ঝরে পড়া এক তারা

ম্যারাডোনা পরবর্তী যুগে আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে যার জ্বলে উঠার কথা সবচেয়ে বেশি ছিল, যার কাছে সারা বিশ্বের আলবিসিলেস্তি সমর্থকদের প্রত্যাশা ছিল আকাশচুম্বী, তিনি আরনাল্ডো আরিয়েল অর্তেগা। গগনচুম্বী প্রতিভার সামান্যটুকুও মাঠে কথা বলেনি অর্তেগার হয়ে। ১৯৭৪ সালে আজকের এই দিনে আর্জেন্টিনার লেডিসমা শহরের জুজিয়ে জন্মগ্রহন করেন তিনি।

১৬ বছর বয়সেই ক্যারিয়ার শুরু করেন স্থানীয় ক্লাব অ্যাটলেটিকো লেডিসমার হয়ে। ১৯৯১ এ নাম লেখান আর্জেন্টিনার খ্যাতনামা ক্লাব রিভারপ্লেটে। খেলেছিলেন বছর পাঁচেক। ইউরোপে পাড়ি জমান ১৯৯৬ সালে, যোগ দেন স্প্যানিশ ক্লাব ভ্যালেন্সিয়ায়। দেড় মৌসুম পরেই চলে যান ইতালিয়ান ক্লাব সাম্পদারিয়ায়। সাম্পদারিয়া সিরি বি’তে অবনমিত হলে যোগ দেন আরেক ইতালিয়ান ক্লাব পার্মাতে, যেখানে তিনি পেলেন জাতীয় দল সতীর্থ আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার হার্নান ক্রেসপোকে। পার্মাতে মাত্র ১৮ ম্যাচ খেলেই আবার চলে আসেন রিভার প্লেটে। ২০০২ এ চলে যান টার্কিশ ক্লাব ফেনারবাচেতে। ১৪ ম্যাচে করেন ৫ গোল। জাতীয় দলের থেকে ফিরতে দেরি করায় ক্লাবের সাথে ঝামেলায় জড়িয়ে পড়েন এবং ৪ মাস নিষিদ্ধ ছিলেন ফুটবল থেকে। এই সাসপেনশনের পরে ক্লাবছাড়া ছিলেন অনেক দিন। পরে ২০০৪ এ আর্জেন্টাইন ক্লাব নিউওয়েলস ওল্ড বয়েস এ যোগ দেন। ২ বছর থাকার পরে ২০০৬ আবার আসেন রিভার প্লেটে, ২০১২ পর্যন্ত থাকলেও লোনে ছিলেন ইন্ডিপেন্দিয়ান্তে, অল বয়েস আর বেলগ্রানোতে। সব মিলিয়ে ক্লাবের হয়ে ৪৪৭ ম্যাচে ১০৯ গোল।

কিংবদন্তী ছিলেন রিভারপ্লেটের

জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপে, রোমানিয়ার সাথে। ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে ১০ নাম্বার জার্সি গায়ে অনেক আশার প্রতীক হয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করেছিলেন। গ্রুপ ম্যাচগুলায় ভালো খেললেও নক আউট পর্বে ছিলেন একেবারেই ফ্লপ। যদিও বেশি আলোচনা কেড়ে ছিলেন নেদারল্যান্ডসের সাথে ম্যাচে লাল কার্ড খেয়ে। ২০০২ বিশ্বকাপে অনেক তারকায় ঠাসা আর্জেন্টাইন দল বাদ পড়ে গ্রুপ পর্ব থেকেই। সুইডেনের সাথে মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে পেনাল্টি মিসও করেন অর্তেগা। ৭ বছর পরে আবার জাতীয় দলে ডাক পেলেও খেলা হয়নি ইঞ্জুরির জন্যে। ২০১০ সালে অভিষেকের ১৭ বছর পরে ম্যারাডোনা ডেকেছিলেন অর্তেগাকে দলে। আটলান্টা অলিম্পিকে দলের হয়ে পাওয়া রৌপ্যপদকই জাতীয় দলে অর্তেগার সেরা সাফল্য। আর্জেন্টিনার হয়ে ৮৭ ম্যাচ খেলে তিনি করেন ১৬ গোল।

অতিরিক্ত প্রতিভাবান ছিলেন, ছিল অনেক ট্যাক্টিক্যাল আর টেকনিক্যাল এবিলিটি। গতি, ড্রিব্লিং, ভিশন, ট্রিকারি, পাসিংয়ের ঘাটতি ছিলনা একদম। তবুও বলার মত কিছুই দিতে পারেননি ক্লাব/জাতীয় দলকে। বারবার নানান ধরনের বিতর্কের জন্ম দিয়েই মনে হয় বেশি খুশি হতেন অর্তেগা। তুলনা হয়েছে অনেকবার ম্যারাডোনার সাথে। তবে আর যাই হোক ড্রাগ-অ্যালকোহল বির্তকে ডন ডিয়েগো-ডন অর্তেগা ছিলেন সমানে সমান। আরেকটা জায়গায় মিল ছিল অনেক, প্রতিভায়। হয়তোবা জাতীয় দলকে দিতে পারতেন কোন শিরোপার স্বাদ, যদি ফুটবল অর্তেগার হয়ে কথা বলত!

৪৩ তম জন্মদিনে অর্তেগাকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা গোল্লাছুট পরিবারের পক্ষ থেকে।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

2 × one =