বিশ্বকাপ ২০১৮ : টিম প্রিভিউ – ব্রাজিল

বিশ্বকাপ ২০১৮ : টিম প্রিভিউ - ব্রাজিল

দুনিয়াজোড়া ব্রাজিল সমর্থকদের অপেক্ষার পালা শেষ হয়েছে অবশেষে। ২০১৮ বিশ্বকাপ এর জন্য ২৩ সদস্যবিশিষ্ট ব্রাজিল স্কোয়াড ঘোষণা করেছেন কোচ তিতে। ২৩ সদস্যের এই স্কোয়াডে গোলরক্ষক আছেন ৩ জন, সেন্টারব্যাক চারজন, লেফটব্যাক দুইজন, রাইটব্যাক ২ জন, মিডফিল্ডার ৭ জন ও স্ট্রাইকার ৫ জন। এই বিশ্বকাপ এর গ্রুপ ‘ই’ তে ব্রাজিল এর সঙ্গী হল সুইজারল্যান্ড, কোস্টারিকা ও সার্বিয়া। দেখে নেওয়া যাক কিরকম হল ব্রাজিল এর বিশ্বকাপ স্কোয়াড!

গোলরক্ষক

  • অ্যালিসন বেকার (এএস রোমা)
  • এডারসন মোরায়েস (ম্যানচেস্টার সিটি)
  • ক্যাসিও রামোস (করিন্থিয়ান্স)

ডিফেন্ডার

  • থিয়াগো সিলভা (প্যারিস সেইন্ট জার্মেই)
  • মিরান্ডা (ইন্টার মিলান)
  • মার্ক্যুইনহোস (প্যারিস সেইন্ট জার্মেই)
  • জেরোমেল (গ্রেমিও)
  • ফিলিপে লুইস (অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ)
  • মার্সেলো (রিয়াল মাদ্রিদ)
  • ফ্যাগনার (করিন্থিয়ান্স)
  • দানিলো (ম্যানচেস্টার সিটি)

মিডফিল্ডার

  • ক্যাসেমিরো (রিয়াল মাদ্রিদ)
  • ফার্নান্দিনহো (ম্যানচেস্টার সিটি)
  • ফ্রেড (শাখতার দোনেতস্ক)
  • রেনাতো অগাস্তো (বেইজিং গুয়ান)
  • পাওলিনিও (বার্সেলোনা)
  • উইলিয়ান (চেলসি)
  • ফিলিপ্পে কউতিনহো (বার্সেলোনা)

ফরোয়ার্ড

  • নেইমার জুনিয়র (প্যারিস সেইন্ট জার্মেই)
  • গ্যাব্রিয়েল হেসুস (ম্যানচেস্টার সিটি)
  • রবার্তো ফিরমিনো (লিভারপুল)
  • ডগলাস কস্টা (জুভেন্টাস)
  • তাইসন (শাখতার দোনেতস্ক)

ত সপ্তাহে ফরাসী কাপের ফাইনালে ইনজুরিতে পড়ে বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্নের সমাধি ঘটেছে কিংবদন্তী রাইটব্যাক দানি আলভেসের। ওদিকে পায়ের ইনজুরিতে নেইমারের বিশ্বকাপ খেলা হবে কি না সে ব্যাপারে শঙ্কা থাকলেও ব্রাজিল এর ডাক্তাররা জানিয়েছেন নেইমার এখন বিশ্বকাপ খেলার জন্য শতভাগ ফিট। চমকপ্রদ তথ্য হল ২০১৪ সালের বিশ্বকাপ এর ব্রাজিল স্কোয়াডের মাত্র ৬ জন জায়গা করে নিতে পেরেছেন ২০১৮ বিশ্বকাপ এ – থিয়াগো সিলভা, নেইমার, মার্সেলো, ফার্নান্দিনহো, পাওলিনহো ও উইলিয়ান।

