টেস্ট খেলার সুযোগ হাতছাড়া করছি সমানে

ভাবসাব দেখে মনে হচ্ছে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এবার বাংলাদেশ একাই খেলবে!

ক্রিকেট বিশ্বের আর কোথাও ‘বিশ্বকাপ বিশ্বকাপ’ রব নাই। টেস্ট-ওয়ানডে, দ্বিপাক্ষিক সিরিজের কমিটমেন্টগুলো নিয়েই ব্যস্ত সবাই। কিন্তু বাংলাদেশের ক্রিকেট আঙিনায় কান পাতলে বিশ্বকাপ ছাড়া আর কিছু শোনা যাচ্ছে না!

অস্ট্রেলিয়ার কথা ধরি। পেশাদারিত্বে চূড়ান্ত মানা হয় তাদের। বিশ্বকাপ নিয়েও অনেক ভাবনা থাকার কথা। কিন্তু তারা কি করছে? স্যার ফ্র্যাঙ্ক ওরেল ট্রফি শেষ হলো মাত্রই, ৩ টেস্টের সিরিজ। ১২ জানুয়ারি থেকে ভারতের বিপক্ষে ৫ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। এরপর ৩টি টি-টোয়েন্টি। ভাবছেন টি-টোয়েন্টির জগতে ঢুকে গেল? তারপরই যে নিউ জিল্যান্ডে গিয়ে আছে ওয়ানডে ও টেস্ট সিরিজ! বিশ্বকাপের প্রস্তুতি সত্যিকার অর্থে বলতে, মার্চের প্রথম সপ্তাহে দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়ে ৩টি টি-টোয়েন্টি। এই তো!

ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজও যথেষ্টই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু অস্ট্রেলিয়া এখনই ভাবছে, নিউ জিল্যান্ড টেস্ট নিয়ে। যদিও খুব কাছেই, তাসমান সাগরের ওপারেই নিউ জিল্যান্ড। তারপরও কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া দুর্ভাবনা! টেস্ট সিরিজের আগে প্রস্তুতি ম্যাচ রাখা হয়নি। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া তাই শেফিল্ড শিল্ডে নিউ সাউথ ওয়েলস ও ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচটি রেখেছে লিঙ্কনে। এই শহর নিউ জিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের কাছেই, কন্ডিশন নিউ জিল্যান্ডের মতো হবে, তাই! টেস্ট দলের যে কজন এই দুই দলে খেলবেন, তাদের প্রস্তুতিটা অন্তত হয়ে যাবে। ভাবনার গভীরতা কতটা! শুধু তাই নয়, ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে না খেলে স্মিথ-ওয়ার্নারের মত শীর্ষ ক্রিকেটারদের শেফিল্ড শিল্ডের ওই ম্যাচ খেলা উচিত কিনা, সেটা নিয়েও আলোচনা চলছে!
ইংল্যান্ড-দক্ষিণ আফ্রিকার আরও দুটি টেস্ট আছে। এরপর ৫ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ আছে।

পাকিস্তান-নিউ জিল্যান্ড টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে, তবে এরপর ওয়ানডে সিরিজও আছে। নিউ জিল্যান্ড সফর শেষে বিশ্বকাপ পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার আর কোনো খেলাই নাই। ওয়েস্ট ইন্ডিজেরও।

আমরা আছি শুধু টি-টোয়েন্টি নিয়ে। বিশ্বকাপ সামনে, তাই টি-টোয়েন্টি ছাড়া অন্য কিছু খেলা যাবে না। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সম্ভাব্য ফুল সিরিজের জায়গায় আমরা খেলছি শুধু টি-টোয়েন্টি। ঠিক আছে, টি-টোয়েন্টি খেলতে হবে। টি-টোয়েন্টি তিনটি খেলে অন্তত একটা টেস্ট আমরা খেলতে পারতাম! এই বছর আমাদের টেস্ট বলতে তাই আগস্টে ভারতে একটি টেস্ট, অক্টোবরে দেশের মাটিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি আর ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে নিউ জিল্যান্ডে দুটি। নিজের ইচ্ছেয় আমরা আরও টেস্ট খেলার সুযোগ হাতছাড়া করলাম।

টেস্ট বেশি খেলতে পাই না বলে তাহলে এত মায়াকান্নার মানে কি!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

4 × 3 =