেন ইংলিশ সুপারস্টার ডেভিড বেকহ্যাম। আর তাঁকে দলে জায়গা করে দিতে ছেড়ে দেওয়া হলো অনেকদিন ধরে মিডফিল্ডের অন্যতম ভরসা হওয়া সত্ত্বেও তারকাদের ভিড়ে কখনোই আলোয় না আসা, এক ফ্রেঞ্চ ফুটবলারকে। মাদ্রিদের হর্তাকর্তারা না বুঝলেও তৎকালীন রিয়াল মাদ্রিদের আরেক ফ্রেঞ্চ ফুটবলার এবং ফুটবল কিংবদন্তী জিনেদিন জিদান সেই ফুটবলারের গুরুত্ব ঠিকই বুঝতে পেরেছিলেন। সবাই যখন বেকহ্যামকে নিয়ে ব্যস্ত, তখন তিনি বললেন,“আপনার বেন্টলি গাড়িটায় স্বর্ণের আরেকটা প্রলেপ দিয়ে কি লাভ, যদি আপনি পুরো ইঞ্জিনটাই হারিয়ে ফেলেন??”……না, জিজু মোটেও বাড়িয়ে বলেননি, কারণ ছোটোখাটো গড়নের,কৃষ্ণাঙ্গ সেই ফুটবলারটি যে ছিলেন আজকের ফুটবলে সব ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারদের আদর্শ, ক্লোড “ম্যাকেলেলে”!!

রিয়ালে নিজের প্রাপ্য সম্মান কখনই পাননি ম্যাকেলেলে

১৯৭৩ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি জন্ম নেওয়া ক্লোড ম্যাকেলেলে ফ্রেঞ্চ লিগের বিভিন্ন দলে খেলে ১৯৯৮ সালে চলে আসেন স্প্যানিশ ক্লাব সেল্টা ভিগোতে। এখানে এসেই তিনি “হোল্ডিং মিডফিল্ডার” হিসেবে তাঁর আসল প্রতিভার পরিচয় দেওয়া শুরু করেন। তারই ফলাফল হিসেবে ২০০০ সালে রিয়াল মাদ্রিদ ১৪ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে তাঁকে কিনে নেয়।রিয়ালের হয়ে পরবর্তী তিন বছরে তিনি জেতেন ২টি লা লিগা, একটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ,একটি স্প্যানিশ সুপারকাপ,একটি ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ এবং একটি ইউরোপিয়ান সুপারকাপ! এতো এতো ট্রফি জেতানোর পেছনে অসামান্য অবদান রাখার পরও রিয়াল মাদ্রিদ তাঁর বেতন বাড়াতে রাজি না হওয়ায় রাগে-ক্ষোভে তিনি ক্লাব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন। রিয়ালও তাঁকে ধরে না রেখে ১৬.৮ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে বিক্রি করে দেয় চেলসির কাছে।ইংলিশ ফুটবলে তাঁর প্রথম সিজনে খুব বেশি কিছু করতে পারেননি ম্যাকেলেলে।পরের সিজনে চেলসির ম্যানেজার হয়ে আসেন হোসে মোরিনিয়ো; আর মোরিনিয়োর অধীনে ম্যাকেলেলের ক্যারিয়ারের যেন পুনর্জন্ম হয়। হোল্ডিং মিডফিল্ড পজিশনটাকে এতোটাই আপন করে নিয়েছিলেন যে,পরবর্তীতে এই পজিশনের নামই হয়ে যায়, “দ্যা ম্যাকেলেলে রোল”। চেলসির হয়ে পাঁচ বছরে দুইটি প্রিমিয়ার লিগ,একটি এফএ কাপ এবং দুইটি লিগ কাপ জেতার পর ২০০৮ সালে তিনি আবার ফ্রেঞ্চ ফুটবলে ফিরে আসেন। সেখানে পিএসজির হয়ে তিন মৌসুম খেলে তিনি অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।


ফ্রান্সের হয়ে ৭১টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা ক্লোড ম্যাকেলেলে, ২০০৬ সালে ফ্রান্সকে বিশ্বকাপ ফাইনালে তোলার পেছনে অসামান্য অবদান রাখেন। সেই টুর্নামেন্টে ফ্রান্সের মূলনায়ক জিনেদিন জিদান হলেও,মিডফিল্ডে ম্যাকেলেলের ভুমিকাও ছিলো অনস্বীকার্য।
যুগে যুগে অনেক অমিত প্রতিভাধর খেলোয়াড়ই ফুটবল খেলেছেন; কিন্তু তাঁদের কারো নামে একটি পজিশনের নামকরণ করার ঘটনা সত্যিই বিরল। আজ, সেই বিরল সম্মান অর্জন করা মিডফিল্ডার, ক্লোড ম্যাকেলেলের ৪৩তম জন্মদিনে রইলো অনেক অনেক শুভকামনা!

@শাহ আকিব সারোয়ার

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

4 × one =