বিশ্বকাপ ২০১৮ : টিম প্রিভিউ - ব্রাজিল

ব্রাজিলের মূল একাদশে গোলরক্ষক হিসেবে থাকবেন ইতালিয়ান ক্লাব এএস রোমার গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকার। ব্রাজিল ক্লাব ইন্তারন্যাসিওনাল থেকে ২০১৬ সালে রোমায় আসা এই গোলরক্ষক গত দুই মৌসুমে নিজেকে বিশ্বের অন্যতম সেরা গোলরক্ষক হিসেবে এর মধ্যেই প্রতিষ্ঠিত করে ফেলছেন। ২০১৫ সাল থেকে ব্রাজিল এর মূল দলে খেলা অ্যালিসন ২২ ম্যাচ খেলে এর মধ্যেই তিতের মূল একাদশের অবিচ্ছেদ্য এক অংশ। এই মৌসুমে অ্যালিসন বেকার নিজেকে অবিশ্বাস্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। বর্তমান সময়ের সেরা কিছু গোলরক্ষক – ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ডেভিড ডা হেয়া, বার্সেলোনার মার্ক অ্যান্দ্রে টের-স্টেগেন, অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের ইয়ান ওবলাক, চেলসির থিবো কোর্তোয়া – এদের সাথে তুলনামূলক একটা বিশ্লেষণেই বোঝা যাবে এই মৌসুমে অ্যালিসন বেকার কে নিয়ে কেন এত মাতামাতি হচ্ছে! দ্বিতীয় গোলরক্ষক হিসেবে রাশিয়া যাচ্ছেন ম্যানচেস্টার সিটির ব্রাজিলিয়ান গোলরক্ষক এডারসন মোরায়েস। যুগে যুগে আউটফিল্ডে একের পর এক প্রতিভা উপহার দেওয়া ব্রাজিল দলে কখনই ভালো গোলরক্ষকের এত ভিড় ছিলনা যা কিনা এখন আছে। হিসাব করে দেখেন, শেষ কোন বিশ্বকাপে ব্রাজিল একাধিক বিশ্বমানের গোলরক্ষক নিয়ে গিয়েছিল? ১৯৯০ তে ছিল তাফারেল, ১৯৯৪ তেও সেই তাফারেল, ১৯৯৮ তে তাফারেলের সাথে উঠতি দিদা, ২০০২ সালে দিদা, ২০০৬ সালে দিদার সাথে উঠতি হুলিও সেজার, ২০১০ আর ২০১৪ তে হুলিও সেজার। এবারই ২০১৮ এর বিশ্বকাপে দুইজন বিশ্বমানের গোলরক্ষককে ফর্মের তুঙ্গে একই সাথে পাচ্ছে ব্রাজিল – অ্যালিসন বেকার আর এডারসন মোরায়েস। অ্যালিসন-এডারসন দুইজনই বর্তমান সময়কার অন্যতম সেরা গোলরক্ষক। দুইজনই একদম নিচ থেকে আক্রমণ শুরু করার মত যথেষ্ট ভালো “সুইপার কিপার”, যারা নিখুঁতভাবে ডিবক্সের মধ্যে থেকেই লম্বা পাস বা শট নিয়ে আক্রমণভাগে বল পাঠিয়ে গোল করার সুযোগ সৃষ্টি করে ফেলতে পারেন। দুইজনই বল পায়ে অত্যন্ত স্বচ্ছন্দ, ছোট-বড় সব ধরণের পাস দিয়েই খেলতে পারেন। কিন্তু প্রতিপক্ষের শট মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে, সেইভ করার ক্ষেত্রে এডারসনের থেকে অ্যালিসন ভালো হবার কারণে তিতের মূল পছন্দ অ্যালিসনই। দলের তৃতীয় গোলরক্ষক হলেন করিন্থিয়ান্সের গোলপ্রহরী ক্যাসিও। ক্যাসিওকে জায়গা করে দিতে গিয়ে বিশ্বকাপ স্বপ্ন জলাঞ্জলি দিয়েছেন ফ্ল্যামেঙ্গোর ডিয়েগো আলভেস, গ্রেমিওর মার্সেলো গ্রোহে, পালমেইরাসের ওয়েভারতন।

