টমাস টুখেলের কথা – ৩

প্রথমদ্বিতীয় পর্বে আমরা দেখেছিলাম কিভাবে টমাস টুখেল আস্তে আস্তে ক্লপের ছায়া থেকে ডর্টমুন্ডকে সরিয়ে আনছেন। মূলত এখন ৪-১-৪-১ ও ৪-৫-১ ফর্মেশানের উপর নির্ভর করে টুখেল সাজাচ্ছেন নিজের রণপরিকল্পনা।

তো ঐ মিডফিল্ডের একটি জায়গা মোটামুটি নিজের করে নিয়েছেন নতুন আসা জুলিয়ান ভাইগেল, ফর্মেশান ৪-১-৪-১ হোক, বা ৪-৫-১ হোক, বা ৪-৩-৩ হোক, ভাইগেল থাকছেনই। ফলে জায়গা হারিয়েছেন সভেন বেনডারের মত টাফ ট্যাকলিং ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার। এখানে লক্ষ্য করা ভালো, ডিফেন্সে সুবোটিচ ও মিডফিল্ডে বেনডার – উভয় জায়গাতেই টমাস টুখেল মূলতঃ প্রথাগত টাফ ট্যাকলারদেরকে বাদ দিয়েছেন, তাদের জায়গায় এনেছেন আরও বেশী ট্যাকটিক্যালি সলিড ও বল পায়ে/পাস দিতে ও পজেশান রাখতে স্বচ্ছন্দ খেলোয়াড়দের। সামনের মিডফিল্ড পজিশানগুলো মূলত বরাদ্দ থাকছে শিনজি কাগাওয়া, হেনরিক মাখিতারিয়ান, ইলকায় গুন্ডোগান, কেভিন ক্যাম্পল – এদের জন্য। মিডফিল্ডে টুখেলের মূল পছন্দ এখন তাই ভাইগেল, গুন্ডোগান, মাখিতারিয়ান, কাগাওয়া – এরা। সাথে অপেক্ষাকৃত কম দুর্বল দলের সাথে কাস্ত্রো, বেনডার, ক্যাম্পল – এদেরকেও নিজেদের প্রমাণ করার সুযোগ দিচ্ছেন টুখেল। সাথে ইনজুরি থেকে ফিরে আসলে নুরি সাহিন ত থাকবেনই।

অ্যাটাকারদের ক্ষেত্রে টুখেলের পছন্দ মার্কো রয়েস ও পিয়েরে এমেরিক আউবামেয়াং। দুইজনের কেউই প্রথাগত স্ট্রাইকার নন, উইংয়ে খেলতেই তারা স্বচ্ছন্দ ছিলেন এতদিন, কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে টুখেল তাদেরকে আস্তে আস্তে সেন্টারে নিয়ে আসছেন, বিশেষত আউবামেয়াংকে, খেলাচ্ছেন প্রথাগত “নাম্বার নাইন” রোলে। সামনে দুইজন বা একজন, স্ট্রাইকার যতজনই থাকুন না কেন, পিছে অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার থাকছেন কাগাওয়া। ক্লপের অধীনে প্রথমবার এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ড (নাম্বার ১০ রোল) ভূমিকাতেই নাম কামিয়েছিলেন এই জাপানিজ, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনকে প্রলুব্ধ করেছিলেন তাঁকে কেনার জন্য। কিন্তু ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড তাঁর প্রতিভার সদ্ব্যবহার করতে পারেনি, প্রায়ই খেলাত ওয়াইড মিডফিল্ডার হিসেবে, আর কাগাওয়া এমন একজন খেলোয়াড় যিনি কিনা সেন্ট্রাল অ্যাটাকিং মিডফিল্ড ছাড়া অন্য কোন পজিশানে স্বচ্ছন্দ নন। ফলে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড থেকে দ্রুতই আবার চলে আসেন ডর্টমুন্ডে, কিন্তু গত মৌসুমে ক্লপের অধীনেও একই সমস্যায় পড়তে হয় কাগাওয়াকে, প্রায়ই খেলতে হত ওয়াইড মিডফিল্ডার হিসেবে। কিন্তু ক্লপের উত্তরসূরি টুখেল এই ভুলটা করছেন না আপাতত, প্রায় প্রত্যেক ম্যাচেই মাঝে খেলাচ্ছেন কাগাওয়াকে, সেটা ৪-১-৪-১ বা ৪-৫-১ ফর্মেশানের সেন্ট্রাল অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হিসেবে হোক, বা ৪-৩-৩ ফর্মেশানে তিনজনের একজন সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার হিসেবে হোক, কাগাওয়ার পূর্ণ সদ্ব্যবহার করছেন টুখেল, ফলে কাগাওয়াকেও লাগছে সেই আগের মত ক্ষুরধার। সামনে রয়েস, আউবামেয়াংকে জুগিয়ে যাচ্ছেন অ্যাসিস্ট, আর রয়েস-আউবামেয়াং দুইজনই প্রায়ই মাঝখান থেকে সাইডে সরে গিয়ে বক্সের মধ্যে জায়গা করে দিচ্ছেন কাগাওয়াকে, ফলে খেলার জন্য কাগাওয়া জায়গাও পাচ্ছেন প্রচুর।

শিনজি কাগাওয়া - টুখেলের ''মেইন ম্যান''
শিনজি কাগাওয়া – টুখেলের ”মেইন ম্যান”

আর ব্যাকআপ স্ট্রাইকার হিসেবে টুখেলের পছন্দ এখন কলম্বিয়ান স্ট্রাইকার আদ্রিয়ান রামোস। টুখেলের সিস্টেমে জায়গা হয়নি গত মৌসুমেই ইতালিয়ান ক্লাব তোরিনো থেকে দলে আসা স্ট্রাইকার চিরো ইমোবিলের, এই মৌসুমে তাই তিনি ধারে খেলতে চলে গিয়েছেন সেভিয়াতে।

তাই এখন ঘুরেফিরে কয়েকজন খেলোয়াড়ই ডর্টমুন্ডে টুখেলের ট্যাকটিক্সকে দিচ্ছেন সাফল্য –

গোলরক্ষক – রোমান বার্কি ; ব্যাকআপ রোমান ভাইডেনফেলার

সেন্টারব্যাক – ম্যাটস হামেলস, সকরাটিস পাপাস্থাতোপৌলোস ; ব্যাকআপ নেভেন সুবোটিচ, ম্যাথিয়াস জিন্টার

রাইটব্যাক – এরিক ডার্ম ; ব্যাকআপ গঞ্জালো কাস্ত্রো, ম্যাথিয়াস জিন্টার, লুকাস পিশ্চেক

লেফটব্যাক – মার্সেল শ্মেলৎজার

সেন্টার মিডফিল্ডার – জুলিয়ান ভাইগেল, ইলকায় গুন্ডোগান ; ব্যাকআপ নুরি সাহিন, সভেন বেনডার, হেনরিখ মাখিতারিয়ান, শিনজি কাগাওয়া, গঞ্জালো কাস্ত্রো, কেভিন ক্যাম্পল

উইঙ্গার – মার্কো রয়েস, হেনরিক মাখিতারিয়ান, কেভিন ক্যাম্পল

স্ট্রাইকার – পিয়েরে এমেরিক আউবামেয়াং, আদ্রিয়ান রামোস

দেখা যাক, টুখেল ডর্টমুন্ডকে আবার সেই আগের সাফল্যের ধারায় ফেরাতে পারেন কিনা!

(শেষ)

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

2 + eight =