ট্রেভর বেলিস – অস্ট্রেলিয়ার ‘অস্ট্রেলিয়ান’ হন্তারক!

অস্ট্রেলিয়ার বাজে পারফরম্যান্সে এতটাই বিস্মিত হয়েছি যে ইংল্যান্ডের জয়ের নেপথ্য নায়কের কথা ভুলেই গিয়েছিলাম। টেভর বেলিস। এই বেলিসই তো স্বয়ং একটা বড় বিস্ময়!

স্টিভ রিক্সনের কাছ থেকে ২০০৪-০৫ মৌসুমে নিউ সাউথ ওয়েলসের কোচের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। প্রথম মৌসুমেই দলকে জিতিয়েছিলেন শেফিল্ড শিল্ড। পরের মৌসুমে জিতিয়েছিলেন ঘরোয়া ওয়ানডে টুর্নামেন্ট। ২০০৭ সালে দায়িত্ব নেন শ্রীলঙ্কার। তার কোচিংয়ে ২০০৯ ওয়ার্ল্ড টি-টোয়েন্টি ও ২০১১ ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলে শ্রীলঙ্কা, উঠেছিল টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ের দুই নম্বরে। ২০১১-১২ মৌসুমে সিডনি সিক্সার্সের দায়িত্ব নিয়ে প্রথম মৌসুমেই জেতান বিগ ব্যাশ ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টি-টোয়েন্টি। ২০১২ সালে দায়িত্ব নেন কলকাতা নাইট রাইডার্সের। শাহরুখ খানের দলকে বহু কাঙ্খিত আইপিএল শিরোপা এনে দেন বেলিস প্রথম মৌসুমেই। পরে ২০১৪ আইপিএলও কেকেআর জিতে নেয় বেলিসের কোচিংয়ে। এবার যখন ইংল্যান্ডের দায়িত্ব নিলেন, অ্যাশেজ শুরু হতে বাকি নেই ২ সপ্তাহও। তার পরও, ফল হাতেনাতে।

২ সপ্তাহে একটা দলের খোলনলচে পাল্টে দেওয়া যায় না। ইংল্যান্ডের জয়ের মূল কৃতিত্ব অবশ্যই ক্যাপ্টেন ও তার দলের। তবে যে মন্ত্রে অ্যাশেজ জয়, সেটি তো বুনে দিয়েছিলেন বেলিসই! ইংল্যান্ডের অ্যাশেজে জয়ের চেয়েও বিস্ময়কর, তারা যে ব্র্যান্ডের ক্রিকেট খেলছে। জন্মের পর থেকেই দেখে আসছি ইংল্যান্ড ‘পুতুপুতু’ মার্কা বিরক্তিকর ক্রিকেট খেলে। সেই ইংল্যান্ড এরকম খুনে মানসিকতার আগ্রাস ক্রিকেট খেলবে, কজন ভাবতে পেরেছিল?

সবই বেলিসের জাদুমন্ত্রের খেল। দায়িত্ব নেওয়ার পরই বেলিস বলেছিলেন, “আমার কোচিংয়ে ইংল্যান্ড খেলবে আগ্রাসী ক্রিকেট। আগুণের জবাব আগুণ দিয়েই দেব।”

বেলিস কিভাবে এমন হলেন? হতেই হতো, তিনি তো অস্ট্রেলিয়ান! ইংল্যান্ডের প্রথম অস্ট্রেলিয়ান কোচ ইংল্যান্ডকে এনে দিলেন অ্যাশেজ!

লেখকের ফেইসবুক স্ট্যাটাস অবলম্বনে…

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

10 − 7 =