বিশ্বকাপ ২০১৮ : টিম প্রিভিউ - ব্রাজিল
অ্যালিসন বেকার

এখন আসা যাক সেন্টারব্যাক পজিশনে। প্যারিস সেইন্ট জার্মেইয়ের দুই সেন্টারব্যাক মার্ক্যুইনহোস আর থিয়াগো সিলভার সাথে ব্রাজিল দলে ইতোমধ্যে জায়গা পেয়ে গিয়েছেন ইন্টার মিলানের মিরান্ডা। এদের মধ্যে ব্রাজিল এর মূল একাদশে খেলবেন মিরান্ডা আর মার্ক্যুইনহোস। এদের মধ্যে সেরকম কেউই বর্তমান সময়ে শ্রেষ্ঠতম সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার নন, তবে তিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে দেখিয়েছেন তাদের নিয়ে যদি দলগতভাবে কাজ করা যায় তবে মিরান্ডা-মার্ক্যুইনহোস একসাথে একটা অসাধারণ ডিফেন্সিভ জুটি গড়তে পারেন। থিয়াগো সিলভার এককালে বিশ্বের সেরা সেন্টারব্যাক ছিলেন, এসি মিলানে থাকার সময় ও প্যারিস সেইন্ট জার্মেইয়ে আসার পর প্রথম দুই মৌসুমে, কিন্তু এখন বয়স বাড়ার সাথে সাথে তার কার্যকারিতাও কমে যাচ্ছে। ওদিকে মিরান্ডাও বিশ্বের সেরা সেন্টারব্যাক নন, এখনো প্রতিপক্ষ দলের চূড়ান্ত প্রেসিং এর বিরুদ্ধে ভালোভাবে পাস দিয়ে বল নিজের ডিবক্স থেকে একা বের করে আনতে পারেন না। আর মার্ক্যুইনহোস নিজের দিনে অসাধারণ এক সেন্টারব্যাক হলেও এখনো সেটপিসে তাঁর অদক্ষতা চোখে পড়ার মত। তিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ঘুরেফিরে বিভিন্ন জুটি খেলিয়ে তবুও এই মিরান্ডা-মার্ক্যুইনহোস জুটিতে এসে স্থির হয়েছেন, তাই বলা যেতে পারে এটাই এখন ব্রাজিল দলের মূল সেন্টারব্যাক জুটি। দলে বাকী আরেকজন সেন্টারব্যাক হিসেবে জায়গা পেয়েছেন ব্রাজিলিয়ান ক্লাব গ্রেমিওর ৩২ বছর বয়সী সেন্টারব্যাক জেরোমেল। গ্রেমিওর এই সেন্টারব্যাক কোপা লিবার্তোদোরেসে বেশ ভালো খেলেছেন, সেটপিস আটকানোর ক্ষেত্রে আরেক ভালো ডিফেন্ডার তিনি, কারণ তাঁর উচ্চতা ৬ ফুট ৩ ইঞ্চি। দলে জায়গা হয়নি উঠতি সুপারস্টার রড্রিগো কাইও, জেমারসন কিংবা সুপারস্টার ডেভিড লুইজের।

বিশ্বকাপ ২০১৮ : টিম প্রিভিউ - ব্রাজিল
ব্রাজিল এর মূল সেন্টারব্যাক জুটি

এবার আসা যাক ফুলব্যাক পজিশানের ব্যাপারে। তর্কাতীতভাবে এই ব্রাজিল দলে রাইটব্যাক হিসেবে খেলার কথা প্যারিস সেইন্ট জার্মেইয়ের কিংবদন্তী রাইটব্যাক দানি আলভেসের, কিন্তু ইনজুরির কারণে বিশ্বকাপ ভেস্তে গেছে তাঁর। তাঁর জায়গায় রাইটব্যাক হিসেবে দলে জায়গা পেয়েছেন করিন্থিয়ান্সের রাইটব্যাক ফ্যাগনার। আর লেফটব্যাক হিসেবে মূল একাদশে থাকছেন বর্তমান সময়ের সেরা লেফটব্যাক, রিয়াল মাদ্রিদের মার্সেলো। ফ্যাগনারের সাথে রাইটব্যাক হিসেবে রাশিয়ায় যাচ্ছেন ম্যানচেস্টার সিটির রাইটব্যাক দানিলো ও মার্সেলোর ব্যাকআপ হিসেবে রাশিয়ায় যাচ্ছেন অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের নির্ভরযোগ্য লেফটব্যাক ফিলিপে লুইস। দানি আলভেসের না থাকার কারণে এবার দানিলোর সামনে বিশাল সুযোগ নিজেকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার, কেননা তিতের পছন্দের ৪-৩-৩ ফর্মেশানে দানি আলভেসের জায়গায় এখন তিনিই খেলবেন। ওদিকে গত মৌসুমে জুভেন্টাসের হয়ে দুর্দান্ত খেলা লেফটব্যাক অ্যালেক্স সান্দ্রো এই মৌসুমে খারাপ খেলার মাশুল দিয়েছেন শেষ মুহূর্তে ফিলিপে লুইসের কাছে জায়গা খুইয়ে, টানা দুই বিশ্বকাপ ভালো খেলার পরেও কখনো ম্যাক্সওয়েল বা কখনো মিশেল বাস্তোসের কাছে জায়গা হারানো ফিলিপে লুইস অবশেষে পূরণ করছেন বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন। ব্যাকআপ রাইটব্যাক ফ্যাগনারের দলে সুযোগ পাওয়ার অর্থ হল বিশ্বকাপ খেলতে পারছেন না মোনাকোর রাইটব্যাক/মিডফিল্ডার ফাবিনহো, বায়ার্ন মিউনিখের রাফিনহা। ওদিকে লেফটব্যাকে মার্সেলো ও লুইসের বিশ্বকাপ যাওয়ার অর্থ বিশ্বকাপে যাওয়ার সুযোগ হারিয়েছেন এফসি পোর্তোর অ্যালেক্স তেয়েস, মোনাকোর হোর্হে, বেয়ার লেভারক্যুজেনের ওয়েনডেল আর হ্যামবুর্গের ডগলাস সান্তোস।

এবার আসা যাক মিডফিল্ডে। ৪-৩-৩ বা ৪-১-২-৩ ফর্মেশানে ডিফেন্সের সামনে একজন খাঁটি ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার খেলাতে পছন্দ করেন তিতে। যার কাজই হবে ট্যাকল বা ইন্টারসেপ্ট করে প্রতিপক্ষের আক্রমণে বাধা দেওয়া, প্রতিপক্ষের পা থেকে বল কেড়ে নিয়ে আসা ইত্যাদি। মিডফিল্ডারদের মধ্যে সেন্টারব্যাক আরকি। এই জায়গায় তিতের প্রথম পছন্দ বর্তমান সময়ে বিশ্বের সেরা ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার রিয়াল মাদ্রিদের ক্যাসেমিরো। তবে ক্যাসেমিরোর রুক্ষ খেলার ধরণ ব্রাজিল কে যেকোন মুহূর্তে ঝামেলায় ফেলতে পারে, দেখা গেল টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচগুলোতে একাধিক হলুদ বা লাল কার্ড খেলে পরের কোন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে খেলতেই পারলেন না তিনি। এই পজিশনে ক্যাসেমিরোর ব্যাকআপ হিসেবে তিতের পছন্দ ম্যানচেস্টার সিটির ফার্নান্দিনিও। যদিও দুইজনের খেলার স্টাইলে আকাশ পাতাল তফাত, ক্যাসেমিরোর মত অতটা রুক্ষ খেলতে অভ্যস্ত নন তিনি, বরং দুই সেন্টারব্যাকের মাঝে থেকে নিখুঁত পাস দেওয়ার মাধ্যমে খেলা গড়ে দেওয়ার পেছনেই তাঁর আগ্রহ বেশী। তাও, যখনই ক্যাসেমিরোর জায়গায় ফার্নান্দিনিওকে খেলতে বলা হয়েছে, বেশ ভালো খেলেছেন তিনি। তিনজন সেন্ট্রাল মিডফিল্ডারের মধ্যে ক্যাসেমিরোর সামনে খেলেন পাওলিনিও। পাওলিনিওর খেলা যারা বার্সেলোনায় দেখছেন, তারা জানেন তিনি কিভাবে খেলেন, ব্রাজিল দলেও সেই স্টাইলের ব্যত্যয় ঘটেনা। এমন একজন বক্স-টু-বক্স মিডফিল্ডার তিনি যাকে ডিবক্সে উঠে প্রায়ই গোল করতে দেখা যায়। শারীরিকভাবে বেশ শক্তিশালী ও প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডার বা ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারদের কাছে শক্তির দিক দিয়ে হার মানতে নারাজ এই মিডফিল্ডার অন্যান্য যেকোন বক্স-টু-বক্স সেন্ট্রাল মিডফিল্ডারদের থেকে অনেক বেশী ডিবক্সে উঠতে পছন্দ করেন, প্রতিপক্ষ ডিবক্সে উঠে গিয়ে ডিফেন্ডারদের হয় তটস্থ রাখেন, নয় অন্য কোন সতীর্থদের সামলানোর জন্য প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডাররা ব্যস্ত থাকলে নিজেই গোল করার কাজটা করে দেন। ব্রাজিলের হয়ে ৪৬ ম্যাচে ১১ গোল বা বার্সেলোনার জার্সি গায়ে ২২ ম্যাচে ৮ গোল তাঁর গোল করার ক্ষুধাটাকেই প্রকাশ করে, আর এর জন্যই পাওলিনিওকেই দলের অন্যতম অস্ত্র হিসেবে দেখেন তিতে। ফলে ব্রাজিলের তিনজন সেন্টড়াল মিডফিল্ডার হিসেবে খেলার সম্ভাবনা সর্বাধিক এই ক্যাসেমিরো-পাওলিনিও-ফার্নান্দিনিও ত্রয়ীর। মূল একাদশ থেকে জায়গা হারাচ্ছেন রেনাতো অগাস্তো, যদিও ২৩ সদস্যের দলে আছেন তিনি। দলের বাকী এক সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার হিসেবে ব্রাজিল দলে জায়গা পেয়েছেন শাখতার দোনেতস্কের ফ্রেড। ফ্রেড এর খেলার স্টাইল অনেকটা ফার্নান্দিনিওর মতই, ডিফেন্সের সামনে থেকে পাসের ফুলঝুরি ঘটিয়ে খেলা গড়তে পছন্দ করেন, ম্যানচেস্টার সিটির বর্তমান কোচ পেপ গার্দিওলা তাঁকে দলে আনার ব্যাপারে আগ্রহও প্রকাশ করেছেন, এতেই বোঝা যায় ফ্রেড কতটা ট্যাকটিকালি সবল খেলোয়াড়।

ব্রাজিলের ডিফেন্স কি খালি আমার কাছেই বেশী বুড়া লাগতেসে নাকি আমার মত আরও কেউ আছেন?
সম্ভাব্য মূল একাদশ

এবার আসা যাক আক্রমণভাগে। আক্রমণভাগের বামদিকটা ব্রাজিল দলের বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় তারকা নেইমারের জন্য বরাদ্দ, এটা জানা কথাই। আর সুস্থ থাকলে প্রত্যেকটা ম্যাচের পুরোটা যে নেইমারই খেলবেন এটাও বলা বাহুল্য। কিন্তু বলা যায়না, গতবারের মত সেমিফাইনালের আগেই নেইমার ইনজুরিতে পড়ে ছিটকে গেলে কে খেলবেন তাঁর জায়গায়? এ জায়গায় চলে আসতে পারেন ফিলিপ্পে কউতিনহো। সদ্য বার্সেলোনায় যোগ দেওয়া এই মিডফিল্ডার লেফট উইঙ্গার বা লেফট মিডফিল্ডার হিসেবেই বেশী স্বচ্ছন্দ। যদিও নেইমারের উপর নির্ভরশীল থাকার কারণে এই পজিশনে তিতে এখনো সেরকম কাউকে খেলাননি। ওদিকে রাইট উইঙ্গারের জায়গাটা আপাতত ফিলিপ্পে কউতিনহোর জন্য বরাদ্দ থাকলেও তাঁর ব্যাকআপ হিসেবে রয়েছেন চেলসির উইঙ্গার উইলিয়ান। প্রয়োজন পড়লে ডান বা বাম, উভয় উইংয়েই যোগ্য ব্যাকআপ দিতে পারেন জুভেন্টাসের ডগলাস কস্টা, ফর্মে থাকলে যেকোন ফুলব্যাককে কাঁদিয়ে ছেড়ে দেওয়ার ক্ষমতা আছে যার। ডানদিকের পজিশনে খেলার মত খেলোয়াড় হিসেবে এই দলে জায়গা করে নিয়েছেন শাখতারের তাইসন। তিনজন আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের মধ্যে মাঝে, অর্থাৎ স্ট্রাইকার হিসেবে তিতের দলে আছেন ম্যানচেস্টার সিটির গ্যাব্রিয়েল হেসুস। যদিও গত এক বছরে বিভিন্ন ইনজুরির কারণে নিজেকে সেভাবে মেলে ধরতে পারেননি, কিন্তু ছন্দে থাকলে তিনি কিরকম বিধ্বংসী হতে পারেন, সেটা ম্যানচেস্টার সিটি ও ব্রাজিলের হয়ে তাঁর খেলা ম্যাচগুলো দেখলেই বোঝা যায়। হেসুসের জায়গায় ব্যাকআপ হিসেবে রয়েছেন লিভারপুলের রবার্তো ফিরমিনো, যিনি কিনা লিভারপুলের হয়ে বর্তমানে ক্যারিয়ারের শ্রেষ্ঠ সময় কাটাচ্ছেন।

বিশ্বকাপ ২০১৮ : টিম প্রিভিউ - ব্রাজিল
দলের মূল সারথি যথারীতি নেইমার

এদেরকে জায়গা করে দিতে গিয়ে দলে জায়গা হারিয়েছেন বেসিকতাসের অ্যান্ডারসন টালিস্কা, রিয়াল সোসিয়েদাদের উইলিয়ান হোসে, আয়াক্সের ডেভিড নেরেস, গ্রেমিওর লুয়ান, গ্রেমিওর আর্থার মেলো, লাজিও ফেলিপে অ্যান্ডারসন, বোর্দোর ম্যালকম ইত্যাদি খেলোয়াড়।

তো মোটামুটি ব্রাজিল এর হেক্সা জয়ের মিশনের সারথি এই ২৩ জনই। কেমন লাগলো স্কোয়াড আপনার? জানিয়ে দিন আমাদের!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

18 − eleven =